অভিষেকের ‘শান্তিনিকেতনে’ ঝুলল পুরসভার নোটিস! ৭ দিনের ডেডলাইন, না ভাঙলে চলবে বুলডোজার
৭ দিনের চরম সময়সীমা! বেআইনি অংশ না ভাঙলে গুঁড়িয়ে দেবে পুরসভা, চরম বিপাকে অভিষেক
Truth of Bengal: দক্ষিণ কলকাতার রাজনীতির অলিন্দে হরিশ চ্যাটার্জী স্ট্রিটের পেল্লায় প্রাসাদ ‘শান্তিনিকেতন’-এর সাথে রাজ্যের কমবেশি সকলেই পরিচিত। স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে এই বাড়িতেই থাকেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পাশাপাশি ১২১ কালীঘাট রোডেও রয়েছে তাঁর আরও একটি বাড়ি, যা নথিতে ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ (Leaps and Bounds) সংস্থার সম্পত্তি এবং তাঁর মায়ের নামে দেখানো রয়েছে। সোমবার গভীর রাতে এই দুই হাই-প্রোফাইল বাড়ির দেওয়ালে কলকাতা পুরসভার (KMC) নোটিস সশরীরে টাঙিয়ে দেওয়া হতেই তোলপাড় পড়ে গেল রাজ্য রাজনীতিতে।
নির্মাণে কারচুপি থাকলে চলবে বুলডোজার
পুরসভার নোটিশে অত্যন্ত কড়া ভাষায় জানানো হয়েছে, যদি মূল নকশা বা স্যাঙ্কশন প্ল্যানের বাইরে গিয়ে এই দুটি বহুতলে কোনও অতিরিক্ত বা বেআইনি নির্মাণ করা হয়ে থাকে, তবে আগামী ৭ দিনের মধ্যে তা নিজেদের উদ্যোগে ভেঙে ফেলতে হবে। যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তাঁর পরিবার সেই বিতর্কিত অংশ না ভাঙেন, তবে কলকাতা পুরসভা আইন মোতাবেক বুলডোজার এনে সেই বেআইনি নির্মাণ গুঁড়িয়ে দেবে। ইতিপূর্বেই পুরসভার ইঞ্জিনিয়াররা এই সম্পত্তির খতিয়ান চেয়ে অ্যাসেসমেন্ট করেছিলেন, যার পরেই এই চূড়ান্ত চরমপত্র দেওয়া হল।
ববিকে কোনও গুরুত্বই দিচ্ছে না পুরসভা?
একসময়ের দাপুটে তৃণমূল নেতা তথা কলকাতা পুরসভার বর্তমান মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে এই নোটিস পাঠানো প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি কার্যত অসহায়তা প্রকাশ করেন। ফিরহাদ দাবি করেন, “আমি এই বিষয়ে কিছুই জানি না। নোটিস পাঠানো নিয়ে আমার সঙ্গে পুরসভার কোনও আধিকারিক বা দফতরের কেউ কোনও যোগাযোগ করেনি।”
মেয়রের এই বয়ানের পরই তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক তাপস রায়। তিনি বলেন, “আসলে ফিরহাদকে এখন আর প্রশাসনের কেউ মানছে না, কোনও গুরুত্বই দিচ্ছে না। তাই উনিও কারও সঙ্গে কথা বলছেন না, কিছু জানতেও পারছেন না। তবে বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে পুরসভা যদি এই নোটিস পাঠিয়ে থাকে, তবে একেবারে সঠিক কাজ করা হয়েছে। আইনের চোখে সবাই সমান।” নতুন জমানায় অভিষেকের রাজপ্রাসাদে সত্যিই বুলডোজার ঢোকে কিনা, এখন সেটাই দেখার।





