দেশ

সরকারের বিরোধিতা করলেই শহরছাড়া? পুলিশের জোরজুলুম গুঁড়িয়ে ঐতিহাসিক রায় আদালতের!

“পুলিশ জনতার সেবক, সরকারের দাস নয়!”, মুম্বই পুলিশকে তুলোধোনা করে সংবিধানের পাঠ বম্বে হাই কোর্টের

Truth of Bengal: গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোয় সুষ্ঠুভাবে এবং নিয়ম মেনে বিক্ষোভ দেখানোর অধিকার প্রত্যেকটি নাগরিকের রয়েছে। এই মৌলিক অধিকারের ওপর কোনভাবেই পুলিশি দাদাগিরি বরদাস্ত করা হবে না। এসডিপিআই (SDPI)-এর সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আব্দুল ওয়াহিদ চৌধুরীর দায়ের করা এক মামলার শুনানিতে মুম্বই পুলিশকে আক্ষরিক অর্থেই কাঠগড়ায় তুলল বম্বে হাইকোর্ট। বিচারপতি মাধব জামদারের বেঞ্চ পুলিশ প্রশাসনকে তীব্র ভর্ৎসনা করে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, পুলিশ আসলে জনতার সেবক। স্রেফ ভিন্নমত পোষণ করার জন্য আম নাগরিকদের সরকারের ‘ক্রীতদাস’ বানানোর অপচেষ্টা করতে পারে না খোদ আইনরক্ষকরা।

সরকারের নীতি বিরোধিতার জের! এসডিপিআই নেতাকে ‘নির্বাসন’ দিয়েছিল পুলিশ

মামলার বিবরণী অনুযায়ী, এসডিপিআই নেতা আহমেদ আব্দুল ওয়াহিদ চৌধুরী কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক নীতির বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন। গণতান্ত্রিক উপায়ে আন্দোলন করার অপরাধে ওই নেতার বিরুদ্ধে একের পর এক এফআইআর (FIR) দায়ের করে মুম্বই পুলিশ। শুধু তাই নয়, প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে মুম্বই পুলিশ ওই এসডিপিআই নেতাকে সম্পূর্ণ মুম্বই শহর থেকে ‘এক্সটার্ন’ বা নির্বাসিত করে, যার ফলে তাঁর বাণিজ্যনগরীতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। পুলিশের এই একনায়কতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন আব্দুল ওয়াহিদ।

“সংবিধানের ১৯ ও ২১ নম্বর ধারা মনে রাখুন”, পুলিশের দম্ভ চূর্ণ করলেন বিচারপতি

এই মামলার রায়ে বম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি মাধব জামদার মুম্বই পুলিশকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানায়, “ভারতীয় সংবিধানের ১৯ এবং ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুসারে দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিজের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার সম্পূর্ণ মৌলিক অধিকার রয়েছে। সরকারের যে কোনও ভুল সিদ্ধান্তের বিরোধিতা বা শান্তিপূর্ণ উপায়ে প্রতিবাদ করা একটি সুস্থ গণতন্ত্রের স্বাভাবিক ও বৈধ প্রক্রিয়া। স্রেফ ভিন্নমত পোষণ করায় কাউকে শহরছাড়া বা নির্বাসিত করা তাঁর মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী এবং তা চরম বেআইনি।”

আদালত চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে পুলিশের উদ্দেশে প্রশ্ন ছোড়ে, “আপনারা কি সাধারণ মানুষকে কৃতদাস বানানোর চেষ্টা করছেন? স্রেফ সরকারের নীতি বিরোধিতার জন্য কাউকে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করলে সেটা মোটেই গণতন্ত্রের জন্য সুস্থতার লক্ষণ নয়।” হাইকোর্টের এই ঐতিহাসিক রায়ের পর স্পষ্ট যে, বিরোধী কণ্ঠস্বর দমনে পুলিশের ‘অতিসক্রিয়তা’ দেশের বিচারব্যবস্থা কোনও অবস্থাতেই মেনে নেবে না।

Related Articles