দেশ

নেপালে না নামিয়ে যাত্রীদের নিয়ে লখনউ- এয়ার ইন্ডিয়ার চরম গাফিলতিতে বিমানবন্দরেই ধর্ণায় পর্যটকরা

নেপালের আকাশে পৌঁছেও অবতরণ না করে বিমানটি পুনরায় বেঙ্গালুরুতে ফিরে আসে

Truth of Bengal: বেঙ্গালুরু থেকে নেপালগামী এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের একটি বিমানকে ঘিরে কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তুলকালাম কাণ্ড ঘটে গেল। প্রায় ১৮ ঘণ্টা দেরি এবং গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন যাত্রীরা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই টানাপড়েন শুক্রবার পর্যন্ত গড়ালে বিমানবন্দরের টার্মিনাল ২-এর অভিবাসন এলাকায় এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ দেখান পর্যটকরা।

যাত্রীদের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ ১৮০ জন যাত্রী নিয়ে বিমানটি কাঠমান্ডুর উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। কিন্তু নেপালের আকাশে পৌঁছেও অবতরণ না করে বিমানটি পুনরায় বেঙ্গালুরুতে ফিরে আসে। কেন নামা সম্ভব হলো না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের তরফে কোনো স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। এরপর শুক্রবার সকালে ফের একই বিমানে যাত্রীদের নিয়ে রওনা দেওয়া হয়, কিন্তু এবারও কাঠমান্ডুতে নামতে ব্যর্থ হয়ে বিমানটিকে লখনউতে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকার পর ক্ষুব্ধ যাত্রীরা বিমানের ভেতরেই প্রতিবাদ শুরু করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বাধ্য হয়ে বিমানটি যাত্রীদের নিয়ে ফের বেঙ্গালুরুতে ফিরে আসে। বেঙ্গালুরু বিমানবন্দরে নামার পর দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষারত যাত্রীরা টার্মিনালের ভেতরেই ধর্ণায় বসেন। আন্দোলনকারী যাত্রীদের বড় অংশই কর্ণাটকের বাসিন্দা, যারা ১০ দিনের নেপাল সফরের পরিকল্পনা নিয়ে বেরিয়েছিলেন। তাদের অভিযোগ, এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ তাদের সঙ্গে সঠিক যোগাযোগ করেনি এবং সংশোধিত সময়সূচী নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে।

অন্যদিকে, এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের এক মুখপাত্র গোটা ঘটনার জন্য কাঠমান্ডুর প্রতিকূল আবহাওয়াকে দায়ী করেছেন। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ২৬ ও ২৭ ফেব্রুয়ারি আবহাওয়া অত্যন্ত খারাপ থাকায় বিমানগুলো ঘুরিয়ে দিতে হয়েছে। যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে হোটেলের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং তাদের জন্য টিকিটের টাকা ফেরত বা বিনা খরচে পুনরায় টিকিট বুকিংয়ের বিকল্প দেওয়া হয়েছে। আটকে পড়া যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দিতে শনিবার একটি বিশেষ ফ্লাইটের পরিকল্পনা করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

Related Articles