দেশ

লালকেল্লা বিস্ফোরণের নেপথ্যে জইশ! রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টে ফাঁস হল হাড়হিম করা তথ্য

তবে কোন দেশ এই তথ্য দিয়েছে, তা প্রকাশ করা হয়নি।

Truth of Bengal: লালকেল্লার সামনে দিল্লির ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী জইশ-ই-মহম্মদের সম্ভাব্য যোগের কথা উল্লেখ করল রাষ্ট্রসংঘ। নিরাপত্তা পরিষদের ‘অ্যানালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাংশন মনিটরিং টিম’-এর সাম্প্রতিক রিপোর্টে এই তথ্য উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, গত বছরের ৯ নভেম্বর লালকেল্লার কাছে ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণ-সহ একাধিক নাশকতার দায় স্বীকার করেছে জইশ—এমন তথ্য জানিয়েছে এক সদস্য রাষ্ট্র। তবে কোন দেশ এই তথ্য দিয়েছে, তা প্রকাশ করা হয়নি।

বিস্ফোরণের তদন্ত চলাকালীনই জইশের যোগের আশঙ্কা সামনে এসেছিল। জম্মু ও কাশ্মীর থেকে তুফাইল নিয়াজ় ভাট নামে এক সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়। তদন্তকারীদের ধারণা, তার সঙ্গে জইশের যোগাযোগ থাকতে পারে। ঘটনায় ফরিদাবাদ ‘মডিউল’-এর নামও উঠে আসে। ধৃতদের মধ্যে প্রথম গ্রেফতার হন অনন্তনাগের বাসিন্দা চিকিৎসক আদিল আহমেদ রাথর, যিনি শ্রীনগরে জইশের পোস্টার লাগানোর সময় ধরা পড়েছিলেন বলে জানা যায়। রিপোর্টে বিস্ফোরণে ১৫ জনের মৃত্যুর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, জইশপ্রধান মাসুদ আজহার সম্প্রতি শুধুমাত্র মহিলাদের নিয়ে একটি নতুন শাখা সংগঠন গঠনের ঘোষণা করেছেন। ‘জামাত-উল-মোমিনাত’ নামে এই বাহিনীর উদ্দেশ্য বিভিন্ন নাশকতায় সহায়তা করা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

জানা গিয়েছে, সংগঠনটি জম্মু ও কাশ্মীর, উত্তরপ্রদেশ এবং দক্ষিণ ভারতের কিছু এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। অনলাইন নেটওয়ার্ক, সোশ্যাল মিডিয়া এবং হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে মতাদর্শ ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে ধারণা। ধর্মের নামে মহিলাদের সংগঠনে টানার পাশাপাশি শিক্ষিত ও শহুরে মহিলাদেরও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।সূত্রের দাবি, এই মহিলা ব্রিগেডের নেতৃত্বে রয়েছেন মাসুদ আজহারের বোন সাদিয়া আজহার। ইতিমধ্যেই সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের পরিবারের সদস্যদের যুক্ত করার চেষ্টা চলছে। ভাওয়ালপুর, করাচি ও মুজফফরাবাদ-সহ বিভিন্ন এলাকার অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মহিলাদেরও দলে ভেড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।উল্লেখ্য, জইশ-ই-মহম্মদ একটি পাকিস্তানি জঙ্গিগোষ্ঠী, যার বিরুদ্ধে অতীতেও ভারতে একাধিক জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। ভারত ও পাকিস্তান উভয়ই রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের সদস্য হলেও নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য নয়। বর্তমানে পাকিস্তান অস্থায়ী সদস্য হিসেবে রয়েছে। তবে রিপোর্টে কোন সদস্য রাষ্ট্রগুলি এই তথ্য দিয়েছে, তা স্পষ্ট করা হয়নি।

Related Articles