সুরসম্রাজ্ঞীর বিদায়ে স্তব্ধ সায়রা বানু, রমজানের সেই শেষ ফোনালাপই এখন সম্বল অভিনেত্রীর
সায়রা বানু জানান, মৃত্যুর মাত্র মাসখানেক আগে এক অনুষ্ঠানে শেষবার আশাজির মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি
Truth of Bengal: সুরসম্রাজ্ঞী আশা ভোঁসলের প্রয়াণে শোকাতুর গোটা বিনোদন জগত। দীর্ঘদিনের পারিবারিক বন্ধু তথা কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পীকে হারিয়ে স্মৃতিবিহ্বল হয়ে পড়েছেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী সায়রা বানু। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁদের শেষ দেখা এবং ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের নানা অজানা দিক তুলে ধরেছেন। সায়রা বানু জানান, মৃত্যুর মাত্র মাসখানেক আগে এক অনুষ্ঠানে শেষবার আশাজির মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। সম্ভবত সেটি ছিল অর্জুন তেন্ডুলকরের বিয়ের অনুষ্ঠান। সেখানে সঙ্গীতশিল্পীকে বেশ পরিশ্রান্ত এবং শারীরিকভাবে দুর্বল দেখাচ্ছিল। আশাজির সেই ভগ্ন স্বাস্থ্য দেখে মন ভারাক্রান্ত হয়ে উঠেছিল সায়রার। তবে সেই দুর্বলতা যে শিল্পীকে চিরতরে কেড়ে নেবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি অভিনেত্রী।
শেষবার তাঁদের মধ্যে ফোনেও দীর্ঘক্ষণ কথা হয়েছিল। সায়রা জানান, পবিত্র রমজান মাস চলাকালীন আশা ভোঁসলের একটি সাক্ষাৎকার তাঁর নজরে আসে। সেখানে রোজা, ঈদ এবং এই মাসের মাহাত্ম্য নিয়ে শিল্পীর আবেগঘন কথা শুনে সায়রা অবাক ও অভিভূত হয়েছিলেন। সেই বিষয় নিয়েই কথা বলতে তিনি ফোন করেছিলেন আশাজিকে। সায়রা আক্ষেপ করে বলেন, জীবনের শেষ ফোনালাপ যে রমজান মাসেই হবে, তা তাঁর কাছে ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। মঙ্গেশকর পরিবারের সঙ্গে দিলীপ কুমার ও সায়রা বানুর সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত নিবিড়। সেই পুরনো দিনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অভিনেত্রী বলেন, লতা মঙ্গেশকর এবং আশা ভোঁসলে দুজনেই তাঁদের পরিবারের সদস্যের মতো ছিলেন। তাঁরা একসঙ্গে দীর্ঘ সময় আড্ডা দিতেন। বিশেষ করে গান এবং ভালো খাবার ছিল তাঁদের আলোচনার মূল বিষয়। ধ্রুপদী মানসিকতার এই মানুষগুলো যখনই একত্র হতেন, সেখানে আনন্দের আবহ তৈরি হতো।
আশা ভোঁসলে যে ভোজনরসিক ছিলেন এবং রান্নার প্রতি তাঁর বিশেষ অনুরাগ ছিল, সে কথাও মনে করিয়ে দেন সায়রা। বিদেশে শিল্পীর নিজস্ব রেস্তোরাঁ থাকলেও সায়রা কখনও তাঁর হাতের রান্না খাওয়ার সুযোগ পাননি। তবে লতাজি এবং আশাজি নিয়মিত আসতেন দিলীপ কুমারের বাড়িতে। সেখানে সবাই মিলে পাত পেড়ে খাওয়ার সেই মুহূর্তগুলো এখন সায়রার কাছে কেবলই মধুর স্মৃতি। প্রিয় বন্ধুকে হারানোর এই যন্ত্রণাকে বর্ণনা করতে গিয়ে সায়রা জানান, ভালোবাসার মানুষকে চিরতরে হারিয়ে ফেলাটা এক ভয়ঙ্কর অনুভূতি।



