চাকরিদেশ

বেতন কি কমে যাবে? নতুন শ্রম আইন নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করল মন্ত্রণালয়

নতুন নিয়মে মজুরির মূল উপাদান- বেসিক পে, ডিয়ারনেস অ্যালাউয়েন্স এবং রিটেনিং অ্যালাউয়েন্স, মোট বেতন প্যাকেজের (সিটিসি) অন্তত ৫০ শতাংশ হতে হবে। এতে অনেক কর্মীর হাতে আসা বেতন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গত মাসে নতুন শ্রম কোড কার্যকর হওয়ার পর থেকে সংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীদের মধ্যে মজুরি সংজ্ঞা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। নতুন নিয়মে মজুরির মূল উপাদান- বেসিক পে, ডিয়ারনেস অ্যালাউয়েন্স এবং রিটেনিং অ্যালাউয়েন্স, মোট বেতন প্যাকেজের (সিটিসি) অন্তত ৫০ শতাংশ হতে হবে। এতে অনেক কর্মীর হাতে আসা বেতন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তবে কেন্দ্রীয় শ্রম মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানিয়েছে, নতুন কোডের ফলে সব ক্ষেত্রে হাতে আসা বেতন কমবে না। প্রভিডেন্ট ফান্ড (পিএফ) অবদানের হিসাব যদি বর্তমান স্ট্যাচুটরি সিলিং- মাসিক ১৫,০০০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে কর্মীদের মাসিক বেতনে কোনও পরিবর্তন হবে না।

পরিবর্তনের কারণ কী?
সোশ্যাল সিকিউরিটি কোড ২০২০-এর অধীনে এই পরিবর্তন এসেছে একক মজুরি সংজ্ঞা প্রয়োগের জন্য। আগে কোম্পানিগুলো বেসিক পে কম রেখে অ্যালাউয়েন্স বাড়িয়ে পিএফ, পেনশন ও গ্র্যাচুইটির মতো স্ট্যাচুটরি অবদান কমাত। নতুন নিয়মে অ্যালাউয়েন্স ৫০ শতাংশের বেশি হলে অতিরিক্ত অংশ মজুরিতে যোগ হয়ে সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা ন্যায্যভাবে হিসাব করা হবে।

উদাহরণস্বরূপ বোঝা যাক
শ্রম মন্ত্রণালয়ের দেওয়া উদাহরণ অনুসারে, মাসিক ৬০,০০০ টাকা সিটিসি-র একজন কর্মীর ক্ষেত্রে: বেসিক + ডিয়ারনেস অ্যালাউয়েন্স = ২০,০০০ টাকা
অ্যালাউয়েন্স = ৪০,০০০ টাকা

পুরনো নিয়মে: পিএফ হিসাব ১৫,০০০ টাকার সিলিং-এ (১২% করে কর্মী ও নিয়োগকর্তা থেকে ১,৮০০ টাকা করে)। হাতে আসা বেতন: ৫৬,৪০০ টাকা।

নতুন কোডে: অ্যালাউয়েন্স ৫০ শতাংশের বেশি হওয়ায় ১০,০০০ টাকা মজুরিতে যোগ হয়ে স্ট্যাচুটরি মজুরি হয় ৩০,০০০ টাকা। কিন্তু পিএফ এখনও ১৫,০০০ টাকার সিলিং-এ হিসাব হলে অবদান অপরিবর্তিত (১,৮০০ টাকা করে)। ফলে হাতে আসা বেতন একই থাকে— ৫৬,৪০০ টাকা। শুধুমাত্র কর্মী ও নিয়োগকর্তা স্বেচ্ছায় পুরো মজুরিতে (যেমন ৩০,০০০ টাকা) পিএফ দিতে রাজি হলে অবদান বাড়বে, হাতে আসা বেতন কমবে এবং অবসরকালীন সঞ্চয় বাড়বে।

স্ট্যাচুটরি সিলিং-এর গুরুত্ব-
বর্তমানে পিএফ অবদান বাধ্যতামূলক শুধু মাসিক ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত। এর উপরে স্বেচ্ছায়। এই সিলিং না বাড়ালে নতুন কোডের ফলে হাতে আসা বেতনে স্বয়ংক্রিয় প্রভাব পড়বে না। ২০১৪ সালে এই সিলিং ৬,৫০০ থেকে ১৫,০০০ টাকায় বাড়ানো হয়েছিল, তারপর অপরিবর্তিত।

শ্রমিক ইউনিয়নগুলো দীর্ঘদিন ধরে এই সিলিং বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছে, যাতে সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা আরও বাড়ে। শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পিএফ সিলিং অপরিবর্তিত থাকলে বা স্বেচ্ছায় উচ্চতর অবদান না নিলে কর্মীদের হাতে আসা বেতনে কোনও পরিবর্তন হবে না। তবে সিলিং বাড়ানো হলে বা স্বেচ্ছায় উচ্চতর পিএফ নিলে অবসরকালীন সঞ্চয় বৃদ্ধি পাবে।