Narendra Modi: নরেন্দ্র মোদির উত্তরসূরি কে হবেন? আরএসএ-এর কাছে নেই উত্তর
মোদির পর দেশের প্রধানমন্ত্রী কে? বলাই বাহুল্য, দেশের যে কোনও নির্বাচনে, যেখানে বিজেপি লড়ছে, সেখানে আরএসএস-এর একটি ভূমিকা থাকে।
জয়ন্ত চক্রবর্তী: রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ বা আরএসএস-এর শতবার্ষিকী অনুষ্ঠান চলছিল। এরই মধ্যে সরসংঘ পরিচালক মোহন ভগবতকে এমন অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে তা ভাবেননি সংঘের তাবড় কার্যকর্তারা। কিন্তু মোহন ভগবত সেই তোপের মুখে পড়লেন— মোদির পর দেশের প্রধানমন্ত্রী কে? বলাই বাহুল্য, দেশের যে কোনও নির্বাচনে, যেখানে বিজেপি লড়ছে, সেখানে আরএসএস-এর একটি ভূমিকা থাকে। তা সে যতই তারা দাবি করুক যে, তারা বিজেপির সাংস্কৃতিক শাখা ছাড়া আর কিছুই নয়। এই কথাটি সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুও জানে যে আরএসএস-এর অনুমোদন ছাড়া বিজেপিতে একটি ঘাসের পাতাও নড়ে না। প্রধানমন্ত্রী মোদির পদগ্রহণে আরএসএস-এর সিলমোহর ছিল বলেই তা সম্ভব হয়েছে।
এই যে দিলীপ ঘোষ একদা রাজ্য বিজেপির দণ্ডমুণ্ডের কর্তা হয়েছিলেন, তাতে তো আরএসএস-এর অনুমোদন ছিল বলেই তা সম্ভব হয়েছিল। তাই আরএসএস-এর শতবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে এই প্রশ্ন ওঠা একদম অস্বভাবিক কি! হয়তো তা অপ্রাসঙ্গিক হতে পারে কিন্তু অস্বাভাবিক মোটেই নয়। বিশেষ করে যেখানে সরসংঘ চালক মোহন ভগবতের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ সাংবাদিকরা প্রায়ই পান না। মোহন ভগবতের কাছে তাই প্রশ্ন ছিল, দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে? কে হতে পারেন মোদির উত্তরসূরি? অস্বস্তিকর এই প্রশ্নের জবাবে মোহন ভগবত তাঁর স্বভাবসুলভ কূটনীতিকেই ঢাল করলেন। সাফ জানালেন যে, বিষয়টি বিজেপির শীর্ষকর্তাদের চিন্তা ভাবনার উপর এবং দেশের সার্বিক রাজনীতির ওপর নির্ভরশীল। তিনি নরেন্দ্র মোদির কোর্টেও বল ঠেলে দেন, এই বলে যে উত্তরাধিকার কাকে পাবেন তা অনেকটা নির্ভর করছে মোদির ওপরই। অর্থাৎ আরএসএস প্রধান কি বলতে চাইলেন যে তাঁদের পছন্দ মোদি এবং মোদিই। তাই, উত্তরাধিকার খোঁজার প্রয়োজন আদৌ নেই। বিজেপিতে ব্যক্তি পুজোর স্থান নেই বলেই মোহন ভগবত সত্যি কথাটা স্পষ্ট ভাবে বলেননি। বিজেপিতে প্রধানমন্ত্রী পদে বসার জন্য বিকল্প কোনও নাম নেই। স্বীকার করি আর নাই করি যে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদি একটি ট্রেন্ড সেট করেছেন। আন্তর্জাতিক দরবারে আজ ভারতের নাম যে সম্ভ্রমের সঙ্গে উচ্চরিত হয় তার অনেকটাই কৃতিত্ব মোদি দাবি করতে পারেন। ডিজিটাল ইন্ডিয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন মোদি। ‘অনলাইন’ আজ দেশের সর্বত্র। ফুচকা খেয়েও লোকে আজ অনলাইন পেমেন্ট করছে! এর থেকে আর কতটা ডিজিটাল ইন্ডিয়া হওয়া সম্ভব? কিন্তু, তা সত্ত্বেও মনে রাখতে হবে ২০২৯-এ পরের লোকসভা নির্বাচন। মোদির বয়স তখন প্রায় ৮০ হবে। বিজেপির ঘোষিত নীতি অনুযায়ী মোদি আর প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে পারেন না। তাই কী সরসংঘ পরিচালককে এমন প্রশ্নের মুখে পড়তে হল?
এই কথাটি দিনের আলোর মতো স্পষ্ট যে, মোদির সঙ্গে আরএসএস-এর সম্পর্ক আগের মতো হৃদ্য নয়। আমেরিকার গালে চুমু খাব আবার ইজরায়েলের গালে চুমু খাবো— মোদির এই বিদেশ নীতি আরএসএস-এর না-পসন্দ! মোদির মেগালো ম্যানিয়াক আচরণ নিয়েও আরএসএস-এর কিছু প্রশ্ন আছে। তাও মোহন ভগবত মোদি ছাড়া এই মুহূর্তে বিকল্প কোনও নাম নিয়ে আলোচনায় উৎসাহী নন। এর একটিই কারণ, মোদি পরবর্তী নেতারা কেউ তৈরি নন দেশের দায়িত্ব নেওয়ার জন্যে। তাই ৮০ বছরের মোদির বিকল্প কোনও নাম আরএসএস প্রধানের মাথায় আসেনি। এই ৭৫-এও মোদির দিন শুরু হয় ভোর চারটের সময়। লোহা চিবিয়ে হজম করার শক্তি তিনি রাখেন। বিজেপি কিংবা আরএসএস-কে পাশে সরিয়ে রেখে নিজের একটি ব্র্যান্ড তিনি তৈরি করেছেন— ‘ব্র্যান্ড মোদি’। এই ব্র্যান্ডটি দেশের পক্ষে কত প্রয়োজনীয় তা বোঝেন সরসংঘ পরিচালক। তাই না পছন্দ হলেও অ্যান্টিবায়োটিক গিলতেই হচ্ছে মোহন ভগবতকে।
সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে যে, মোদিকে ২০২৯ সালেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান দেশের মানুষ। ৩৮ শতাংশ মানুষই চান যে মোদি আবার আসুন। বিজেপির অন্য নেতারা সেখানে গড়পড়তা ৪ শতাংশের বেশি উঠতে পারেননি। দেশ অপ্রস্তুত থাকতে নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন, রাজ্যের প্রাপ্য অর্থ বকেয়া রাখা, কথায় কথায় পশ্চিমবঙ্গকে তুলোধনা করার প্রবণতা বাদ দিলে একটা কথা মনে রাখা দরকার, মোদির উত্তরসূরি এখনও তিনিই। তা যতই অমিত শাহ, যোগী আদিত্যনাথ, নীতিন গড়কড়ির নাম উঠে আসুক না কেন।






