এইরকম নির্লজ্জ চাটুকারিতা কি দেশ আগে কখনও দেখেছে?
মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তর এই সার্কুলার রাজধানী দিল্লির প্রতিটি দুর্গাপুজোর উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছে গিয়েছে।
জয়ন্ত চক্রবর্তী: চাটুকারিতা এবার বোধহয় সব সীমা ছাড়িয়ে গেল! রাজধানী দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত বুধবার একটি সার্কুলার জারি করেছেন। এই সার্কুলারে রাজধানী দিল্লির প্রতিটি দুর্গাপুজোর মণ্ডপে মা দুর্গার মূর্তির পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ছবি বা প্রতিকৃতি রাখা বাধ্যতামূলক বলে জানানো হয়েছে। যে পুজোর উদ্যোক্তারা এই সার্কুলার মানবেন না তাঁদের পুজোর অনুমতি দেওয়া হবে না। মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তর এই সার্কুলার রাজধানী দিল্লির প্রতিটি দুর্গাপুজোর উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছে গিয়েছে।
বাঙালির যেখানে বাস বেশি সেই চিত্তরঞ্জন পার্কেও পৌঁছেছে এই সার্কুলার। রাজধানী দিল্লির পুজো উদ্যোক্তারা বুঝতে পারছেন না এই সার্কুলারের পরে তাঁরা কী করবেন? প্রধানমন্ত্রী মোদির ছবি দুর্গা প্রতিমার পাশে না রাখলে পুজোর অনুমতি মিলবে না। আবার মন থেকে এটাও মেনে নেওয়া সম্ভব নয় যে মোদিজির ছবি দেবী দুর্গার সঙ্গে এক আসনে রেখে পুজো করা! শ্যাম রাখি না কুল রাখি গোছের অবস্থা তাঁদের। এমনকী মনে মনে বিজেপিকে সমর্থন করা দিল্লির পুজো উদ্যোক্তার পর্যন্ত এটি কতটা সমীচীন হবে তা ভাবতে শুরু করেছেন। ঘোলা জলে মাছ ধরা শুরু হয়ে গিয়েছে। রাজনীতিবিদরা আসরে নেমে পড়েছেন।
আম আদমি পার্টি নির্বাচনে হেরে বিজেপিকে দিল্লির ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল। রাজধানী দিল্লির আম আদমি পার্টির প্রেসিডেন্ট সৌরভ ভরদ্বাজ একটি সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। তিনি তাঁর লিখিত বিবৃতিতে বলেছেন যে রামলীলা ভূমি পূজন মণ্ডপে প্রধানমন্ত্রী মোদির মন কি বাত অনুষ্ঠানটি চালিয়ে বিজেপি অন্যায় করেছিল, আবার দুর্গাপুজোর মণ্ডপে মোদির ছবি রাখতে বলা মানেই হিন্দুর ভাবাবেগে আগাত দেওয়া। সৌরভ ভরদ্বাজ বিশ্বাস করেন যে বাঙালি, যাঁরা দেবী দুর্গার আরাধনা করেন তাঁরা তাদের ধর্মবিশ্বাসের ওপর আঘাত হানার এই প্রয়াস মেনে নেবেন না।
আম আদমি পার্টির দিল্লির সভাপতি বিজেপির হিন্দুত্ব চড়ানোর রাজনীতিরও সমালোচনা করেছেন। তা তিনি করুন। রাজনীতির অস্ত্র হিসেবে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তর এই সার্কুলারকে তিনি যতটা পারেন ব্যবহার করুন, আমরা অবাক হচ্ছি দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তর নগ্ন, নির্লজ্জ চাটুকারিতায়। প্রধানমন্ত্রী মোদির যদি এই সার্কুলারে অনুমোদন থাকে তা হলে সেটা মারাত্মক! দুর্গা মূর্তির পাশে নরেন্দ্র মোদি, ভাবা যায়!
পশ্চিমবঙ্গের মুখমন্ত্রী যদি এইরকম একটি সার্কুলার জারি করেন যে দুর্গামণ্ডপে মা দুর্গার মূর্তির সঙ্গে তাঁর ছবি রাখা বাধ্যতামূলক— (এমন ঘটনা কষ্ট কল্পনাতেও ভাবা যায় না)। যতই তিনি দুর্গাপুজোয় অনুদান দিন না কেন- এইরকম একটি সার্কুলার মমতা বন্দোপাধ্যায় কখনও দেবেন না। বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গোৎসবকে ঘিরে এই নির্দেশিকা বরদাস্ত করা যায় কি? বিজেপি কি তা হলে হিন্দুত্বের পরাকাষ্ঠা দেখাতে আরম্ভ করল দুর্গাপুজোতেও!
বঙ্গ বিজেপির প্রবক্তারা কী বলছেন! তাঁরা কী অনুমোদন করবেন রাজধানী দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তর এই তুঘলকি কারবার? রেখা গুপ্ত প্রবল চাপে পড়ে এই সার্কুলার প্রত্যেহার করতে পারেন। কিন্তু একদিনের জন্য হলেও ইতিহাস মনে রাখবে এই বিখ্যাত কিংবা কুখ্যাত চাটুকারিতাকে। প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁকে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের জায়গায় বসিয়েছেন তা যেমন সত্য, তেমনই সত্য এই নির্লজ্জ চাটুকারিতা। বাঙালি হিন্দু কি এখনও গর্জন করবে না!






