দেশ

২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দেশে আবার রেলে অগ্নিকাণ্ড!

ট্রেনের বগিতে আগুন লাগার খবর পাওয়া মাত্রই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের কয়েকটি ইঞ্জিন।

Truth of Bengal: রেলযাত্রীদের সুরক্ষাকে ফের বড়সড় প্রশ্নের মুখে ফেলে কেরলের পর এবার বিহারে চলন্ত ট্রেনের কামরায় বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটল। সোমবার ভোরে বিহারের সাসারাম রেল স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা সাসারাম-পটনা ফাস্ট প্যাসেঞ্জার ট্রেনের একটি বগিতে আচমকাই দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। সোমবার সকাল পৌনে ৭টা নাগাদ ট্রেনটির সাসারাম স্টেশন থেকে বিহারের রাজধানী পটনার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গন্তব্যের দিকে রওনা দেওয়ার ঠিক পূর্বমুহূর্তে প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষারত ওই ট্রেনের একটি কামরা থেকে আচমকা কুণ্ডলী পাকিয়ে কালো ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়। চোখের পলকে সেই ধোঁয়া গ্রাস করে গোটা কামরাটিকে এবং দাউদাউ করে জ্বলতে শুরু করে আগুন। স্টেশন চত্বরে এমন ভয়াবহ কাণ্ড দেখে উপস্থিত যাত্রীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও হুড়োহুড়ি পড়ে যায়।

কীভাবে ট্রেনের কামরায় এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটল, তা প্রাথমিকভাবে এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে রেলের আধিকারিকদের প্রাথমিক অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই কোনোভাবে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। ট্রেনের বগিতে আগুন লাগার খবর পাওয়া মাত্রই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের কয়েকটি ইঞ্জিন। একই সঙ্গে রেলের পদস্থ আধিকারিক ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত সাসারাম স্টেশনে হাজির হন। দমকলকর্মী এবং রেলের কর্মীরা যৌথভাবে স্টেশনে বসানো রেলের নিজস্ব জলের পাইপ ব্যবহার করে দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। সৌভাগ্যবশত, ট্রেনটি ছাড়ার ঠিক আগের মুহূর্তে এই দুর্ঘটনা ঘটায় এবং যাত্রীরা দ্রুত কামরা থেকে নেমে যাওয়ায় কোনো হতাহতের খবর মেলেনি। তবে বড়সড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন শতাধিক যাত্রী।

এই অগ্নিকাণ্ডের জেরে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশ কিছুটা দেরিতে সাসারাম স্টেশন থেকে পটনার উদ্দেশ্যে রওনা দেয় ফাস্ট প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি। রেলের ইঞ্জিনিয়ার ও প্রযুক্তিবিদরা এসে প্রথমে আগুনে পুড়ে যাওয়া সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত কামরাটিকে মূল ট্রেন থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেন। এরপর বাকি সুরক্ষিত কামরাগুলি নিয়ে ট্রেনটিকে তার গন্তব্যের উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে, পুড়ে যাওয়া ছাই হয়ে যাওয়া ক্ষতিগ্রস্ত বগিটিকে সাসারাম স্টেশনেরই একটি লুপ লাইনে আলাদা করে রাখা হয়েছে। প্ল্যাটফর্মের যে অংশের ধারে ওই পোড়া কামরাটি রাখা আছে, নিরাপত্তার স্বার্থে তার আশপাশে কড়া রেল পুলিশের তরফ থেকে ব্যারিকেড করে দেওয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ সেখানে যাতায়াত করতে না পারেন। রেলের উচ্চপর্যায়ের একটি দল ইতিমধ্যেই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে।

উল্লেখ্য, দেশে একের পর এক রেল দুর্ঘটনার তালিকায় এই ঘটনাটি নতুন করে উদ্বেগ বাড়াল। কারণ, ঠিক এর আগের দিন অর্থাৎ রবিবার ভোরেই কেরলের তিরুঅনন্তপুরম থেকে দিল্লিগামী দূরপাল্লার রাজধানী এক্সপ্রেসেও একই রকম ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। দিল্লি যাওয়ার পথে কোটা রেল ডিভিশনের আওতায় রাজধানী এক্সপ্রেসের দুটি বিলাসবহুল কামরা আগুনে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়। সেই রোমহর্ষক ঘটনার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই সোমবার সকালে ফের ট্রেনের কামরায় আগুন লাগল বিহারের সাসারামে। পরপর দু’দিনে দেশের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনে এভাবে আগুন লাগার ঘটনায় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি রেল মহলেও ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

Related Articles