পাক ড্রোনে বিস্ফোরক,কাশ্মীর নিয়ন্ত্রণরেখা থেকে উদ্ধার মাদক-গোলাবারুদ
সরকারি সূত্রের দাবি, ড্রোনটি প্রায় পাঁচ মিনিটের বেশি সময় ভারতীয় আকাশসীমায় ছিল।
Truth Of Bengal: নতুন বছরের শুরুতেই জম্মু–কাশ্মীরে ছড়াল উত্তেজনা। জম্মু-কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণরেখা (এলওসি)-র অদূরে বিস্ফোরক ও গোলাবারুদ ফেলে গিয়েছিল পাকিস্তানি ড্রোন। ঘটনার পরপরই গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে ওই সমস্ত সামগ্রী উদ্ধার করেছে নিরাপত্তাবাহিনী।বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে পুঞ্চ জেলার নিয়ন্ত্রণরেখা সংলগ্ন খাদি কর্মাদা এলাকায় একটি সন্দেহজনক ড্রোন উড়তে দেখেন নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা। সঙ্গে সঙ্গে সতর্কতা জারি করে এলাকা ঘিরে ফেলে যৌথ বাহিনী। তল্লাশি চালিয়ে একটি বস্তার মধ্যে দেশীয় পদ্ধতিতে তৈরি একাধিক ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি), গোলাবারুদ এবং কিছু ওষুধপত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
সরকারি সূত্রের দাবি, ড্রোনটি প্রায় পাঁচ মিনিটের বেশি সময় ভারতীয় আকাশসীমায় ছিল। প্রাথমিক তদন্তে নিরাপত্তা সংস্থাগুলির অনুমান, পাকিস্তান থেকে আকাশপথে ভারতে বিস্ফোরক ও কার্তুজ পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছিল। উপত্যকায় লুকিয়ে থাকা জঙ্গিদের কাছে এই সামগ্রী পৌঁছে দেওয়াই ছিল মূল উদ্দেশ্য। তবে নিরাপত্তাবাহিনীর তৎপরতায় সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়ে যায়।ঘটনার পর পুঞ্চ, কিশতওয়ার এবং সংলগ্ন পাহাড়ি ও জঙ্গলঘেরা এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। এলাকায় কোনও জঙ্গি অনুপ্রবেশ করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গোপন সূত্র ও স্থানীয় তথ্যদাতাদেরও সক্রিয় করা হয়েছে।সেইসঙ্গে উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক ও গোলাবারুদ বর্তমানে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ড্রোনটির উৎস ও উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখতে তদন্ত চালাচ্ছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি।
উল্লেখ্য, পুঞ্চের দুর্গম ও তুষারাবৃত পীরপঞ্জল এলাকায় ইতিমধ্যেই সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চলছে।শীতের মরশুমে সীমান্তে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করতে পারে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিরা—এমন গোয়েন্দা তথ্য আগেই ছিল। সেই কারণে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছিল।এদিকে পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের কমান্ডার সইফুল্লা এবং তার সহযোগী আদিলকে খুঁজতে গত ন’দিন ধরে কিশতওয়ার ও ডোডা জেলায় সেনার অভিযান চলছে। এই দুই জঙ্গির মাথার দাম ধার্য করা হয়েছে ৫ লক্ষ টাকা করে। ডোডা–কিশতওয়ার বনাঞ্চলে ছোট ছোট জঙ্গি গোষ্ঠীর উপস্থিতির তথ্যও মিলেছে বলে সূত্রের খবর।
নতুন বছর উপলক্ষে জম্মু অঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। কাঠুয়া, সাম্বা, জম্মু ও উধমপুর জেলায় পাঠানকোট–জম্মু–শ্রীনগর জাতীয় মহাসড়কে যানবাহন তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে। আকাশপথে নজরদারি, স্নিফার ডগ এবং আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে অভিযান চালাচ্ছে সেনা ও জম্মু–কাশ্মীর পুলিশ।






