দোল পূর্ণিমার রাতেই বিরল চন্দ্রগ্রহণের সাক্ষী হতে চলেছে ভারত
পৃথিবীর ছায়ায় চাঁদের এই লুকোচুরি খেলা দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন আকাশপ্রেমীরা।
Truth of Bengal: আগামী ৩ মার্চ, মঙ্গলবার এক বিরল মহাজাগতিক দৃশ্যের সাক্ষী হতে চলেছে ভারত। ওই দিন আকাশে দেখা যাবে আংশিক চন্দ্রগ্রহণ। বিশেষ বিষয় হল, এই গ্রহণটি দোল পূর্ণিমার দিনেই পড়ছে, যা জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং সাংস্কৃতিক দিক থেকে এক অনন্য মুহূর্ত তৈরি করবে। পৃথিবীর ছায়ায় চাঁদের এই লুকোচুরি খেলা দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন আকাশপ্রেমীরা। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, ওই দিন বিশ্বজুড়ে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ ঘটলেও ভারতের অধিকাংশ এলাকা থেকে শুধুমাত্র এর শেষ পর্যায়টি দেখা যাবে। সূর্যাস্তের সময় যখন চাঁদ পূর্ব আকাশে উদিত হবে, তখন ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে গ্রহণের আংশিক রূপ ধরা পড়বে। বিশেষ করে নাগপুর বা চেন্নাইয়ের মতো শহরগুলোতে চাঁদ যখন দিগন্তের উপরে উঠবে, তখন তার একটি অংশ পৃথিবীর ছায়ায় ঢাকা থাকতে দেখা যাবে।
তথ্যাদি বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে যে, গ্রহণের মূল প্রক্রিয়াটি দুপুর থেকেই শুরু হয়ে যাবে। তবে ভারতে যখন চন্দ্রোদয় হবে, তখন গ্রহণ প্রায় শেষের দিকে। এর ফলে অনেক অঞ্চলে চাঁদ ওঠার পর মাত্র ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর্যন্ত এই দৃশ্য উপভোগ করা যাবে। ভারতের পূর্ব এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে চাঁদ আগে উদিত হওয়ায় সেখানে গ্রহণের প্রভাব কিছুটা বেশি স্পষ্ট হবে। তবে মধ্য ও দক্ষিণ ভারতের শহরগুলোতে দৃশ্যটি হবে বেশ সংক্ষিপ্ত। মহাকাশ বিজ্ঞানীরা ব্যাখ্যা করেছেন যে, যখন সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে পৃথিবী চলে আসে এবং পৃথিবীর ছায়া চাঁদের ওপর পড়ে, তখনই চন্দ্রগ্রহণ হয়। সূর্যগ্রহণের মতো এটি দেখার জন্য বিশেষ কোনো চশমার প্রয়োজন হয় না; খালি চোখেই নিরাপদে এই দৃশ্য উপভোগ করা যায়। পৃথিবীর ছায়ার প্রভাবে চাঁদ অনেক সময় কালচে বা লালচে আভা ধারণ করে, যা ব্লাড মুন নামে পরিচিত।
আংশিক চন্দ্রগ্রহণ আসলে কী, তা নিয়ে অনেকের মনেই কৌতূহল থাকে। যখন সূর্য, পৃথিবী এবং চাঁদ সম্পূর্ণ একই সরলরেখায় না এসে কিছুটা বাঁকাভাবে অবস্থান করে, তখন চাঁদের একটি অংশ পৃথিবীর প্রচ্ছায়া বা আমব্রার মধ্য দিয়ে যায়। এর ফলে পৃথিবীর ছায়া চাঁদের ওপর দিয়ে ধীরে ধীরে সরে যায় কিন্তু কখনোই পুরো চাঁদকে ঢেকে ফেলে না। এই বিশেষ মহাজাগতিক অবস্থাকেই আংশিক চন্দ্রগ্রহণ বলা হয়।




