বাস্তবের ‘টুইস্ট’ হার মানাল সিনেমাকেও! ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ভাঙল ডাক্তার দম্পতির বিয়ে
বিয়ের দিন তারা সমস্ত রীতিনীতি সম্পন্ন করেছিলেন, যার মধ্যে ছিল সাত ফেরা, এবং আনুষ্ঠানিকভাবে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে যুক্ত হয়েছিলেন।
Truth Of Bengal: মহারাষ্ট্রের পুণেতে এক নজিরবিহীন ঘটনা সবার নজর কেড়েছে, যেখানে এক চিকিৎসক দম্পতির বিবাহিত জীবন মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। ওই দম্পতি দীর্ঘ ২–৩ বছর সম্পর্কে থাকার পর ভালোবেসে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। বিয়ের দিন তাঁরা হিন্দু শাস্ত্রের সমস্ত রীতিনীতি মেনে সাত পাকে বাঁধা পড়েন এবং সামাজিকভাবে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে নতুন জীবন শুরু করেন।
কিন্তু এই আনন্দের আবহ মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হয় যখন কনে জানতে পারেন যে তাঁর স্বামী পেশা সংক্রান্ত একটি বড় তথ্য গোপন করেছেন। কনের বিশ্বাস ছিল যে তাঁর স্বামীও তাঁর মতোই একজন ডাক্তার। কিন্তু বিয়ের পরেই জানা যায় যে, ওই যুবক আসলে মার্চেন্ট নেভিতে কর্মরত। এই পেশার কারণে বছরের দীর্ঘ সময়, এমনকি টানা ছয় মাস পর্যন্ত সমুদ্রে থাকা বাধ্যতামূলক। স্বামীর এই আসল পরিচয় সামনে আসতেই স্ত্রী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং ক্ষুব্ধ হন। তাঁর মতে, বিয়ের মতো এত বড় একটি অঙ্গীকারের আগে জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি অবশ্যই প্রকাশ করা উচিত ছিল।
স্বচ্ছতার অভাব এবং বিশ্বাসের এই ভাঙন দম্পতিটিকে দ্রুত বিচ্ছেদের দিকে ঠেলে দেয়। তাঁরা বিয়ের ঠিক পরের দিনই আদালতে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন। যদিও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে চূড়ান্ত ডিভোর্স পেতে প্রায় ১৮ মাস সময় লেগেছে, তবুও মাত্র এক দিনের এই বৈবাহিক সম্পর্ক পুণেসহ গোটা দেশের মানুষকে অবাক করেছে। এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। উচ্চশিক্ষিত এবং দীর্ঘদিনের চেনা যুগলদের ক্ষেত্রেও যে তথ্যের গোপনীয়তা কতটা মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে, এই ঘটনাটি তারই এক জ্বলন্ত উদাহরণ। শেষ পর্যন্ত এই ঘটনা সম্পর্কের ভঙ্গুরতা এবং বিয়ের আগে স্বচ্ছ যোগাযোগের গুরুত্বকেই নতুন করে মনে করিয়ে দিয়েছে।






