সম্পাদকীয়

খুদের বিনিময়ে নাম, দেশপ্রেমে জীবন, ক্ষুদিরাম বসুর গল্প

এই সমস্ত দেখে ক্ষুদিরামের নিজের প্রতি ক্রোধ তৈরি হয়। সে মনস্থির করে, এভাবে আমাকেও বিদেশি বস্ত্র ত্যাগ করে স্বদেশি বস্ত্র পরিধান করতে হবে।

রাজেশ মালিক, পূর্ব বর্ধমান: সালটা ছিল ১৯০৩ খ্রিস্টাব্দ। ক্ষুদিরামের বয়স তখন ১৪ বছর। স্কুলে পড়ে। তার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু ফণীভূষণ ঘোষ। সে একদিন বোম্বাই মিলের একটি নতুন কোরা ধুতি পরে স্কুলে এলে। ফণীভূষণের পোশাক দেখে স্কুলের অন্যান্য ছাত্ররা ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করতে শুরু করে। ফণীভূষণ অন্যান্য ছাত্রদের বিদ্রূপে খুবই জর্জরিত হয় এবং একা বসে থাকে। এই সমস্ত দেখে ক্ষুদিরামের নিজের প্রতি ক্রোধ তৈরি হয়। সে মনস্থির করে, এভাবে আমাকেও বিদেশি বস্ত্র ত্যাগ করে স্বদেশি বস্ত্র পরিধান করতে হবে।

আমরা কেন বিদেশি বস্ত্র ধারণ করবো? তাই ছাত্রদের উদ্দেশে একটি উদ্দীপ্ত ভাষণ দিয়েছিল ক্ষুদিরাম। সেই ভাষণের মাধ্যমে স্বদেশি কাপড় পরার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বুঝিয়েছিল। ক্ষুদিরাম বলেছিল, মায়ের দেওয়া মোটা কাপড় যত পুরনো বা ছেড়া হোক না কেন তা আমাদের দেশের জিনিস। তা পরতে অপমান বা লজ্জার কি কারণ থাকতে পারে? দিশি কাপড় আমাদের গোলামির চিহ্ন নয়। যদি আমি ফণীর মতো দিশি কাপড় পেতাম, তা হলে সে কাপড়খানা কোমরে জড়িয়ে সকলের সামনে ছুটে বেড়াতাম।

এই বলে ফণীভূষণকে বুকে জড়িয়ে ধরে ক্ষুদিরাম। সেই থেকেই ক্ষুদিরামের দেশ মায়ের প্রতি ভালবাসা বোঝা যায়। ক্ষুদিরাম ছোটো থেকে দেশের অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের প্রতি সাহায্য করার জন্য ছুটে গেছে। চাঁদা তুলে টাকা জোগাড় করে মহামারি কবলিত এলাকার মানুষের ওষুধ ও খাবার জোগাড় করে দিয়েছে। দেশের মানুষের প্রতি তার এই সহনাভূতি ও ভালবাসা সকলের মনে এক আলোড়ন সৃষ্টি করে। ৩ ডিসেম্বর বীর বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর জন্মদিন পার হয়ে গেল।

১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দের ৩ ডিসেম্বর, ঘড়ির কাঁটায় বিকেল পাঁচটার সময় মেদিনীপুর শহরের হাবিবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করে ক্ষুদিরাম বসু। ক্ষুদিরামের মাতার নাম লক্ষ্মীপ্রিয়া বসু ও পিতার নাম ঐলোক্যনাথ বসু। চার দিদির পর জন্ম হয় ক্ষুদিরামের। যদিও জন্মের পর সংশয় ছিল বাঁচবে কি না। কারণ এর আগে পর পর দুটি ছেলে মারা যায়। তাই সকলের মনে সংশয় ছিল। এই বিপদ থেকে রক্ষা পেতে প্রচলিত সংস্কার মেনে লক্ষ্মীপ্রিয়াদেবী এক মুঠো খুদের বিনিময়ে সদ্যোজাত পুত্রকে বড় দিদি অপরূপা হাতে তুলে দিল। একমুঠো খুদের বিনিময়ে অপরূপাকে দেওয়া নবজাতক শিশুর নামকরণ হয় ক্ষুদিরাম।