দেশ

‘একনায়কতন্ত্রের’ পতন শুরু, আপ সাংসদরা দল ছাড়তেই কেজরিওয়ালকে কটাক্ষ দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর

শুক্রবার আপের সাংসদ রাঘব চাড্ডা-সহ ছয়  জন রাজ্যসভা সাংসদ ইস্তফা দেওয়ার পরই বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া দেন তিনি।

Bangla Jago Desk: আম আদমি পার্টি (আপ) ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান। আর এই ঘটনাকে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের ‘একনায়কতন্ত্রের’ পতন বলেই ব্যাখ্যা করলেন দিল্লির বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। শুক্রবার আপের সাংসদ রাঘব চাড্ডা-সহ ছয়  জন রাজ্যসভা সাংসদ ইস্তফা দেওয়ার পরই বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া দেন তিনি।

কেজরিওয়ালকে সরাসরি নিশানা করে রেখা গুপ্তার দাবি, যে দল একসময় ‘ইনকিলাব’ বা বিপ্লবের স্লোগান তুলে সাধারণ মানুষের রাজনীতি করার স্বপ্ন দেখিয়েছিল, আজ তা অবিশ্বাস, বিচ্ছিন্নতা এবং দুর্নীতির জালে জর্জরিত। সাংসদদের দলত্যাগের খবর প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ সরব হন রেখা গুপ্তা। তিনি লেখেন, আপনার পার্টিতে এখন আর কোনও ‘আম আদমি’ বা সাধারণ মানুষ বেঁচে নেই। পড়ে রয়েছে শুধু দুর্নীতিবাজরা।  শুধু দিল্লিতেই নয়, এবার পঞ্জাবেও আপের জমি হাতছাড়া হতে পারে বলেও সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার আপ-এর রাজনৈতিক ইতিহাসে কার্যত এক ‘কালো দিন’ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। দলের একাধিক হেভিওয়েট নেতা রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দিয়ে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিয়েছেন বলে খবর। দল ছাড়াদের তালিকায় রয়েছেন রাঘব চাড্ডা, সন্দীপ পাঠক, অশোক মিত্তল, হরভজন সিং, রাজেন্দ্র গুপ্ত, বিক্রম সাহনি এবং স্বাতি মালিওয়াল। ইস্তফা দেওয়া নেতাদের অভিযোগ, যে আদর্শ ও স্বচ্ছ রাজনীতির প্রতিশ্রুতি নিয়ে আপের জন্ম হয়েছিল, অরবিন্দ কেজরিওয়াল এখন সেই পথ থেকে সম্পূর্ণ সরে গিয়েছেন।

এই গণ-ইস্তফার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রাঘব চাড্ডার দলত্যাগ। রাজনৈতিক মহলে তাঁর ইস্তফাকে আপের জন্য বড়সড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাঘব নিজেকে ‘ভুল দলের সঠিক মানুষ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বলেও জানা গিয়েছে। দলীয় সূত্রে খবর, গত ২ এপ্রিল রাঘবকে রাজ্যসভার ডেপুটি লিডারের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, তাঁকে সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য রাখার সুযোগ না দিতে সেক্রেটারিয়েটকে অনুরোধ করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ। এরপর থেকেই দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব আরও বেড়ে যায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেজরিওয়ালের ‘শাস্তিমূলক’ মনোভাবই বিদ্রোহের আগুনে ঘি ঢালে। তবে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার প্রকাশ্য আক্রমণাত্মক মন্তব্য এবং রাজ্যসভায় দলের দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ হারানো যে কেজরিওয়ালের রাজনৈতিক অবস্থানকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিল, তা নিয়ে সন্দেহ নেই।