BJP Governance: নারী নিরাপত্তা ও শিশু সুরক্ষার প্রশ্নে ডবল ইঞ্জিনের রাজ্যগুলি ডাহা ফেল
A Grim Reality of Gender Violence in BJP-Ruled States
ইন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় (বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক): জানুয়ারী মাসে উত্তর প্রদেশের কানপুরে এক জাতীয় খেলোয়াড়কে গণধর্ষনের শিকার হতে হয়েছিল। আর এই ঘটনা একেবারে থানার পাশে একটি আশ্রমে। তাকে মাদক মেশানো লাড্ডু খাইয়ে পরিকল্পিতভাবে গোবিন্দ মাহাতো নামে এক ব্যক্তি, মন্দিরের দুজন পুরোহিত ও এক মহারাজ আশ্রমের মধ্যেই ধর্ষন করে। রাজনৈতিক ক্ষমতা-সম্পন্ন ব্যক্তিদের চাপে নির্যাতিতা পুলিশের কাছেও যেতে ভয় পেয়েছিল। সামাজিক মাধ্যমে তার ভিডিয়ো ভাইরাল হয় (BJP Governance)।
[আরও পড়ুন: পর্তুগালের ট্রফি জয়ের জন্য নিজের পা ভাঙতেও রাজি : সিআর সেভেন]
গত ২৭ মে লখনউতে কমল কিশোর ওরফে ভদর নামে এক ব্যক্তি ৪ বছরের শিশু কন্যাকে ধর্ষণ করে। হাসপাতালে নিয়ে গিয়েও তাকে বাঁচানো যায়নি। অভিযুক্তকে ধরতে পুলিশের সঙ্গে সমাজ বিরোধীদের গুলির লড়াই হয়।
গত ২৬ মে বিহারের মুজাফফরপুরে ধর্ষণের শিকার হয় এক দলিত নাবালিক। ৩০ মে বিনা চিকিৎসায় তার মৃত্যু ঘটে। হাসপাতালে বেড না থাকায় অ্যাম্বুলেন্সে বিনা চিকিৎসায় বহু সময় কেটে যায়। ফলে, নির্যাতিতাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এটাই শুধু কারণ নয় মৃত্যুর। সেদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রোড শো ছিল। সমস্ত প্রশাসন ওই দিন ব্যস্ত ছিল, এমনকি সেদিন হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়ার কর্মীও ছিলনা বলে অভিযো উঠেছে।
গত জানুয়ারিতে শিউরে ওঠার মতো লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারে। নিজের মা তার ১৩ বছরের নাবালিকা মেয়েকে নিজের প্রেমিক মুমিত পার্টওয়াল ও তার বন্ধুদের দিয়ে ধর্ষন করায়। ঘুরতে যাওয়ার নাম করে তাকে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করা হয়। নির্যাতিতার অভিযোগ তাকে সাত-আটবার ধর্ষন করা হয়। বিজেপির মহিলা মোর্চার সভানেত্রীর এহেন কু-কীর্তিতে মানুষ শুধু অবাক নয়, মা নামের কলঙ্ক। ওই অভিযুক্তার চরম শাস্তির দাবি উঠেছে উত্তরাখণ্ড জুড়ে। বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলোতে এহেন ঘটনা নমুনা মাত্র। উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি, উত্তরাখণ্ড, বিহার, মহারাষ্ট্র, গুজরাটের মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে মেয়েদের নিরাপত্তা কোথায়? মহারাষ্ট্রের মুম্বাইতে তো সন্ধ্যে বা রাত নয়। দিনের আলোতে বেরাতেই ভয় পায় মেয়েরা। দিল্লি তথৈবচ।
চলন্ত গাড়ির মধ্যে ইতিপূর্বে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। বিরোধীরা বারবার এইসব ঘটনার প্রতিবাদ করে, কিন্তু বিজেপির (BJP Governance) কাছে সাফাই দেওয়া তো রেডি থাকে। বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও এখন বেটি মেধ যজ্ঞে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ওইসব রাজ্যে দলিত মেয়েরাই গণধর্ষণের শিকার বেশি হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। বিচারের বাণী নিভৃতে এক্ষেত্রে কাঁদছে। ধর্ষন কাণ্ডের ঘটনা নিশ্চয়ই উত্তরপ্রদেশের হাথরস মনে আছে। পরিবার বিচার পেয়েছে? সেই একজন দলিত কন্যা। খোদ প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর রাজ্য গুজরাট, গণধর্ষণ করে মাকে খুন করা হয়েছিল, সেই বিলকিস বানোর পরিবার কি বিচার পেয়েছে?
