দেশ

নারীদের সম্মান নিয়ে ছিনিমিনি! গ্রোক এআই-এর অপব্যবহার রুখতে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীর কড়া হুঁশিয়ারি

এই ধরণের কাজ কেবল অনৈতিক নয়, বরং আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

Truth of Bengal: সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এর এআই টুল ‘গ্রোক’ ব্যবহার করে আপত্তিকর ছবি তৈরির প্রবণতা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী। বিশেষ করে নারীদের বিকিনি পরিহিত কুরুচিকর এআই ছবি তৈরি করে জনসমক্ষে ছড়িয়ে দেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শুভম গুপ্ত নামে ওই আইনজীবী। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই ধরণের কাজ কেবল অনৈতিক নয়, বরং আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

শুভম গুপ্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিস্তারিত পোস্টের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের চুপ না থেকে আইনি লড়াই চালানোর পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, অভিযুক্তের আসল পরিচয় জানা না থাকলেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট পোস্টের স্ক্রিনশট এবং যে অ্যাকাউন্ট থেকে আপত্তিকর ‘প্রম্পট’ বা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তার প্রোফাইল লিঙ্ক থাকলেই অভিযোগ দায়ের করা যাবে। তিনি মনে করেন, এই ধরনের বিকৃত মানসিকতাকে প্রশ্রয় দিলে আগামী দিনে সাইবার অপরাধের মাত্রা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। আইনি পথ নির্দেশিকা দিতে গিয়ে এই আইনজীবী জানান, তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৬ই এবং ৬৭এ ধারা এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৭৭ ও ৩৩৬(৪) ধারার অধীনে এই অপরাধগুলোর বিচার সম্ভব। আক্রান্ত ব্যক্তিরা তাঁদের স্থানীয় থানা অথবা নিকটবর্তী সাইবার ক্রাইম থানায় গিয়ে এই প্রমাণসহ অভিযোগ জানাতে পারেন। এ ছাড়া গ্রোক বা এই ধরণের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য বৃহত্তর কোনো আইনি নির্দেশিকা বা নিয়ন্ত্রণ জারির প্রয়োজন হলে উচ্চ আদালতের (হাইকোর্ট) দ্বারস্থ হওয়ার পথও খোলা রয়েছে।

শুভম গুপ্তের মতে, এআই প্রযুক্তিকে অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে কারো সম্মানহানি করা একটি অসহনীয় অপরাধ। তিনি সকল ভুক্তভোগীকে অনুরোধ করেছেন যাতে তাঁরা অপরাধীদের ছেড়ে না দেন। এই বার্তাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে এবং নেটিজেনদের বড় একটি অংশ এআই-এর অপব্যবহার রুখতে কঠোর আইনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন। সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তির অগ্রগতির সাথে সাথে এই ধরণের আইনি সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।

Related Articles