কলকাতা

যৌথ মালিকানায় অভিষেকের সঙ্গে সম্পত্তি! ফ্ল্যাট-কাণ্ডে কী জবাব দিলেন সায়নী?

সামাজিক মাধ্যমে এই বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে মুখ খুললেন সায়নী ঘোষ

Truth of Bengal: বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তি নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই জোর চর্চা চলছে রাজ্য রাজনীতিতে। এরই মাঝে একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একাধিক সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কলকাতার বুকে যাদবপুরের তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষের সঙ্গে যৌথ মালিকানায় একটি ফ্ল্যাট রয়েছে অভিষেকের। এই খবরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে যেতেই বুধবার সকালে সামাজিক মাধ্যমে এই বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে মুখ খুললেন সায়নী ঘোষ। স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানালেন, প্রমাণ ছাড়াই তাঁকে বদনাম করার চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, এই ঘোষকে ভয় দেখানো যাবে না।

রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে কোনো রকম দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না। সেই ঘোষণা মতোই বর্তমানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। এই মুহূর্তে কলকাতা পুরসভার স্ক্যানারে রয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৭টি সম্পত্তি। সেই তালিকার মধ্যেই রয়েছে ১৯ডি সেভেন ট্যাঙ্ক রোডের একটি ফ্ল্যাট। জানা যাচ্ছে, এই ফ্ল্যাটটি নাকি যৌথ মালিকানাধীন এবং সেখানে অভিষেকের পাশাপাশি নাম রয়েছে জনৈক সায়নী ঘোষের। এই নাম প্রকাশ্যে আসতেই গুঞ্জন ছড়ায় যে, এই সায়নী আর কেউ নন, খোদ যাদবপুরের তৃণমূল সাংসদ। স্বাভাবিকভাবেই দুই হেভিওয়েট নেতার নামে যৌথ সম্পত্তি থাকার কারণ নিয়ে নানা মহলে কানাঘুষো ও রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়।

এই বিতর্কের মাঝেই বুধবার সকালে সামাজিক মাধ্যমে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন সায়নী ঘোষ। তিনি লেখেন, কয়েকটি জায়গায় তিনি দেখেছেন যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও সায়নী ঘোষ যৌথভাবে কলকাতার ১৯ ডি-সেভেন ট্যাঙ্ক রোডের একটি সম্পত্তির মালিক। কিন্তু সেখানে যোগাযোগের জন্য কোনো নম্বর দেওয়া নেই। তিনি আরও যোগ করেন, ওই সম্পত্তির মালিক কে তা তিনি জানেন না, তবে নিশ্চিতভাবেই সেই সায়নী ঘোষ নন, যিনি একটি সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসেছেন এবং রাজনীতি থেকে আজ পর্যন্ত কোনো অপ্রত্যাশিত লাভ বা সুবিধা নেননি। সায়নী জানান, মানুষের আশীর্বাদেই তিনি আজ এই অবস্থানে পৌঁছেছেন এবং তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ।

নিজের ভোটার ও সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে সাংসদ সায়নী ঘোষ মনে করিয়ে দেন যে, তাঁর নির্বাচনী হলফনামায় সমস্ত সম্পত্তির খতিয়ান ও বিবরণ স্পষ্ট করে দেওয়া আছে। কোনো রকম তথ্য বা প্রমাণ ছাড়াই যাঁরা তাঁকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করছেন, তাঁদের অবিলম্বে এই কাজ বন্ধ করার পরামর্শ দেন তিনি। আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়ে সায়নী স্পষ্ট জানান, এই অন্যায় তিনি এক চুলও ছেড়ে দেবেন না এবং ভুয়ো খবর ছড়ানোর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন। কবিগুরুর দেশের মানুষ হিসেবে কোনো রকম ভয় দেখিয়ে যে তাঁকে দমানো যাবে না, সেই বার্তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন এই তৃণমূল সাংসদ।

Related Articles