দেশ

১২ আসনের দাবি হেমন্তের দলের! বিহার নির্বাচনে চাপে ইন্ডিয়া জোট

দলের দাবি, তারা বিহারের ১২টি আসনে লড়ার প্রস্তাব দিয়েছে এবং সেই আসনগুলি যেন সম্মানজনক  হয়, সেটিও চায় তারা।

Truth Of Bengal: আসন্ন বিহার বিধানসভা নির্বাচনে আসন সমঝোতা নিয়ে এবার সময়সীমা বেঁধে দিল ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম)। ১৪ অক্টোবরের মধ্যে যদি ‘ইন্ডিয়া’ জোট (বিহারে পরিচিত মহাগঠবন্ধন নামে) কোনও সিদ্ধান্তে না পৌঁছয়, তবে এককভাবেই সিদ্ধান্ত নেবে হেমন্ত সোরেনের দল। জেএমএমের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র সুপ্রিয় ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ‘আমরা মহাগঠবন্ধনের সঙ্গেই লড়তে চাই। তবে দ্রুত আসন সমঝোতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। মনোনয়ন জমার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। তাই আর দেরি করা উচিত নয়।’

জেএমএম ইতিমধ্যেই ভোটের প্রস্তুতি সেরে ফেলেছে বলে দাবি করেছেন তিনি। দলের দাবি, তারা বিহারের ১২টি আসনে লড়ার প্রস্তাব দিয়েছে এবং সেই আসনগুলি যেন সম্মানজনক  হয়, সেটিও চায় তারা। সুপ্রিয় ভট্টাচার্য স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১৯ সালের ঝাড়খণ্ড বিধানসভা ভোটে আরজেডিকে সাতটি আসন ছাড়ার পরও তারা কেবল ছাতরা কেন্দ্রে জয় পেয়েছিল। তিনি বলেন, আমরা সেই জয়ী আরজেডি বিধায়ককে মন্ত্রিসভায় রেখেছিলাম।

এছাড়া ২০২৪ সালের নির্বাচনে আরজেডিকে ঝাড়খণ্ডের মোট আসনের পাঁচ শতাংশ, অর্থাৎ ছয়টি আসন ছাড়ার কথাও উল্লেখ করেন জেএমএম মুখপাত্র।দলের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক ১৫ অক্টোবর নির্ধারিত হয়েছে। তার আগেই আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করতে চায় জেএমএম। না হলে, একক পথে হাঁটবে তারা। সুপ্রিয়ের হুঁশিয়ারি, ‘জেএমএম জানে কীভাবে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়তে হয়। আমরা চাই না জোটসঙ্গীদের মধ্যে কোনও বিভ্রান্তি বা ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হোক।’ এখান থেকেই স্পষ্ট যে, ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই যেন জটিল হচ্ছে বিহারের জোট সমীকরণ।  ইন্ডিয়া জোটের মাথাব্যাথা বাড়াচ্ছে সিপিআইএম লিবারেশন, জেএমএম।

উল্লেখ্য,  নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত নির্ঘণ্ট অনুযায়ী, এ বছর বিহারের ২৪৩টি আসনে দু’দফায় ভোট হবে। প্রথম দফায় ৬ নভেম্বর, মোট ১২১টি আসনে ভোট। মনোনয়ন জমা ১০-১৭ অক্টোবর, পরীক্ষা ১৮ অক্টোবর, নাম প্রত্যাহার ২০ অক্টোবর পর্যন্ত।দ্বিতীয় দফায়  ১১ নভেম্বর, মোট ১২২টি আসনে ভোট। মনোনয়ন জমা ১৩-২০ অক্টোবর, নাম প্রত্যাহার ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত। ভোট গণনা ১৪ নভেম্বর।এ বারের নির্বাচনে মূল লড়াই এনডিএ বনাম আরজেডি-কংগ্রেস-বামেদের মহাগঠবন্ধনের মধ্যে হলেও, জেএমএম সেই জোটে থাকবে কি না— এখন সেটাই বিহারের রাজনীতিতে বড় প্রশ্ন।

Related Articles