সম্পাদকীয়

বাংলার ফুটবলের মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব আজ ডায়মন্ড হারবারের

কেউ কেউ আবার এক কাঠি বেড়ে বলছেন, কয়লা চুরি আর গরু চুরির টাকায় এই টিম।

জয়ন্ত চক্রবর্তী (বিশিষ্ট সাংবাদিক): আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ডুরান্ড কাপ ফাইনাল। ডায়ামন্ড হারবার এফসি-র (Diamond Harbour FC) দিকে তাকিয়ে আছে সারা বাংলা। দশ কোটি বাঙালির আজ অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে। ডায়ামন্ড হারবার পারুক চাই না পারুক, বাঙালি কিন্তু পেয়ে গিয়েছে মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল, মহমেডান ছাড়াও সমর্থন করার জন্যে চতুর্থ একটি দলকে। চার বছরে ডায়ামন্ড হারবার এফসি এই আসাধ্যসাধন করেছে। সোশ্যাল মিডিয়া খুলে দেখছি যে, ডায়মন্ড হারবার এফসি-কে কেউ কেউ ভাইপোর দল বলে ডাকতে আরম্ভ করেছেন। কেউ কেউ আবার এক কাঠি বেড়ে বলছেন, কয়লা চুরি আর গরু চুরির টাকায় এই টিম।

দলের ওনার অভিষেক বন্দোপাধ্যায় বলেই এই কুৎসা রটানোর চেষ্টা! কই কেউ তো একবারও বলছেন না যে মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল, মহমেডান যেখানে ব্যর্থ সেখানে তথাকথিত এই ‘ভাইপোর টিম’-ই ভরসা। মোহনবাগানের বয়স ১৩৬ বছর, ইস্টবেঙ্গলের ১০৫ বছর, মহমেডানের ১৩৪ বছর। সেই তুলনায় গুটি গুটি পায়ে হাঁটতে শুরু করেছে অভিষেক বন্দোপাধ্যায় এর এই দলটি। ইস্টবেঙ্গল প্রতিষ্ঠার ঠিক একশো বছর পরে যাত্রা শুরু এই ডায়মন্ড হারবার এফসি-র (Diamond Harbour FC)। সেই ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে আজ ডুরান্ড-এর ফাইনালে বাঙালির বিজয় কেতন ওড়ানোর দায়িত্ব ডায়মন্ড হারবার এফসি-র ওপর।

দোহাই আপনাদের, এই দলটিকে ভাইপোর দল বলে চিহ্নিত না করে আমরা বরং বলি আমাদের দল। যেমন আমরা বলে থাকি মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল কিংবা মহমেডানের ক্ষেত্রে। ২০২০ সালে অভিষেক বন্দোপাধ্যায় যখন এই দল স্থাপনা করেন, তখন অনেকেই বাঁকা হাসি হেসেছিলেন সফরী ফরফরাতে বলে অর্থাৎ অল্পজলে চিংড়ি মাছের লাফালাফির মতো। তখন কিন্তু স্বপ্ন দেখা শুরু হয়ে গিয়েছে। স্বপ্ন দেখছেন অভিষেক বন্দোপাধ্যায় এবং তাঁর ভাই আকাশ বন্দোপাধ্যায় যিনি দলটির দেখভাল করেন। স্বপ্ন দেখছেন তাঁরা আইএসএল খেলার, সর্বকভারতীয় টুর্নামেন্ট জেতার। সেই স্বপ্নপূরণের পথে আজ ডায়ামন্ড হারবার এফসি। এখনও কী ভাইপোর দল কিংবা গরু-কয়লা চুরির টাকায় তৈরি দল বলে অবজ্ঞা করবেন?

বিগত পাঁচ বছর বা চার বছর ধরে ডায়মন্ড হারবার (Diamond Harbour FC) নিজেদের তৈরি করেছে। খেলোয়াড়রা একসঙ্গে হোটেলে থাকেন শুধু ডুরান্ডের জন্য নয়, তেইশ অনূর্ধ্ব কলকাতার প্রিমিয়ার লিগেও। টিম বাসে দলটি যাতায়াত করে। দলে স্প্যানিশ কোচ একদা মোহনবাগানের প্রশিক্ষক কিবু ভিকুনা। আধুনিক সব পরিকাঠামো মজুত দলটির জন্যে। আমি নিজে গিয়ে দেখে এসেছি বজবজে গিয়ে ডায়মন্ড হারবারের এমপি গোল্ড কাপ। কয়েক বছর আগে এই ফাইনাল দেখে বুঝেছিলাম ভারতীয় ফুটবলে নতুন শক্তি আসছে। দোহাই আপনাদের এই শক্তিকে ভাইপোর দল আখ্যা দেবেন না। এটা আপনার দল, আমার দল। আসুন, এই দলটার জন্যে আজ গলা ফাটাই!

Related Articles