দেশ

সিনেমার গল্পকেও হার মানাবে! স্ত্রীকে খুনের অভিযোগে জেল খাটছিলেন শ্বশুর, একটি ওটিপি-তে বদলাল গোটা চিত্র

সজীব ও সুস্থ অবস্থায় প্রিয়াঙ্কা প্রজাপতিকে খুঁজে পেয়ে রীতিমতো তাজ্জব বনে গেছে পুলিশও।

Truth of Bengal: একেবারে সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানাবে উত্তরপ্রদেশের এই বাস্তব ঘটনা। গত দুই বছর ধরে যে স্ত্রীকে মৃত বলে ধরে নিয়েছিলেন স্বামী, এমনকি যাঁর খুনের অভিযোগে শ্রীঘরে যাওয়ার জোগাড় হয়েছিল শ্বশুরবাড়ির লোকেদের, সেই মহিলারই হঠাৎ খোঁজ মিলল রাজস্থানে। একটি মাত্র মোবাইল ওটিপি (OTP) বদলে দিল পুরো খুনের মামলার মোড়। সজীব ও সুস্থ অবস্থায় প্রিয়াঙ্কা প্রজাপতিকে খুঁজে পেয়ে রীতিমতো তাজ্জব বনে গেছে পুলিশও।

ঘটনার সূত্রপাত ২০১৭ সালের ১৪ মে। উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা সন্দ্বীপ কুমারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন প্রিয়াঙ্কা। সাত বছরের দাম্পত্য জীবনে তাঁদের একটি পুত্রসন্তানও জন্মায়। তবে ২০২৪ সালের ১ জুলাই সম্পর্কে হঠাৎ ফাটল ধরে। রাগের মাথায় লক্ষাধিক টাকার গয়না নিয়ে প্রিয়াঙ্কা শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে বাপের বাড়ি চলে যান। তবে সেখানেও তিনি বেশিক্ষণ থিতু হননি। মানসিক অবসাদ থেকে আত্মহত্যার সংকল্প নিয়ে বাপের বাড়ি থেকেও বেরিয়ে পড়েন তিনি। কয়েকবার আত্মহননের চেষ্টা বিফলে যাওয়ার পর প্রিয়াঙ্কা শেষ পর্যন্ত অযোধ্যায় পৌঁছান। অযোধ্যায় গিয়েই প্রিয়াঙ্কার জীবনে আসে নতুন মোড়। সেখানে তাঁর পরিচয় হয় রাজস্থানের যুবক মঙ্গল চন্দ্রের সঙ্গে। কিছুদিনের মধ্যেই তাঁরা প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং রাজস্থানে স্বামী-স্ত্রীর মতো থাকতে শুরু করেন। এদিকে উত্তরপ্রদেশের বস্তি জেলায় সন্দ্বীপ তাঁর স্ত্রী ও সন্তানের জন্য দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। শ্বশুরবাড়িতে খোঁজ নিতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, প্রিয়াঙ্কা সেখানেও নেই। গ্রাম্য কানাকানিতে রটে যায় যে, গয়নার লোভে প্রিয়াঙ্কার বাবা তাঁর নিজের মেয়ে ও নাতিকে খুন করে সরযূ নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে সন্দ্বীপ আদালতের দ্বারস্থ হলে ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর প্রিয়াঙ্কার বাবা দয়ারাম, মা সুভাবতী দেবী ও আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের হয়।

দীর্ঘদিন ধরে চলা এই তদন্তে পুলিশ যখন অন্ধকারে হাতড়াচ্ছিল, ঠিক তখনই ভাগ্য সহায় হয় সন্দ্বীপের। হঠাতই একদিন তাঁর পুরনো ফোনে একটি ওটিপি আসে। জানা যায়, রাজস্থানে বসে প্রিয়াঙ্কা নিজের আধার কার্ডের তথ্য আপডেট করার চেষ্টা করছিলেন। ওই একটি সূত্র ধরেই পুলিশ রাজস্থানে হানা দেয় এবং প্রিয়াঙ্কাকে উদ্ধার করে। সামনে আসে আসল সত্য যে, যাকে মৃত ভেবে খুনের মামলা চলছিল, তিনি আসলে ভিন রাজ্যে সংসার পেতেছেন। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর প্রিয়াঙ্কার পরিবার তাঁকে ত্যাজ্য বলে ঘোষণা করেছে। দুই বছর ধরে খুনের অপবাদ সওয়া পরিবারটি এখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেও সন্দ্বীপ পড়েছেন অন্য সমস্যায়। তিনি এখন তাঁর নিজের সন্তানের হেফাজত পাওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে আইনি আবেদন জানিয়েছেন। একটি ভুল বোঝাবুঝি আর আবেগের বশবর্তী হয়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত কীভাবে কয়েকটি পরিবারকে তছনছ করে দিতে পারে, এই ঘটনা তারই প্রমাণ।

Related Articles