‘আমার বাড়ি ভেঙে দিক, মাথা নত করব না!’ পুরসভার নোটিস আসতেই বিস্ফোরক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
তিনি মন্তব্য করেন যে, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মতো মানসিকতার মুখ্যমন্ত্রী বাংলা এর আগে কখনও দেখেনি
Truth of Bengal: তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুটি বহুল পরিচিত বাসস্থানকে কেন্দ্র করে সোমবার থেকে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল। হরিশ মুখার্জী রোডের ‘শান্তিনিকেতন’ এবং কালীঘাট রোডের বাড়িতে কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে নোটিস পাঠানোকে কেন্দ্র করে এই তরজা শুরু হয়েছে। অবশেষে এই বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার বিকেলে দলীয় বিধায়কদের সঙ্গে আয়োজিত একটি বৈঠক থেকে এই নোটিসের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁর বাড়ি ভেঙে দেওয়া হোক বা নোটিস পাঠানো হোক, তিনি এই ধরনের পদক্ষেপের কাছে কোনও অবস্থাতেই মাথা নত করবেন না। একই সঙ্গে রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি মন্তব্য করেন যে, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মতো মানসিকতার মুখ্যমন্ত্রী বাংলা এর আগে কখনও দেখেনি।
কলকাতার ১৮৮এ হরিশ মুখার্জি রোডে অবস্থিত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজস্ব বাসস্থান ‘শান্তিনিকেতন’ রাজ্য রাজনীতিতে অত্যন্ত পরিচিত একটি ভবন। এই বহুতলে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বসবাস করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। এর পাশাপাশি শহরের ১২১ কালীঘাট রোডে তাঁর পরিবারের আরও একটি বাড়ি রয়েছে, যা কাগজপত্রে অভিষেকের মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে নথিভুক্ত। তবে তদন্তকারী মহলের দাবি অনুযায়ী, কালীঘাট রোডের এই সম্পত্তিটি লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস সংস্থার নামে দেখানো হয়েছে। বর্তমানে কলকাতা পুরসভার নজরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে যুক্ত এমন মোট ১৭টি সম্পত্তি রয়েছে বলে জানা গেছে।
পুরসভা সূত্রে খবর, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের ওই দুটি নির্দিষ্ট ঠিকানায়, অর্থাৎ ১২১ কালীঘাট রোড এবং ১৮৮এ হরিশ মুখার্জি রোডের বাসভবনে ইতিমধ্যেই পুরসভার তরফ থেকে আইনি নোটিস ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। নোটিসে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, এই দুটি ভবনের নির্মাণকার্যে মূল নকশা বা প্ল্যান-বহির্ভূত কিছু বেআইনি অংশ রয়েছে। আগামী ৭ দিনের মধ্যে বাড়ির মালিককে নিজ দায়িত্বে সেই প্ল্যান-বহির্ভূত অংশটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নোটিসের শর্ত অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে থেকে ওই অংশটি না সরান, তবে পুর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব উদ্যোগে বুলডোজার চালিয়ে সেই নির্মাণ ভেঙে ফেলবে। পুরসভার এই কড়া পদক্ষেপের পরই বিষয়টি নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে।






