আধার কার্ড নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়! SIR নিয়ে কমিশনকে সমর্থন সুপ্রিম কোর্টের
সিব্বাল যুক্তি দেন যে কমিশনের এই প্রক্রিয়ায় বিপুল সংখ্যক ভোটার বাদ পড়বেন, বিশেষত যারা প্রয়োজনীয় ফর্ম জমা দিতে পারবেন না।
Truth Of Bengal: SIR নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার শীর্ষ আদালত জানায়, আধার কার্ডকে নাগরিকত্বের (Aadhaar Citizenship) চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে ধরা যাবে না এবং তা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে হবে।
বিচারপতি সুর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন এক বেঞ্চ বিহারের ভোটার তালিকার বিশেষ সারসংক্ষেপ সংশোধন (এসআইআর) চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া একাধিক আবেদনের শুনানিতে এই পর্যবেক্ষণ করেন। পিটিশনারদের পক্ষে উপস্থিত সিনিয়র অ্যাডভোকেট কপিল সিব্বালকে উদ্দেশ করে বিচারপতি কান্ত বলেন, “নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য ঠিক, আধার কার্ডকে নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ (Aadhaar Citizenship) হিসেবে ধরা যাবে না। এটি যাচাই করতে হবে।”
শীর্ষ আদালত আরও বলে, প্রথমে ঠিক করতে হবে নির্বাচন কমিশনের এই যাচাই প্রক্রিয়া চালানোর ক্ষমতা আছে কি না। বিচারপতি কান্ত মন্তব্য করেন, “যদি তাদের ক্ষমতা না থাকে, তাহলে সবকিছু এখানেই শেষ। কিন্তু যদি ক্ষমতা থাকে, তাহলে তাতে কোন সমস্যা থাকার কথা নয়।”
সিব্বাল যুক্তি দেন যে কমিশনের এই প্রক্রিয়ায় বিপুল সংখ্যক ভোটার বাদ পড়বেন, বিশেষত যারা প্রয়োজনীয় ফর্ম জমা দিতে পারবেন না। তিনি দাবি করেন, ২০০৩ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকা ভোটারদেরও নতুন ফর্ম পূরণ করতে বলা হয়েছে, আর তা না করলে নাম কেটে দেওয়া হচ্ছে, যদিও তাদের বাসস্থানের কোন পরিবর্তন হয়নি (Aadhaar Citizenship)।
সিব্বালের মতে, নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী ৭.২৪ কোটি মানুষ ফর্ম জমা দিয়েছেন, কিন্তু প্রায় ৬৫ লক্ষ নাম কোন মৃত্যুর বা স্থানান্তরের সঠিক তদন্ত ছাড়াই বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি বেঞ্চকে জানান, “তাদের হলফনামাতেই স্বীকার করা হয়েছে যে কোন সমীক্ষা চালানো হয়নি।”
আদালত প্রশ্ন তোলে, ৬৫ লক্ষের এই হিসাব কীভাবে ধরা হল এবং অভিযোগের ভিত্তি কি যাচাই করা তথ্য, নাকি অনুমান। বেঞ্চ মন্তব্য করে, “আমরা বুঝতে চাই, আপনার উদ্বেগ কি কাল্পনিক, নাকি বাস্তব।” আদালত আরও জানায়, যারা ফর্ম জমা দিয়েছেন, তারা ইতিমধ্যেই খসড়া তালিকায় রয়েছেন।
এরপর সিব্বাল দাবি করেন, ২০২৫ সালের তালিকায় ভোটার সংখ্যা ৭.৯ কোটি, যার মধ্যে ৪.৯ কোটি ২০০৩ সালের তালিকায় ছিলেন এবং ২২ লক্ষ মৃত হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছেন (Aadhaar Citizenship)।
এদিকে, পিটিশনারদের পক্ষের আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ অভিযোগ করেন, মৃত্যু বা ঠিকানা পরিবর্তনের কারণে বাদ দেওয়া ভোটারদের তালিকা কমিশন আদালতে বা তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেনি। তিনি বলেন, “তারা বলছে কিছু তথ্য বুথ লেভেলের এজেন্টদের দেওয়া হয়েছে, কিন্তু অন্য কারও কাছে দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই।”
বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করে, যদি কোন ভোটার আধার এবং রেশন কার্ড সহ ফর্ম জমা দেন, তবে কমিশনের দায়িত্ব সেই তথ্য যাচাই করা। আদালত আরও জানতে চায়, যাদের কাগজপত্র অসম্পূর্ণ বলে জানানো উচিত ছিল, তাঁদের আসলেই কি এই তথ্য জানানো হয়েছে।






