দেশ

বিয়ের শপিংয়ের নামে কেতনের থেকে ১ কোটি নেন সিয়া! পুরোটাই তুলে দেন প্রেমিক চেতনের হাতে

ইন্টারনেটে সার্চ করে মার্ডারের ব্লু-প্রিন্ট, লকআপে বিয়ারের বায়না! পুণের সিয়া গোয়েলের চরম কেচ্ছা ফাঁস

Truth of Bengal: লোহাগড় দুর্গের হত্যাকাণ্ড নিয়ে যত সময় এগোচ্ছে, ততই প্রকাশ্যে আসছে আধুনিক সমাজের এক চরম অবক্ষয়ের রূপরেখা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী নভেম্বরে পুণের নামী ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান কেতনের সঙ্গে বিয়ে হওয়ার কথা ছিল সিয়া গোয়েলের। গত ফেব্রুয়ারিতে তাঁদের ধুমধাম করে বাগদানও সম্পন্ন হয়। কিন্তু সিয়া মনে মনে ভালবাসতেন চেতন চৌধুরীকে। পরিবারের চাপে কেতনকে বিয়ে করতে বাধ্য হলেও, চেতনকে নিয়ে সংসার করার জন্য এক ভয়ংকর মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করেন সিয়া।

খুন করার মাত্র কয়েকদিন আগে, বিয়ের রাজকীয় কেনাকাটা ও গয়না কেনার অজুহাত দেখিয়ে হবু স্বামী কেতনের কাছ থেকে নগদ ১ কোটি টাকা নিয়েছিলেন সিয়া। কিন্তু সেই টাকা শপিংয়ে খরচ না করে তিনি পুরোটাই তুলে দেন প্রেমিক চেতনের হাতে। আসলে চেতন জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে পারছিলেন না। নিজের কেরিয়ার ও নতুন ব্যবসা শুরু করার জন্য তাঁর এই বিপুল অঙ্কের টাকার প্রয়োজন ছিল। সিয়ার থেকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য ৩ বছর সময়ও চেয়েছিলেন চেতন। আর সেই কারণেই কেতনকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার নীল নকশা ইন্টারনেট ঘেঁটে তৈরি করেন সিয়া।

৩ বছরের ডেটিং প্ল্যান এবং লকআপে বসে বিয়ার খাওয়ার বায়না!

সিয়া ও চেতনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এতটাই নিখুঁত ছিল যে তা শুনলে যে কেউ শিউরে উঠবেন। তাঁদের পরিকল্পনা ছিল, কেতনের মৃত্যুর পর অন্তত ৩ বছর তাঁরা কেউ কাউকে বিয়ে করবেন না, যাতে পুলিশের মনে কোনও সন্দেহ না জাগে। এই সময়ের মধ্যে কেতনের মৃত্যুর রেশ কেটে গেলে ধীরে ধীরে সিয়ার পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতেন চেতন। তারপর পরিবারের সম্মতিতেই তাঁরা চার হাত এক করতেন। এমনকি কেতনের সঙ্গে আংটি বদল হওয়ার ঠিক আগেই চেতনকে নিয়ে উদয়পুরে রোমান্টিক ট্যুরও সেরে এসেছিলেন সিয়া। অপরাধের মানসিকতা এতটাই তীব্র যে, ধরা পড়ার পর পুলিশ হেফাজতে বসেও ঠান্ডা মাথায় বিয়ার খাওয়ার বায়না জুড়েছেন সিয়া!

“ভয় পাবেন না, সামনে আসুন”, লোহাগড় দুর্গের প্রত্যক্ষদর্শীদের আকুতি নিহতের বাবার

ছেলের এমন আকস্মিক ও নৃশংস পরিণতিতে ভেঙে পড়েছেন কেতনের বাবা বিশাল আগরওয়াল। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি এক আবেগঘন আবেদন জানিয়েছেন। বিশালবাবু জানান, “যেদিন লোহাগড় দুর্গে আমার ছেলেকে ঠেলে ফেলে দেওয়া হয়, সেদিন সেখানে বহু পর্যটক উপস্থিত ছিলেন। অনেকে সব দেখেও এখন পুলিশ বা আইনি জটিলতার ভয়ে সামনে আসতে চাইছেন না।” তিনি হাত জোড় করে সমস্ত প্রত্যক্ষদর্শীদের অনুরোধ করেছেন, তাঁরা যেন ভয় না পেয়ে পুলিশের কাছে এসে সত্যি সাক্ষ্য দেন, যাতে কেতনের আত্মী শান্তি পায় এবং খুনিরা ফাঁসির সাজা পায়।

Related Articles