আন্তর্জাতিক

দীর্ঘ তিন সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান, কম্বোডিয়ার ১৮ জন সেনাকে মুক্তি দিল থাইল্যান্ড

দুই দেশের এই সংঘাতের মূলে রয়েছে ‘এমারেলড ত্রিকোণ’ নামক একটি বিতর্কিত এলাকা।

দীর্ঘ তিন সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সীমান্ত যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে শান্তি ও স্থিতিশীলতার পথে হাঁটল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া। আমেরিকা ও চিনের সক্রিয় মধ্যস্থতায় সম্পাদিত সংঘর্ষবিরতি চুক্তির শর্ত মেনে থাইল্যান্ডের পক্ষ থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে কম্বোডিয়ার ১৮ জন সেনাকর্মীকে। গত বুধবার সকালে তাঁদের কম্বোডিয়া কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মতে, এই সেনারা প্রায় ১৫৫ দিন থাইল্যান্ডে বন্দি ছিলেন। তাঁদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর কম্বোডিয়ার বাত্তামবাং প্রদেশের গভর্নর তাঁদের ‘বীর’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে থাইল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রক দাবি করেছে, বন্দি থাকাকালীন এই সেনাকর্মীদের ওপর কোনও অত্যাচার করা হয়নি এবং আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনেই তাঁদের দেখাশোনা করা হয়েছে।

দুই দেশের এই সংঘাতের মূলে রয়েছে ‘এমারেলড ত্রিকোণ’ নামক একটি বিতর্কিত এলাকা। থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া এবং লাওসের সীমানা যেখানে মিলেছে, সেই অঞ্চলেই অবস্থিত বেশ কিছু প্রাচীন ও ঐতিহাসিক মন্দির। এই মন্দিরগুলির মালিকানা ও ভৌগোলিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বিবাদ গত বছর জুলাই মাসে ভয়াবহ রূপ নেয়। সেই সময় টানা পাঁচদিনের যুদ্ধে প্রাণ হারান অন্তত ৪০ জন। পরবর্তীতে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রচেষ্টায় অক্টোবর মাসে একটি শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও ডিসেম্বর মাসের শুরুর দিকে পুনরায় যুদ্ধ শুরু হয়। এই দফায় রক্তক্ষয়ী হামলা ও পালটা হামলায় বহু মানুষের মৃত্যু হয় এবং হাজার হাজার সাধারণ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আন্তর্জাতিক মহলের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে গত ২৭ ডিসেম্বর থাইল্যান্ডের চান্থাবুরিতে দুই দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা এক জরুরি বৈঠকে বসেন। থাইল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নাথাফন নারকফানিত এবং কম্বোডিয়ার টি সেইহা আলোচনার মাধ্যমে পুনরায় সংঘর্ষবিরতির সিদ্ধান্ত নেন। ঐতিহাসিক এই শান্তিচুক্তি এবং সেনাকর্মীদের মুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের আতঙ্ক দূর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে ‘এমারেলড ত্রিকোণ’ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের লক্ষ্যে দুই দেশ কতটা আন্তরিক থাকে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Related Articles