দেশ

তেল সঙ্কটের আবহে বড় সিদ্ধান্ত, সোমবার থেকে বাড়ছে মেট্রোর পরিষেবা  

যাত্রী চাহিদা বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে আগামী ১৮ মে ২০২৬ থেকে প্রতি সোমবার অতিরিক্ত ২৪টি মেট্রো ট্রিপ চালানোর ঘোষণা করেছে ডিএমআরসি।

Truth of Bengal: আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের অস্থিরতার প্রভাব এবার সরাসরি পড়তে শুরু করেছে ভারতের গণপরিবহন ব্যবস্থাতেও। উপসাগরীয় দেশগুলিতে ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে জ্বালানি সঙ্কট গভীর হওয়ায় দেশবাসীকে জ্বালানি সাশ্রয়ের বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে বাস ও মেট্রোর মতো গণপরিবহন ব্যবহারের আহ্বান জানান। সেই প্রেক্ষিতেই বড় পদক্ষেপ নিল দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন (ডিএমআরসি)।

যাত্রী চাহিদা বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে আগামী ১৮ মে ২০২৬ থেকে প্রতি সোমবার অতিরিক্ত ২৪টি মেট্রো ট্রিপ চালানোর ঘোষণা করেছে ডিএমআরসি। বাড়তি পরিষেবা পরিচালনার জন্য ৬টি অতিরিক্ত ট্রেন নামানো হবে। প্রয়োজনে অন্যান্য দিনেও বাড়তি ট্রেন পরিষেবা চালানো হতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ডিএমআরসি-র তরফে জানানো হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি সাশ্রয়, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে গণপরিবহনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই যাত্রীদের আরও নিরাপদ, দ্রুত ও নির্বিঘ্ন পরিষেবা দিতে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

যাত্রী নিরাপত্তা ও স্টেশন ব্যবস্থাপনায়ও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের পাশাপাশি বাড়ানো হচ্ছে টিকিট কাউন্টার। স্টেশনগুলিতে অতিরিক্ত ডোর ফ্রেম মেটাল ডিটেক্টর (ডিএফএমডি) ও ব্যাগেজ স্ক্যানার সক্রিয় করা হবে। তল্লাশি কেন্দ্রে অপেক্ষার সময় কমাতে এবং ব্যস্ত সময়ে যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

দিল্লি মেট্রো বর্তমানে রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন লাইফলাইন হিসেবে কাজ করছে। এর বিস্তৃত নেটওয়ার্ক রেল স্টেশন, আইএসবিটি বাস টার্মিনাল, বিমানবন্দর, নমো ভারত রিজিওনাল র্যাপিড ট্রানজিট সিস্টেম (আরআরটিএস), নয়ডা মেট্রো এবং গুরুগ্রাম র্যাপিড মেট্রোর সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করেছে। ফলে দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলে বহু-মাধ্যম পরিবহন ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হয়েছে।

ডিএমআরসি-র মতে, এই সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা যাত্রীদের এক পরিবহন মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে সহজে যাতায়াতের সুযোগ করে দিচ্ছে। এতে ব্যক্তিগত গাড়ি ও পেট্রোল-নির্ভর সড়ক পরিবহনের উপর নির্ভরতা অনেকটাই কমছে। রাজধানীর প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র, সরকারি মন্ত্রক, কর্পোরেট অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পর্যটন কেন্দ্র ও ঐতিহ্যবাহী এলাকাগুলির সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে দিল্লি মেট্রো।

চাঁদনি চক, কনট প্লেস, সাইবার সিটি থেকে শুরু করে বিভিন্ন শিক্ষা কেন্দ্র ও পর্যটনস্থল— সব ক্ষেত্রেই মেট্রো এখন সাধারণ মানুষের অন্যতম ভরসা। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ কর্মক্ষেত্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য গন্তব্যে পৌঁছতে এই পরিষেবার উপর নির্ভর করছেন।

যাত্রীদের ‘লাস্ট মাইল কানেক্টিভিটি’ নিশ্চিত করতে ১৬০টি মেট্রো স্টেশনে ই-অটো, ই-রিকশা, বাইক ট্যাক্সি, ক্যাব পরিষেবা এবং সাইকেল ভাড়ার সুবিধা চালু করেছে ডিএমআরসি। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় এক লক্ষ যাত্রী এই পরিষেবা ব্যবহার করছেন। এছাড়া ‘সারথি’ অ্যাপের মাধ্যমে ডোর-টু-ডোর যাত্রা পরিকল্পনার সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে।

পরিবেশবান্ধব পরিবহনের দিকে আরও একধাপ এগিয়ে সম্প্রতি আইওসিএল-এর সহযোগিতায় সেন্ট্রাল ভিস্তা এলাকায় হাইড্রোজেন-ভিত্তিক বাস পরিষেবা চালু হয়েছে। পাশাপাশি, ডিটিসি পরিচালিত প্রায় ১,৫০০টি ‘দেবী বাস’ বর্তমানে ৫২টি মেট্রো স্টেশনে শেষ প্রান্তের সংযোগ পরিষেবা দিচ্ছে। ধাপে ধাপে আরও বাস পরিষেবা যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

মানুষকে গণপরিবহন ব্যবহারে উৎসাহিত করতে দিল্লি-এনসিআর-এর ১২৬টি মেট্রো স্টেশনে পার্কিং সুবিধা রাখা হয়েছে। ফলে যাত্রীরা ব্যক্তিগত গাড়ি পার্ক করে সহজেই মেট্রোতে যাতায়াত করতে পারছেন।

এছাড়া ডিজিটাল টিকিটিং ব্যবস্থাতেও জোর দিচ্ছে ডিএমআরসি। কিউআর কোড টিকিটিং, ন্যাশনাল কমন মোবিলিটি কার্ড (এনসিএমসি), হোয়াটসঅ্যাপ টিকিটিং, পেটিএম, ফোনপে, অ্যামাজন ও আইআরসিটি‌সি-র সঙ্গে সংযুক্ত পরিষেবার মাধ্যমে যাত্রীদের টিকিট কাটার প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হয়েছে। ডিজিটাল ব্যবস্থার ফলে স্টেশনগুলিতে ভিড় ও দীর্ঘ লাইনও কমছে।

ডিএমআরসি জানিয়েছে, দেশের জ্বালানি নির্ভরতা কমানো, পরিবেশবান্ধব নগর পরিবহন গড়ে তোলা এবং যাত্রী পরিষেবাকে আরও আধুনিক করে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য। আগামী দিনে দিল্লি-এনসিআর-এর গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে একাধিক নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

 

Related Articles