চাঁদা তুলে জঙ্গিদের সাহায্য, জম্মু-কাশ্মীরে তল্লাশিতে নিরাপত্তারক্ষী বাহিনী
জনসমক্ষে অর্থ সংগ্রহ বা ডিজিটাল মাধ্যমে তহবিল গঠন করতেও প্রয়োজনীয় অনুমতি বাধ্যতামূলক।
Truth of Bengal: জম্মু ও কাশ্মীরের কিশতওয়ার জেলায় রমজান মাসে জঙ্গি অর্থায়ন রুখতে কড়া নজরদারি শুরু করল প্রশাসন ও যৌথ বাহিনী। অভিযোগ, পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে ঘরে ঘরে চাঁদা তোলার নামে জঙ্গিগোষ্ঠীর কাছে অর্থ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা হয়েছে। সেই আশঙ্কা থেকেই বিশেষ অভিযান ও বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে উপত্যকায়।জেলার জেলাশাসক পঙ্কজ কুমার শর্মা স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া কোনও ব্যক্তি, মসজিদ কমিটি, ট্রাস্ট, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বা অন্য কোনও সংগঠন ঘরে ঘরে গিয়ে চাঁদা তুলতে পারবে না। জনসমক্ষে অর্থ সংগ্রহ বা ডিজিটাল মাধ্যমে তহবিল গঠন করতেও প্রয়োজনীয় অনুমতি বাধ্যতামূলক।
নির্দেশ অমান্য করলে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।‘রমজান-২০২৬ চলাকালীন অনুদান সংগ্রহের নিয়ন্ত্রণ, পর্যবেক্ষণ ও সতর্কতা’ শীর্ষক নির্দেশিকায় অর্থ সংগ্রহ ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। চাঁদা তুলতে হলে পরিচয়পত্র, নথিপত্র এবং অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। সংগৃহীত অর্থ ঘোষিত ধর্মীয় বা সামাজিক কাজেই ব্যয় করতে হবে এবং তার হিসাব সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক।প্রশাসন, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাকে নিয়ে বহুস্তরীয় নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। মাঠপর্যায়ের আধিকারিকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাঁদা তোলা ব্যক্তিদের পরিচয় ও গতিবিধি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা মোতায়েন।নিরাপত্তা সংস্থার আশঙ্কা, উপত্যকায় এখনও কয়েকজন জইশ জঙ্গি আত্মগোপনে রয়েছে এবং সীমান্ত পেরিয়ে পালাতে অর্থের জোগান প্রয়োজন।
সাম্প্রতিক কালে বেনামি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টাকা পাচারচক্রেরও পর্দাফাঁস হয়েছে। গত তিন বছরে প্রায় আট হাজার সন্দেহজনক অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করে ফ্রিজ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আধিকারিকদের মতে, এই ধরনের অ্যাকাউন্ট সাইবার প্রতারণা ও অবৈধ আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়।তবে প্রশাসন স্পষ্ট করেছে, প্রকৃত ধর্মীয় বা সামাজিক কাজকর্মে বাধা দেওয়াই উদ্দেশ্য নয়। রমজানের পবিত্রতা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের অনুদান যাতে সঠিক ও প্রাপ্য ব্যক্তিদের কাছেই পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করাই এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য। সাধারণ মানুষকে কেবলমাত্র অনুমোদিত ও যাচাইকৃত সংস্থায় অনুদান দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সন্দেহজনক কোনও অর্থ সংগ্রহের খবর নিকটবর্তী থানায় বা জেলা প্রশাসনকে জানাতে বলা হয়েছে।






