শিক্ষা

Skill Innovation: শিয়ালদহ ক্যাম্পাসে “স্কিল ফেয়ার ২০২৫’’, শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্পের প্রশংসা

George Telegraph's Sealdah campus hosts Skill Fair 2025

Truth Of Bengal: জর্জ টেলিগ্রাফ ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে স্কিল ফেয়ার একটি আবেগের বিষয় (Skill Innovation)। এই আসরে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নিজেদের দক্ষতা অনুযায়ী নানা প্রজেক্ট মেলে ধরেছে। মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে নিজেদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা প্রয়োগ করে কোম্পানির আধিকারিকদের খুশি করতে পেরেছে।

স্মার্ট ওয়াটার ডিসপেন্সার নামক প্রযুক্তিতে দেখা গিয়েছে, বিদ্যুতের সাহায্যে জলের গ্লাস তেষ্টা নিবারণ করছে। আধুনিক ব্যস্ত সময়ে কর্মস্থলে কর্মীদের জল খাওয়ার সময় থাকে না। ওই মেশিন ‘বিপ’ শব্দ করে নির্দিষ্ঠ সময় অনুযায়ী জল খাওয়ার সঙ্কেত পাঠাবে সেই ব্যক্তিকে।

অটোমোবাইলের শিক্ষার্থীরা একটি বিশেষ প্রযুক্তি নিয়ে স্কিল ফেয়ারে হাজির ছিল। এমন একটি হেলমেট তারা উদ্ভাবন করেছে, যা পরে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালালে তা বিশেষ সঙ্কেত দেবে। সেইসময় গাড়ি আর যাবেও না। এই আবিষ্কার বিশেষ প্রশংসা আদায় করে নিয়েছে। সৌরশক্তিতে গাড়িও চালানো যাবে। এটি ব্যাটারি চালিত গাড়ির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। এমনকি রাতে গাড়ি চালানোর সময় প্রযুক্তি দ্বারা যানকে নিয়ন্ত্রণ এবং সামগ্রিক সুরক্ষা প্রদানও করবে এই ব্যতিক্রমী প্রকল্প (Skill Innovation)।

কমপিউটার অ্যাপ্লিকেশন ও প্রোগ্রামিংয়ে কত নতুনত্ব বিষয় এসেছে, সেটিও দেখা গিয়েছে স্কিল ফেয়ারে। বাড়িতে কীরকম গাছ লাগালে সেটি বাস্তুর পক্ষে ভাল ও বিজ্ঞানসম্মত, সেটি রুট রাইস প্রযুক্তিতে দেখিয়েছে ছাত্রছাত্রীরা। সহচরী বিভাগে আবার হাসপাতাল থেকে শুরু করে চিকিৎসকদের প্যানেল, রক্তদাতাদের ঠিকানা, কিংবা অ্যাম্বুলেস পরিষেবার খোঁজও মিলবে। ইলেকট্রনিক ক্ষেত্রেও বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থীরা নানারকম উদ্ভাবনী প্রযুক্তিতে সকলকে অবাক করে দিয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ শ্রী গোরা দত্ত থেকে ম্যানেজিং ডিরেক্টর শ্রী সুব্রত দত্ত সবাই একবাক্যে মানছেন, ইনস্টিটিউটের ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের সর্বস্ব দিয়ে একেকটি প্রজেক্ট তৈরি করে সাড়া ফেলেছে। সুব্রত দত্ত জানান, ‘‘আমাদের শিক্ষার্থীরাই আমাদের আসল ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর।’’

ট্রাস্টি ও ডিরেক্টর শ্রী অনিন্দ্য দত্ত মন্তব্য করেন, “এই প্রকল্পগুলো শুধুমাত্র অ্যাসাইনমেন্ট নয়, এগুলো ভবিষ্যতের উদ্যোগের বীজও। প্রাত্যহিক জীবনে কঠিন সমস্যার বাস্তব সমাধান তারা এক সপ্তাহেই খুঁজে বের করেছে, যা সত্যিই প্রশংসনীয়। নিয়োগকারীদের আগ্রহই প্রমাণ করে, ওদের ভবিষ্যৎ কতটা সম্ভাবনাময়।”

এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে নেতাজি সুভাষ ওপেন ইউনিভার্সিটি (NSOU), ন্যাশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন (NSDC), এবং ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর ভোকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং (NCVET)। এবছরের “স্কিল ফেয়ার”-এর এক বিশেষত্ব ছিল, প্রতিটি প্রকল্প ছাত্রছাত্রীরা তাদের সেমিস্টার পরীক্ষা শেষ হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ করেছে। প্রকল্পগুলো এসেছে ইলেকট্রনিক্স, ইলেকট্রিক্যাল, কম্পিউটার হার্ডওয়্যার ও সফ্টওয়্যার, অটোমোবাইল, এসি ও স্মার্টফোন রিপেয়ারিং, প্যারামেডিকেল, বিউটি, অ্যাকাউন্টস এবং অ্যানিমেট্রিক্স বিভাগের ছাত্রছাত্রীদের পক্ষ থেকে (Skill Innovation)।

Related Articles