১.১৯ কোটির প্রতারণা! মুম্বইয়ে মানসিক চাপে মৃত্যু অবসরপ্রাপ্ত সরকারি আধিকারিক
বয়স ৮০–র ঘরে। সারা জীবন পরিশ্রম করে জমিয়েছিলেন সামান্য কিছু সঞ্চয়। যা তাঁর ও পরিবারের শেষ ভরসা ছিল।
Truth Of Bengal: সাইবার প্রতারণার জালে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি আধিকারিক। প্রতারকের ফাঁদে পড়ে খোয়া গেছে সারাজীবনের সঞ্চয় ১.১৯ কোটি টাকা। তার পরেই মানসিক আঘাত সইতে না পেরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল ৮২ বছরের বৃদ্ধের। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনায় শোকস্তব্ধ পরিবার। তদন্ত শুরু করেছে মুম্বই সাইবার ক্রাইম বিভাগ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ব্যক্তি অবসরপ্রাপ্ত রাজ্য সরকারি কর্মচারী। স্ত্রী-সহ থাকতেন মুম্বইয়ে। বয়স ৮০–র ঘরে। সারা জীবন পরিশ্রম করে জমিয়েছিলেন সামান্য কিছু সঞ্চয়। যা তাঁর ও পরিবারের শেষ ভরসা ছিল।
জানা গিয়েছে, ১৬ অগস্ট থেকে ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই প্রতারণা চলে। প্রতারকেরা নিজেদের সিবিআই ও মুম্বই পুলিশের আধিকারিক পরিচয় দিয়ে ফোনে যোগাযোগ করে বৃদ্ধ দম্পতির সঙ্গে। জানানো হয়, তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও আধার কার্ড মানি লন্ডারিং মামলায় জড়িত, ফলে তাঁদের ‘ডিজিটাল অ্যারেস্টে’ রাখা হবে।এরপর ভয় দেখিয়ে বলা হয়, তাঁরা যেন মোবাইলের ক্যামেরা সারাক্ষণ অন রাখেন। তাহলে তাঁদের গতিবিধি ‘নজরদারিতে’ থাকবে।
তিন দিন ধরে ঘরে বন্দি অবস্থায় ছিলেন বৃদ্ধ ও তাঁর স্ত্রী। এই সময়েই প্রতারকেরা ব্যাঙ্ক, আধার এবং ওটিপি-সহ সমস্ত তথ্য হাতিয়ে নেয়। একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করতেও বাধ্য করা হয় তাঁদের। ফলে ধীরে ধীরে উধাও হয়ে যায় জীবনের সমস্ত সঞ্চয়—১.১৯ কোটি টাকা, সঙ্গে বিদেশে থাকা তিন মেয়ের পাঠানো টাকাও। কয়েক দিন পর প্রতারকদের ফোন বন্ধ হয়ে গেলে বিষয়টি বুঝতে পারেন তাঁরা। এরপর মেয়ের পরামর্শে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।কিন্তু ততদিনে দেরি হয়ে গেছে। টানা মানসিক চাপ ও আর্থিক ক্ষতির ধাক্কা সহ্য করতে না পেরে ২২ অক্টোবর নিজের বাড়ির হৃদরোগে আক্রান্ত হন বৃদ্ধ। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুণে সাইবার পুলিশের সিনিয়র ইন্সপেক্টর স্বপ্নালি শিন্ডে জানিয়েছেন, প্রতারকরা এক ফোনকল থেকেই ফাঁদ পেতেছিল। নিজেকে মুম্বই পুলিশের ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ বলে পরিচয় দেয় এক ব্যক্তি। পরে আরও একজন সিবিআই আধিকারিক সেজে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করে।সাইবার অপরাধ বিশ্লেষক রোহন ন্যায়ধীশ সতর্ক করে বলেন, কোনও অবস্থাতেই ফোনে কাউকে গ্রেফতার করা যায় না। সরকারি সংস্থা কখনও ফোনে ব্যক্তিগত তথ্য বা টাকা দাবি করে না। এমন কল এলে সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় থানায় যোগাযোগ করুন।






