অফবিট

২১ ডিসেম্বর কেন দিন সবচেয়ে ছোট আর রাত দীর্ঘতম হয়? জানুন ‘শীতকালীন অয়নকাল’ ও এর আধ্যাত্মিক গুরুত্ব

সূর্যের দক্ষিণায়নের ফলে এই দিনটিতে সূর্য আকাশের সর্বনিম্ন পথ অতিক্রম করে, যা আমাদের শীতের প্রকোপকে আরও স্পষ্টভাবে অনুভব করায়।

Truth Of Bengal: প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসে উত্তর গোলার্ধ এক বিশেষ মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী থাকে, যাকে বলা হয় ‘শীতকালীন অয়নকাল’ বা ‘উইন্টার সোলস্টাইস’। এটি বছরের এমন একটি দিন যখন দিনের আলো সবচেয়ে কম সময়ের জন্য স্থায়ী হয় এবং রাত হয় দীর্ঘতম। সূর্যের দক্ষিণায়নের ফলে এই দিনটিতে সূর্য আকাশের সর্বনিম্ন পথ অতিক্রম করে, যা আমাদের শীতের প্রকোপকে আরও স্পষ্টভাবে অনুভব করায়।

অনেকের ধারণা হতে পারে যে সূর্য পৃথিবী থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণে এমনটি ঘটে, কিন্তু মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার (NASA) তথ্যমতে, এর মূল কারণ পৃথিবীর অক্ষীয় হেলন (Axial Tilt)। পৃথিবী তার কক্ষতলে ২৩.৫ ডিগ্রি কোণে হেলে থাকে। এই হেলে থাকার কারণেই বছরের বিভিন্ন সময়ে সূর্যের আলো পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে ভিন্নভাবে পৌঁছয়।

ডিসেম্বর মাসে উত্তর গোলার্ধ সূর্য থেকে উল্টো দিকে হেলে থাকে। এর ফলে:

  • সূর্যের আলো অত্যন্ত তেরছা বা নিচু কোণে পৃথিবীতে পড়ে।
  • দিনের আলোর সময়সীমা কমে যায়।
  • সৌর বিকিরণের তাপ কম অনুভূত হয়।

নাসার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নিচু কোণে আসা সূর্যের আলো বিশাল অঞ্চল জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে উজ্জ্বলতা এবং উষ্ণতা—উভয়ই হ্রাস পায়। এই কারণেই আকাশ পরিষ্কার থাকলেও শীতের দিনে রোদের তেজ কম মনে হয়।

শীতকালীন অয়নকালের দিন সূর্য দিগন্তের দক্ষিণতম বিন্দুতে উদিত হয় এবং মধ্যাহ্নে বছরের সর্বনিম্ন উচ্চতায় অবস্থান করে। উত্তর ভারতের বেশিরভাগ অংশে দিনের আলো ১১ ঘণ্টার নিচে নেমে আসে। অক্ষাংশ যত বৃদ্ধি পায়, দিনের আলো তত দ্রুত হ্রাস পেতে থাকে।

অয়নকালের পরেও কেন শীত বাড়ে?
একটি কৌতূহলজনক বিষয় হল, ২১ ডিসেম্বর দীর্ঘতম রাত হলেও এটি বছরের শীতলতম দিন নয়। জলবায়ু গবেষণায় একে ‘সিজনাল ল্যাগ’ বা ঋতুগত বিলম্ব বলা হয়। স্থলভাগ এবং সমুদ্রের জল তাপ ধরে রাখে এবং তা ধীরে ধীরে ঠান্ডা হয়। ফলে দিনের আলো বাড়তে শুরু করার কয়েক সপ্তাহ পর, সাধারণত জানুয়ারি মাসে হাড়কাঁপানো শীত অনুভূত হয়।

অয়নকালের ঠিক পরের দিন থেকেই প্রকৃতিতে পরিবর্তন শুরু হয়:

  • দিনের দৈর্ঘ্য প্রথমে কয়েক সেকেন্ড এবং পরে কয়েক মিনিট করে বাড়তে থাকে।
  • সূর্যোদয় এগিয়ে আসে এবং সূর্যাস্ত দেরিতে হয়।
  • উত্তর গোলার্ধ ধীরে ধীরে পুনরায় সূর্যের দিকে হেলতে শুরু করে।

এই মহাজাগতিক পরিবর্তনের কারণেই প্রাচীন সংস্কৃতিতে এই দিনটিকে পুনর্জন্ম এবং টিকে থাকার প্রতীক হিসেবে দেখা হতো। আধুনিক যুগের অনেক শীতকালীন উৎসবের মূলে রয়েছে এই জ্যোতির্বিজ্ঞানগত পরিবর্তন। শীতকালীন অয়নকাল আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, অন্ধকারেরও একটি নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে এবং এরপরই আলোর প্রত্যাবর্তন ঘটে।

Related Articles