ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি-প্রবল হাওয়া, উত্তাল সমুদ্রে কী করলেন সায়নী ?
What did Saini do in the sparkling rain-strong wind, stormy sea?

The Truth Of Bengal : বিশ্বের দরবারে ফের জয়জয়কার বাংলার। ১১ ঘন্টা উত্তাল সমুদ্রে, তুমুল বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে সাঁতার কেটে কুক প্রণালী জয় করে বিশ্বের দরবারে বাংলার নাম উজ্জ্বল করলেন বঙ্গের এক জলকন্যা। ট্রুথ অফ বেঙ্গলের দর্শকদের জন্য রইল আজ এমনই এক লড়াকু মহিলার জীবন সংগ্রামের গল্প।
পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনা শহরের বারুইপাড়ার বাসিন্দা সায়নী দাস। ছোটবেলা থেকেই তার ইচ্ছে ছিল একজন সাঁতারু হওয়ার। সায়নীর বাবা রাধেশ্যাম ছিলেন একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। ছোটবেলাতে বাবার কাছ থেকেই সাঁতারের হাতে খড়ি হয় তাঁর। পাড়ার পুকুর থেকে শুরু করে গঙ্গা, সুইমিং পুল সর্বত্রই চলতো তার সাঁতারের রাজ। এরপর প্রথম ২০১৭ সালে ইংলিশ চ্যানেল জয় করেন তিনি। তারপর থেকেই মনে স্বপ্ন জাগে সপ্তসিন্ধু জয় করার। ব্যাস যেমন স্বপ্ন তেমনি প্রচেষ্টা। ইচ্ছে পূরণের লক্ষ্যে অনবরত চালিয়ে যান অনুশীলন। এরপর ২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার রডনেস চ্যানেল এবং ২০১৯ সালে আমেরিকার কাটালিনা জয় করেন এই বঙ্গ কন্যা। এরপর ২০২২ সালে এশিয়ার প্রথম মহিলা সাঁতারু হিসেবে আমেরিকার হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের বালুকায় চ্যানেল জয় করেন সায়নী। তার এই কার্যকলাপে বাংলার মুকুটে জোড়ে নয়া পালক। বিদেশের মাটিতে পা রেখেই দেশের ঝান্ডা কেড়ে এলে এই লড়াকু মহিলা। স্থানীয় সময় অনুযায়ী মঙ্গলবার নিউজিল্যান্ডে সকাল আটটা বেজে ২২ মিনিটে ওয়েলিংটনে সাঁতার শুরু করেন সায়নী এরপর হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় থেমে না থেকে, প্রবল বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে, শ্বাসকষ্ট নিয়ে মোট ২৬ কি.মি সাঁতার কাটেন তিনি। অবশেষে ১১ ঘণ্টা ৫১ মিনিট সাঁতারের পর অবশেষে সায়নী পৌঁছায় ফিনিশিং টাচ পয়েন্ট আরাপাওয়াতে।
সায়নী জানায়,” সমুদ্রের জল এতটাই ঠান্ডা ছিল যে কিছুক্ষণের মধ্যেই হাত পা অবশ হতে শুরু করে। তারপর জোয়ারের কারণে একের পর এক বড় বড় ঢেউয়ের ধাক্কায় বেশ কয়েকবার লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে গেছিলাম। কিন্তু চোখ বন্ধ করে শুধুমাত্র নিজের স্বপ্নটাকেই বাস্তবায়ন করার একটা পথ দেখতে পাচ্ছিলাম, তাই আর কোনরকম প্রতিকূলতার কাছে হার না মেনে এগিয়ে গিয়েছিলাম নিজের লক্ষ্য পূরণের পথে। ” এখন আপাতত নিউজিল্যান্ডের তার বাবা-মায়ের সঙ্গে রয়েছেন তিনি। তবে খুব শীঘ্রই দেশে ফেরার ভাবনা রয়েছে পরিবারের। সায়নীর পরবর্তী লক্ষ্য নর্থ চ্যানেল, সুগারু এবং জিব্রাইলটা প্রণালী। এই কয়েকটা ধাপ পেরোলেই সায়নীর মাথায় উঠবে সপ্তসিন্ধু পারের নয়া মুকুট। গোটা ট্রুথ অফ বেঙ্গল এর পক্ষ থেকে কুর্নিশ এই হার না মানা লড়াকু জলকন্যাকে। নিজের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে যেন একটু একটু করে সে এগিয়ে যায় এবং দেশের মুখ উজ্জ্বল করে






