সংসার চালাতে কুলির ভূমিকায় সন্ধ্যা মারাবি, জানুন চমকে দেওয়া তার জীবন সংগ্রাম
Sandhya Marabi in the role of a coolie to run the family, know the shocking life struggle

The Truth Of Bengal : বিয়ের পর স্বামীকে ঠকিয়ে অন্য পুরুষের সঙ্গে পালালো মহিলা কিংবা বিবাহিতা স্ত্রীকে ঠকিয়ে অন্য মহিলার সঙ্গে ঘর বেঁধেছে স্বামী এইসব খবরে যখন ভরপুর সোশ্যাল মিডিয়া। ঠিক সেই প্রেক্ষাপটে দাড়িয়ে একজন প্রকৃত মা এবং স্ত্রীয়ের দায়িত্ব কীভাবে পালন করতে হয় তা গোটা দেশকে শিখিয়েছিলেন সন্ধ্যা মারাবি নামে এক লড়াকু মহিলা।
২০১৬ সালে সন্ধ্যা মারাবির বর মারা যায়। তখন সন্ধ্যার বয়স মাত্র ২৮ বছর। এদিকে বাড়িতে রয়েছে দুই ছেলে এক মেয়ে এবং বৃদ্ধা শাশুড়ি। একমাত্র উপার্জনরত স্বামীর মৃত্যুর পর সন্ধ্যার মাথার ওপর আকাশ ভেঙে পড়ে। তখন দ্বিতীয় বিয়ে করার উপদেশ অনেকে দিলেও সবার উপদেশ উপেক্ষা করে সন্ধ্যা মনস্থির করেছিল স্বামীর মতই সে কুলির কাজ করবে। সন্ধ্যা ভেবেছিলেন, তিনি যদি দ্বিতীয় বিয়ে করেন, তাহলে তার তিন সন্তান ও বৃদ্ধা শাশুড়ি একেবারে ভেসে যাবে। এই যুগে এমন কোনো পরিবার নেই যারা তাদের পাঁচজনকে মেনে নেবে। কেউ প্রথমে দয়া দেখিয়ে মেনে নিলেও বছর ঘুরতে না ঘুরতেই তারা পাল্টে যাবে। তাই এমতাবস্থায় নিজের মৃত স্বামীর স্মৃতি আগলেই লড়াইয়ের পথ বেছে নিয়েছিলেন এই লড়াকু মহিলা।

সন্ধ্যা বর্তমানে যে স্টেশনে কুলির কাজ করে সেখানে সন্ধ্যা বাদে বাকি ৩৯ জন পুরুষ কুলি রয়েছে। সন্ধ্যার বাড়ি থেকে প্রায় ২৫০ কিমি দূরে কাটনি নামে একটি স্টেশন রয়েছে। সেখানে সন্ধ্যা প্রতিদিন ২৫০ কিমি পার করে কুলির কাজ করতে আসে বাড়িতে থাকা দুই ছেলে, এক মেয়ে ও বৃদ্ধা শাশুড়ির মুখে অন্ন জোগাতে। সন্ধ্যা যেদিন নিজের স্বামীর ৩৬ নম্বর কুলির লাইসেন্স আর লাল পোশাকটা নিয়ে স্টেশনে প্রথম পা রাখে, তখন সবাই চমকে গেলেও স্টেশনের বাকি ৩৯ জন কুলি তাকে সম্মান জানিয়ে পাশে এসে সাহস জোগিয়েছিলেন।

দেখতে দেখতে পার হয়ে যায় কয়েক বছর। আজ সন্ধ্যা মারাবির বয়েস ৩৬ বছর, এখনও ৩৯ জন পুরুষ কুলির সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নির্বিঘ্নে কাজ করে চলেছেন তিনি। ভারতবর্ষের প্রাক্তন রেলমন্ত্রী পিযুষ গোয়েল থেকে শুরু করে বর্তমান রেলমন্ত্রী আশ্মিনি বৈষ্ণব সকলেই সন্ধ্যার লড়াইয়ের এই গল্পটা জানেন। শুধু তাই নয় সন্ধ্যার গোটা গ্রামবাসী তাকে নিয়ে গর্বিত বোধ করে।

কিন্তু এ বিষয়ে সন্ধ্যা জানায়, “একটা সময় এমন ছিল যখন খাবার জুটত না, পরিবারের কথা মাথায় রেখে একপ্রকার বাধ্য হয়েই কাঁধে ওজন তুলে নিয়েছিলাম। এখন আর কোনো আক্ষেপ নেই। আমার তিন ছেলে মেয়েকে আমি পড়াচ্ছি। অসুস্থ শ্বাশুড়ীকে ওষুধ কিনে দিচ্ছি। এখন শুধু একটাই স্বপ্ন, ছেলেমেয়ে গুলো পড়াশোনা শিখে যেন মানুষের মত মানুষ হয়।” আর এই সন্ধ্যার মতো মায়ের জন্যই হয়তো রকি ভাই বলেছিলেন, “duniya ka sabse bara yodha ma hota hey”






