কলকাতা

‘একটু সময় দিন, বিশ্বাসের মর্যাদা রাখব!’ ভবানীপুরবাসীকে কী প্রতিশ্রুতি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভবানীপুরে তোলাবাজি, কাটমানি এবং গুন্ডাভাতা নেওয়ার দিন শেষ

Truth of Bengal: ভবানীপুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে তোলাবাজি ও কাটমানি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে এক কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এই প্রথম নিজের নির্বাচনী কেন্দ্রে আয়োজিত এক ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। সোমবার সন্ধ্যায় ক্যামাক স্ট্রিটের সেই জনসভা থেকে এলাকার বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভবানীপুরে তোলাবাজি, কাটমানি এবং গুন্ডাভাতা নেওয়ার দিন শেষ। কোনো ধরনের দুর্নীতি এবার আর রেয়াত করা হবে না এবং দুর্নীতিগ্রস্তদের একমাত্র ঠিকানা হবে জেল। বর্তমান সরকারের আমলে সাধারণ মানুষের মনে আর কোনো আতঙ্ক থাকবে না দাবি করে তিনি বলেন, বাংলায় এখন ভয় আউট, ভরসা ইন।

সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। এই জয়ের জন্য মঞ্চ থেকে বারবার এলাকার সাধারণ মানুষকে ধন্যবাদ ও কুর্নিশ জানান তিনি। নিজের রাজনৈতিক জীবনের এক বড় সিদ্ধান্ত স্মরণ করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নন্দীগ্রাম থেকে তিনি আগে জিতলেও, এবার ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবেই বিধানসভায় শপথ নিয়েছেন এবং নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দিয়েছেন। ভবানীপুরের মানুষের ভালোবাসা ও আতিথেয়তায় তিনি তাঁর পুরনো কেন্দ্র নন্দীগ্রামের আবহ খুঁজে পাচ্ছেন বলেও আবেগঘন মন্তব্য করেন। এই কেন্দ্রেই তিনি রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা ভবানীপুরের ‘ঘরের মেয়ে’ হিসেবে পরিচিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে এক ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন।

এলাকার বাসিন্দাদের অভাব-অভিযোগ ও সমস্যার দ্রুত সমাধানে একাধিক বড় ব্যবস্থার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। নিজেকে সাধারণ মানুষের ‘ভাই’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, ভবানীপুরের নাগরিকদের জন্য খুব শীঘ্রই একটি বিশেষ ফোন নম্বর এবং ইমেল আইডি চালু করা হবে, যেখানে যেকোনো সমস্যায় সরাসরি যোগাযোগ করা যাবে। এর পাশাপাশি আগামী দিনে ভবানীপুর বিধানসভা এলাকার অন্তর্গত বিভিন্ন জায়গায় বিধায়কের মোট সাতটি কার্যালয় বা অফিস খোলা হবে। বাসিন্দারা সেখানে গিয়েও নিজেদের অভাব-অভিযোগ জানাতে পারবেন। শুভেন্দু অধিকারী ভোটারদের আশ্বস্ত করে বলেন, ভবানীপুরের মানুষ তাঁর ওপর যে বিশ্বাস রেখেছেন, তিনি তার পূর্ণ মর্যাদা রক্ষা করবেন এবং মানুষের এই ঋণ কাজের মাধ্যমে শোধ করবেন।

ধন্যবাদ জ্ঞাপন সভার মঞ্চ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র রাজনৈতিক কটাক্ষ করতে ছাড়েননি নতুন মুখ্যমন্ত্রী। মিত্র ইনস্টিটিউশনের বুথগুলির ফলাফলের খতিয়ান টেনে তিনি দাবি করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের বুথেই এবার পরাজিত হয়েছেন এবং সেই সমস্ত বুথেই বিজেপি ভালো লিড পেয়েছে। এই প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, যিনি নিজের বুথ রক্ষা করতে পারেন না, বাংলার মানুষ তাঁকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক জীবনের সমাপ্তি ঘটেছে দাবি করে নবান্নের নতুন অধীশ্বর মন্তব্য করেন, বাংলার জনগণ তাঁকে বিদায় বা দরজা দেখিয়ে দিয়েছে এবং তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এখন পুরোপুরি শেষ।

Related Articles