দেশ

ফের খোয়াতে হবে সাংসদ পদ? রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে সংসদে ‘বিস্ফোরক’ বিজেপি!

দুবের দাবি, এই ধরনের আচরণের জন্য রাহুলের সাংসদ পদ শুধু বাতিলই নয়, তাঁকে আজীবন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অযোগ্য ঘোষণা করা উচিত।

Truth of Bengal: সংসদ উত্তাল করে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সাংসদ পদ বাতিলের দাবিতে ফের সরব হল বিজেপি। বৃহস্পতিবার লোকসভায় রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে একটি ‘সাবস্ট্যান্টিভ মোশন’ বা সারগর্ভ প্রস্তাব পেশ করেন বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে। তাঁর অভিযোগ, সংসদে দাঁড়িয়ে রাহুল গান্ধী ক্রমাগত এমন সব ভিত্তিহীন ও দেশবিরোধী মন্তব্য করছেন, যা দেশের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক স্বার্থের পরিপন্থী। দুবের দাবি, এই ধরনের আচরণের জন্য রাহুলের সাংসদ পদ শুধু বাতিলই নয়, তাঁকে আজীবন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অযোগ্য ঘোষণা করা উচিত।

বিজেপি সাংসদের অভিযোগের মূল লক্ষ্য ছিল রাহুলের সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্য। নিশিকান্ত দুবের দাবি, জর্জ সোরসের মতো আন্তর্জাতিক শক্তির মদতে রাহুল গান্ধী সদন থেকে দেশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী দলনেতা লোকসভায় দাঁড়িয়ে সরকারের বিরুদ্ধে যে সব গুরুতর অভিযোগ তুলছেন, সেগুলোর কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। এই অপরাধের শাস্তিস্বরূপ অবিলম্বে তাঁর বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। প্রসঙ্গত, এর আগে অপরাধমূলক মানহানির মামলায় একবার রাহুলের সাংসদ পদ খারিজ হলেও পরে আদালতের নির্দেশে তিনি তা ফিরে পেয়েছিলেন। বাজেট অধিবেশনের শুরু থেকেই রাহুল গান্ধী কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করতে একাধিক বিষয়কে হাতিয়ার করেছেন। সম্প্রতি ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি এবং প্রাক্তন সেনাপ্রধানের অপ্রকাশিত আত্মজীবনীর প্রসঙ্গ তুলে তিনি সরকারকে কড়া ভাষায় বিঁধেছেন। রাহুল গান্ধীর অভিযোগ ছিল, বর্তমান সরকার দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং কৃষকদের স্বার্থ আমেরিকার কাছে বিসর্জন দিয়েছে। লোকসভায় দাঁড়িয়ে তিনি অত্যন্ত কড়া ভাষায় মন্তব্য করেছিলেন যে, সরকার ভারত মাতাকে বিক্রি করে দিয়েছে এবং আমেরিকার কাছে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করেছে।

রাহুল গান্ধী আরও দাবি করেন, ইন্ডিয়া জোট ক্ষমতায় থাকলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো বিশ্বনেতাদের সঙ্গে আলোচনার সময় ভারতকে সমান মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানাত। তাঁর এই লাগাতার আক্রমণের পরেই ফুঁসে ওঠে গেরুয়া শিবির। বিজেপির একাংশ প্রথমে তাঁর বিরুদ্ধে প্রিভিলেজ মোশন আনার কথা ভাবলেও, নিশিকান্ত দুবে সরাসরি সাংসদ পদ বাতিলের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন। এই প্রস্তাব নিয়ে লোকসভায় আলোচনার জন্য তিনি অনড় অবস্থানে রয়েছেন।

Related Articles