রাজ্যের খবর

বড়মা মন্দিরে আর চলবে না ‘ভিআইপি কালচার’! লাইনে দাঁড়াতে হবে সবাইকে, নির্দেশ বিধায়কের

নৈহাটির বড়মা মন্দিরের বর্তমান পরিচালন কমিটি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হল

Truth of Bengal: নৈহাটি বিধানসভা উপনির্বাচনে জয়ের পর দেওয়া নিজের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে এক বড়সড় পদক্ষেপ নিলেন নতুন বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়। ভক্তদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও আবেগকে মান্যতা দিয়ে অবশেষে ঐতিহ্যবাহী নৈহাটির বড়মা মন্দিরের বর্তমান পরিচালন কমিটি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হলো। নবনির্বাচিত বিধায়কের নির্দেশ মেনে ট্রাস্টি বোর্ডের একটি বিশেষ বৈঠকে এই পুরোনো কমিটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে মন্দিরের নিত্যদিনের পুজো ও অন্যান্য কাজকর্ম যাতে বিঘ্নিত না হয়, তার জন্য নতুন কমিটি গঠিত না হওয়া পর্যন্ত বিদায়ী কমিটির সম্পাদক তাপস ভট্টাচার্যই অন্তর্বর্তীকালীনভাবে দৈনন্দিন দায়িত্ব সামলাবেন।

কমিটি ভাঙার পাশাপাশি বড়মা মন্দিরে বছরের পর বছর ধরে চলে আসা ‘ভিআইপি সংস্কৃতি’ বা বিশেষ সুবিধাভোগী প্রথা সম্পূর্ণ বন্ধ করার এক নজিরবিহীন বার্তা দিয়েছেন বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়। এখন থেকে মন্দিরে কোনো প্রভাবশালী বা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য আলাদা করে প্রতিমা দর্শনের বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে না। সাধারণ পুণ্যার্থীদের দুঃখ-কষ্ট লাঘব করতে প্রত্যেককেই এবার থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে বড়মার দর্শন করতে হবে। সুমিত্র চট্টোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, শুধুমাত্র সাংবিধানিক পদাধিকারী এবং যাঁদের বিশেষ সরকারি নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় রয়েছে, তাঁরা ছাড়া আর কেউ এই মন্দিরে আলাদা কোনো বিশেষ অগ্রাধিকার পাবেন না। সকলকেই সাধারণ মানুষের সঙ্গে এক সারিতে এসে পুজো দিতে হবে।

এতদিন এই প্রভাবশালী মন্দির কমিটির সভাপতি পদে আসীন ছিলেন নৈহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান অশোক চট্টোপাধ্যায়। ১৬ জনের এই বিদায়ী কমিটিতে সাবেক বিধায়ক, তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলরদের পরিবারের সদস্য এবং বিদায়ী সাংসদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের একচেটিয়া প্রভাব ছিল বলে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ তুলে আসছিল বিজেপি নেতৃত্ব। গেরুয়া শিবিরের দাবি, জাগ্রত বড়মার মন্দিরকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত এবং স্বচ্ছ করতেই এই বড়সড় প্রশাসনিক রদবদল করা হয়েছে। এই বিষয়ে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্যটি করেছেন নতুন বিধায়ক নিজেই। তিনি সাফ জানান, বড়মা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নন, তিনি সবার। সেই কারণেই আগামী দিনে গঠিত হতে চলা নতুন কমিটিতে কোনো রাজনৈতিক রং না রেখে স্থানীয় শিক্ষক, চিকিৎসক সহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট ও সজ্জন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে নৈহাটির ভূমিপুত্র তথা প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী রাঘব চট্টোপাধ্যায়কেও এই নতুন কমিটিতে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে বলে বিধায়ক উল্লেখ করেছেন। আগামী জুন মাসের শুরুতেই এই নতুন কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে গঠন করা হবে।

উল্লেখ্য, একশো বছরেরও বেশি পুরোনো নৈহাটির এই জাগ্রত বড়মাকে ঘিরে সাধারণ মানুষের আবেগ ও বিশ্বাস অপরিসীম। পূর্বে কেবল দীপান্বিতা কালীপুজোর সময়েই এখানে জনসমুদ্রের দেখা মিলত, তবে বর্তমানে প্রায় সারা বছরই মন্দিরে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় থাকে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলা ছাড়াও নদীয়া, হুগলি ও কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ বড়মার চরণে পুজো দিতে আসেন। এই বিপুল ভিড়কে আরও সুশৃঙ্খলভাবে সামাল দিতে এবং দর্শনার্থীদের পুজো দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করতে দুটি আলাদা লাইনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন বিধায়ক। অন্য দিকে, বিদায়ী কমিটির সম্পাদক তাপস ভট্টাচার্য জানান, নতুন বিধায়কের নির্দেশিকা মেনেই সমস্ত আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। খুব দ্রুত নতুন কমিটি গঠন সম্পন্ন হবে এবং এই অন্তর্বর্তী সময়ে ভক্তদের পুজো দিতে বা মন্দিরে এসে কোনো ধরনের সমস্যায় পড়তে হবে না।

Related Articles