মধ্যপ্রদেশের বুকে দাউদাউ করে জ্বলল রাজধানী এক্সপ্রেস, ভস্মীভূত ২ কোচ
মধ্যপ্রদেশে রাজধানী এক্সপ্রেসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলেন ৬৮ জন যাত্রী!
Truth of Bengal: রবিবার ভোরে এক বড়সড় রেল দুর্ঘটনার হাত থেকে অলৌকিকভাবে রক্ষা পেলেন তিরুবনন্তপুরম-দিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেসের যাত্রীরা। মধ্যপ্রদেশের লুনি রিছা এবং বিক্রমগড় আলোট স্টেশনের মধ্যবর্তী এলাকায় ট্রেনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরায় আচমকা আগুন লেগে যায়। চোখের পলকে কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারপাশ। এই অগ্নিকাণ্ডের জেরে ট্রেনের দুটি কোচ সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে।
চলন্ত ট্রেন থেকে লাফের চেষ্টা
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার নির্দিষ্ট সময়েই তিরুবনন্তপুরম থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল ট্রেনটি। রবিবার ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ যখন যাত্রীরা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক তখনই ট্রেনের ‘বি-১’ (B-1) কোচে আগুন দেখতে পান কয়েকজন। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে ট্রেনের ভেতরেই শুরু হয়ে যায় হুড়োহুড়ি। আতঙ্ক এতটাই চরম পর্যায়ে পৌঁছয় যে কয়েকজন যাত্রী চলন্ত ট্রেন থেকেই ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করেন।
যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ট্রেনের গার্ড সঙ্গে সঙ্গে লোকো পাইলট বা চালককে আপদকালীন বার্তা পাঠান। চালকও কোনো সময় নষ্ট না করে জরুরি ব্রেক কষে ট্রেনটিকে লাইনের মাঝেই থামিয়ে দেন। রেলের কর্মী এবং যাত্রীদের তৎপরতায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ শুরু হয়। জানা গিয়েছে, বি-১ কোচে মোট ৬৮ জন যাত্রী ছিলেন, যাঁদের প্রত্যেককে সুরক্ষিতভাবে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের ইঞ্জিন এবং রেলের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। বেশ কিছুক্ষণের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
তদন্তে রেল বোর্ড
এই অগ্নিকাণ্ডের জেরে ওই লাইনে সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হয়। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ শর্ট সার্কিট না কি অন্য কিছু, তা এখনও স্পষ্ট নয়। রেলের তরফে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কোনো প্রাণহানি না হলেও, ভোরের আলো ফোটার আগেই ট্রেনের কামরায় এমন অগ্নিকাণ্ড রেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আবারও বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।






