ওয়াশিংটনে হাই-ভোল্টেজ বৈঠক! পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কতটা লাভজনক হবে ভারত-মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি?
গত তিন-চার মাস মুখোমুখি কোনো বৈঠক না হলেও ভার্চুয়ালি আলোচনা চলেছে দুই দেশের মধ্যে।
Truth Of Bengal: ভারত ও আমেরিকার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে তৈরি হওয়া দীর্ঘ জট কাটাতে সোমবার থেকে ওয়াশিংটনে শুরু হচ্ছে তিন দিনের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। বাণিজ্য মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব দর্পণ জৈনের নেতৃত্বে ১২ জন ভারতীয় আধিকারিকের একটি দল এই আলোচনায় অংশ নিতে ইতিমধ্যে আমেরিকায় পৌঁছেছেন। গত তিন-চার মাস মুখোমুখি কোনো বৈঠক না হলেও ভার্চুয়ালি আলোচনা চলেছে দুই দেশের মধ্যে। তবে সম্প্রতি মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের পুরোনো শুল্কনীতি খারিজ করে দেওয়ায় এবং এর পরিবর্তে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে সমস্ত দেশের ওপর ১০ শতাংশ হারে নতুন শুল্ক চাপানোয় আগের চুক্তির খসড়াটি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
গত ৭ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত অন্তর্বর্তী খসড়া অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্কের হার ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। বিনিময়ে ভারতও বেশ কিছু মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে আমেরিকা সব দেশের ওপর ঢালাও ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করায় ভারত আগের মতো বিশেষ সুবিধা পাবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ভারত ও আমেরিকা দুই দেশই চুক্তির শর্তগুলো নতুন করে খতিয়ে দেখতে চাইছে।
ফেব্রুয়ারি মাসে এই বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও তা স্থগিত হয়ে গিয়েছিল। পিটিআই সূত্রে খবর, যখন খসড়াটি প্রথম তৈরি হয়, তখন ভারত অন্যান্য দেশের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল। কিন্তু বর্তমানের ‘পারস্পরিক শুল্কনীতি’ এবং সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর সমীকরণ অনেকটাই বদলে গিয়েছে। ওয়াশিংটনের এই তিন দিনের ম্যারাথন বৈঠকে শুল্ক হ্রাসের নতুন কাঠামো তৈরি করাই এখন দুই দেশের প্রধান লক্ষ্য। এই আলোচনার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে আগামী দিনে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যিক সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি।






