বিনোদন

ছবির নাম ঘিরে তুমুল বিতর্ক, মনোজ বাজপেয়ীর সিনেমার বিরুদ্ধে এফআইআর

তাঁর আসন্ন ছবি ‘ঘুষখোর পণ্ডিত’ ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র আইনি টানাপড়েন।

Truth Of Bengal: শেক্সপিয়রের কথায়, “নামে কী আসে যায়?” কিন্তু সেই নাম নিয়েই এবার বড়সড় বিতর্কে জড়ালেন অভিনেতা মনোজ বাজপেয়ী। তাঁর আসন্ন ছবি ‘ঘুষখোর পণ্ডিত’ ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র আইনি টানাপড়েন। বুধবার নেটফ্লিক্সে ছবির ঘোষণা হতেই ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই নির্মাতাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের হয়। অভিযোগ, ছবির নামের মাধ্যমে ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়কে অপমান করা হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই কড়া আইনি পদক্ষেপের নির্দেশ দেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।

এরপর লখনউয়ের হজরতগঞ্জ থানায় একটি এফআইআর দায়ের হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ছবির ট্রেলার প্রকাশের পরই সোশাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। সেই প্রেক্ষিতেই সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক বিক্রম সিং মামলা রুজু করেন। পুলিশ জানিয়েছে, সামাজিক সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থেই পরিচালক, প্রযোজক-সহ ছবির সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এই বিতর্কের মাঝেই মুখ খুলেছেন মনোজ বাজপেয়ী। জানা গিয়েছে, ছবিতে তিনি অজয় দীক্ষিত নামে এক দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ আধিকারিকের চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যাকে ‘পণ্ডিত’ নামে পরিচয় করানো হয়েছে। চরিত্রটি মূলত ঘুষ নিয়ে কাজ হাসিল করা এক অসাধু পুলিশ অফিসার। এই চরিত্র এবং ছবির নাম নিয়েই আপত্তির ঝড় ওঠে।

ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমে মনোজ বাজপেয়ী বলেন, “এই ছবির নাম নিয়ে মানুষের আবেগ ও উদ্বেগকে আমি সম্মান করি। কোনও সিনেমা যদি কারও ভাবাবেগে আঘাত করে, তবে তা শোনা এবং গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।” তিনি আরও জানান, একজন অভিনেতা হিসেবে গল্প ও চরিত্র ফুটিয়ে তোলাই তাঁর দায়িত্ব, তবে এই ছবির মাধ্যমে কোনও সম্প্রদায়কে আঘাত করার উদ্দেশ্য নির্মাতাদের ছিল না।

মনোজ আরও বলেন, পরিচালক নীরজ পাণ্ডের সঙ্গে কাজ করে তিনি বুঝেছেন, তাঁর ছবিতে সব সময়ই সংবেদনশীল বিষয় অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। জনসাধারণের আবেগের কথা মাথায় রেখেই নির্মাতারা ছবির সমস্ত প্রচারমূলক ছবি ও ভিডিও সোশাল মিডিয়া থেকে সরিয়ে নিয়েছেন বলেও জানান অভিনেতা।

এদিকে, বৃহস্পতিবারই মহেন্দ্র চতুর্বেদী নামে এক ব্যক্তি দিল্লি হাইকোর্টে ছবির মুক্তি আটকাতে একটি পিটিশন দায়ের করেছেন। এর ফলে বলিউডের বিভিন্ন ফিল্ম সংগঠনের তরফেও সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে নির্মাতাদের। এই প্রসঙ্গে পরিচালক নীরজ পাণ্ডের বক্তব্য, “আমাদের ছবি সম্পূর্ণ কাল্পনিক একটি পুলিশি ড্রামা। ‘পণ্ডিত’ শব্দটি এখানে একটি চরিত্রের নাম মাত্র। এই গল্প কোনও জাতি, ধর্ম বা সম্প্রদায়কে নিয়ে নয়, একেবারেই একজন ব্যক্তিকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত।”

সব মিলিয়ে, নামকে ঘিরে শুরু হওয়া এই বিতর্ক এখন আইনি লড়াইয়ের রূপ নিয়েছে, আর তার কেন্দ্রে রয়েছেন মনোজ বাজপেয়ী ও ‘ঘুষখোর পণ্ডিত’ ছবির নির্মাতারা।