দেশ

প্রান্তিক মানুষের জন্য বিচার এখন আরও দ্রুত! সুপ্রিম কোর্টের নতুন নির্দেশিকায় খুশির হাওয়া

সোমবার শীর্ষ আদালতের পক্ষ থেকে জারি করা দুটি বিশেষ নির্দেশিকায় শুনানির সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার পাশাপাশি প্রবীণ ও পিছিয়ে পড়া শ্রেণির জন্য বিশেষ অগ্রাধিকারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

Truth Of Bengal: দেশের বিচার ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের স্থবিরতা এবং মামলার পাহাড় প্রমাণ জট কাটাতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্য কান্ত। দায়িত্ব গ্রহণের এক মাসের মধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের প্রশাসনিক ও শুনানি প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের রদবদল আনলেন তিনি। শীর্ষ আদালতের পক্ষ থেকে জারি করা দুটি বিশেষ নির্দেশিকায় শুনানির সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার পাশাপাশি প্রবীণ ও পিছিয়ে পড়া শ্রেণির জন্য বিশেষ অগ্রাধিকারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টে এখন থেকে আর অনির্দিষ্টকাল ধরে কোনও মামলার সওয়াল-জবাব চালানো যাবে না। প্রবীণ আইনজীবী থেকে শুরু করে সাধারণ আইনজীবী— প্রত্যেককেই শুনানির অন্তত একদিন আগে লিখিতভাবে জানাতে হবে যে, তাঁরা সওয়ালের জন্য ঠিক কতটুকু সময় নেবেন। এই ‘টাইমলাইন’ কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। এছাড়া মামলার মূল বিষয়বস্তু সর্বোচ্চ ৫ পৃষ্ঠার নোট আকারে শুনানির তিন দিন আগে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ফলে বিচারপতিরা শুনানির আগেই মামলাটি সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাবেন এবং আদালতের মূল্যবান সময় সাশ্রয় হবে।

প্রধান বিচারপতির দ্বিতীয় নির্দেশিকাটি সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক। বিচার পাওয়ার অপেক্ষায় বছরের পর বছর বসে থাকা মানুষদের কষ্ট লাঘব করতে মামলা তালিকায় বিশেষ চারটি বিভাগকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

এই অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছেন-

১. বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তি এবং অ্যাসিড হামলার শিকার হওয়া নাগরিক।

২. ৮০ বছর বা তার বেশি বয়সের অশীতিপর প্রবীণ নাগরিক।

৩. দারিদ্র্যসীমার নীচে বসবাসকারী (BPL) পরিবার।

৪. যারা আইনি সহায়তার (Legal Aid) মাধ্যমে মামলা লড়ছেন।

জনস্বার্থ মামলা বা দীর্ঘস্থায়ী অন্যান্য মামলার তুলনায় এই চারটি বিষয়ের শুনানি সবার আগে সম্পন্ন করা হবে।

বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে ৯১,০০০-এর বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সওয়াল-জবাবের কারণে অনেক ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় মামলাগুলো পিছিয়ে যায়। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এই পরিকল্পিত উদ্যোগ বিচার প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মনে ন্যায়বিচারের আশা জাগিয়ে তুলবে। একে ভারতীয় বিচার ব্যবস্থার ইতিহাসে একটি ‘গেম চেঞ্জার’ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Related Articles