Truth of Bengal FB: https://www.facebook.com/share/1DpmwTbAnA/
যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল সেই ১১ জন জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর গলায় মালা, ফুল-চন্দন দিয়ে বরণ করেছিল বিজেপি নেতৃত্ব। আবার এই বিজেপি অ-বিজেপি রাজ্যগুলোর ক্ষেত্রে খুবই তৎপর। তারা এমন ভাব দেখায় যেন তারা নারীকে তাদের দলের নেতা-কর্মীদের মতো অন্য কেউ সম্মান করেনা। তাই বাংলার কোনও ঘটনায় মোমবাতি মিছিল হয়, আন্দোলনের ঢেউ আছড়ে পড়ে। যা বিদেশেও ছড়িয়ে পড়ে। দোসর বাম-কংগ্রেস। আবার মুম্বাইতে ধর্ষণের ঘটনা ঘটলে সবার মুখে কুলুপ। বিজেপি দলটা বরাবরই নারী বিদ্বেষী। নেতা-মন্ত্রীদের কথায় মাঝে মাঝেই তা প্রকাশ ঘটে। কিন্তু এই দ্বিচারিতা কেন?
২৬শে বাংলার বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে আবার মোদি-শাহের লক্ষ্য বাংলা। বাংলায় নাকি মেয়েদের কোনও নিরাপত্তা নেই (Women Safety)? মেয়েরা ঘর থেকে বেরোতে নাকি ভয় পায়? আইনের শাসন নাকি নেই? বিজেপি দিল্লির নেতারা বাংলায় এসে এ ধরনের অভিযোগ করেন বারবার। অথচ বারবার দেখা যায় সবচেয়ে বেশি নিরাপদ এই বাংলার মেয়েরা। এই বাংলার মেয়েরা স্বাধীনচেতা। এই বাংলার মেয়েরা যখন যেখানে খুশি স্বাধীনভাবে চলাফেরা করে। এই বাংলাকেই বারবার বদনাম করে যান দিল্লির বিজেপি নেতারা। আবার এই দিল্লি সরকারের রিপোর্ট বলে নিরাপত্তায় সেরা বাংলা। দেশের মধ্যে নিরাপত্তার শহর মহানগরী কলকাতা।
[আরও পড়ুন: গ্রামীণ মহিলাদের স্বপ্নপূরণ, কালিয়াগঞ্জে পেপার প্লেট কারখানায় কর্মসংস্থান]
আপনি আচরি ধর্ম পরকে শিখায়। কিন্তু যেখানে বিজেপি (BJP Governance) শাসিত রাজ্য গুলোতে ধর্ষণ খুন এখন জলভাত। আর সেই রাজ্যেও বসবাসকারী নেতা-মন্ত্রীদের কাছে ধর্মের কাহিনী শুনতে হবে? আম-জনতা প্রশ্ন করবেন না খোদ প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর রাজ্যে ধর্ষিতারা বিচার পায়না কেন? প্রশ্ন উঠতেই পারে, সেখানে দলিত মেয়েদের নিরাপত্তা কোথায়? আর যোগীরাজ্য সে তো এখন অপরাধের স্বর্গরাজ্য। পুলিশেরই নিরাপত্তা নেই, তার আবার মেয়েদের নিরাপত্তা। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা?






