সম্পাদকীয়

ভারতীয় উপমহাদেশের বৈচিত্র্য সংরক্ষণে আরাবল্লীর দান   

অত্যন্ত দ্রুত গতিতে জনসংখ্যার বৃদ্ধি, অসচেতন মনস্কতা এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রকৃতি সম্পর্কে ধারণার অভাব মানুষকে তিলে তিলে প্রকৃতির থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে।

ডক্টর সুজীব কর: সভ্যতার বিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ক্রম উন্নয়ন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্রম অগ্রসরতা অত্যন্ত দ্রুত গতিতে মানুষকে পরিবেশের থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। যার ফলে পরিবেশকে নিয়ে ভাববার মতো ইচ্ছে বা অবসর কোনওটিই আধুনিক মানুষের হাতে আর নেই। সময়ের সঙ্গে উন্নততর জীবনের লক্ষ্যে আমরা যে সমস্ত কার্য সম্পাদন করে থাকি তার অধিকাংশই প্রকৃতির বিরুদ্ধাচরণ ছাড়া আর কিছুই নয়।

অত্যন্ত দ্রুত গতিতে জনসংখ্যার বৃদ্ধি, অসচেতন মনস্কতা এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রকৃতি সম্পর্কে ধারণার অভাব মানুষকে তিলে তিলে প্রকৃতির থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। তাই আজকে প্রকৃতিকে নিজের করে তোলার মধ্যে দিয়ে মানুষের আস্ফালন প্রকাশ পায় এবং সম্পদ ভোগ করার মধ্যে দিয়ে মানুষ তার প্রয়োজনীয়তাকে পূরণ করে এবং তার দ্বারা উন্নততর বিশ্বের ডাকে সে সাড়া দেয়। আর নিজের দম্ভকে ফলাও করে প্রচার করে। কিন্তু মানুষ কখনও ভাবে না তার অস্তিত্ব এই প্রকৃতি বা বাস্তুতন্ত্র ছাড়া কোনভাবেও টিকে থাকতে পারবে না।

ঠিক এই কারণে বর্তমানে আমরা আমাদের অগ্রগতিকে আরও বিকশিত করার উদ্দেশ্যে যে সমস্ত সিদ্ধান্তগুলি গ্রহণ করি তার অধিকাংশই প্রকৃতির বিরুদ্ধাচরণ ছাড়া কিছুই নয়। কিন্তু আমরা এই বিরুদ্ধাচরণ করার সময় কখনওই বিচার করি না যে, প্রাকৃতিক ভারসাম্য যদি কোনও ভাবে নষ্ট হয়ে যায় তা হলে এই পৃথিবী থেকেই আমাদের চলে যেতে হবে। সমগ্র মনুষ্য জাতি অবলুপ্ত হবে। আমরা আধুনিক মানুষেরা এটা ভাবতেই ভুলে গেছি যে আমরা মানুষেরাও প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট একটি প্রাণী এবং অন্যান্য প্রাণীদের সঙ্গে বাস্তব ক্ষেত্রে আমাদের কোন তফাৎ নেই এবং বাস্তুতন্ত্র না থাকলে কোনওভাবেও আমরা পৃথিবীতে বাঁচতে পারব না।

অতি সম্প্রতি ২০২৫ সালে সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ে আরাবল্লী পাহাড়ের নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই রায়ের মূল বক্তব্য হল, শুধুমাত্র ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০০ মিটার বা তার বেশি উচ্চতা বিশিষ্ট জমিকে আরাবল্লী হিসেবে গণ্য করা হবে এবং দুই বা তার বেশি ১০০ মিটার উচ্চতা বিশিষ্ট পাহাড় যদি ৫০০ মিটারের মধ্যে থাকে তবেই সেটাকে আরাবল্লী পর্বতমালা বলা হবে। প্রায় ২০০ কোটি বছর আগে প্রি ক্যাম্বিয়ান যুগে গড়ে ওঠা আরাবল্লী পর্বতমালা, যা যুগ যুগ ধরে আমাদের রক্ষাকবচ— সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ে তা রাতারাতি মুছে যাবে সেটা কখনও হতে পারে না। গুজরাট থেকে শুরু করে রাজস্থান, হরিয়ানা হয়ে দিল্লি এনসিআর পর্যন্ত এই পার্বত্য ভূমির মোট বিস্তার প্রায় ৬৯২ কিলোমিটার।  এর মধ্যে ৫৫০ কিলোমিটার বিস্তার রয়েছে রাজস্থানের মধ্যে বর্তমান সুপ্রিম কোর্ট নির্ধারিত সংজ্ঞাকে যদি মেনে নেয়া হয় তা হলে আরাবল্লী পর্বতের প্রায় ৯০ শতাংশ পার্বত্য ভূমি নষ্ট হয়ে যাবে।

এর ফলে এই অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্রের প্রায় ৮০ শতাংশ বিনষ্ট হবে এবং এখানে যে জীববৈচিত্র অবস্থান করে তা বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। উত্তর-পশ্চিম ভারতের জলবায়ু দ্রুত গতিতে পরিবর্তিত হবে। এই সংজ্ঞা অনুযায়ী আরাবল্লী পর্বতমালার বিস্তীর্ণ অঞ্চল অসংরক্ষিত হয়ে পড়বে। শুধু তাই নয়, এই নীতি কার্যকরী হলে পাঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ এবং দিল্লি এনসিআর একটি বড়হিট ট্রাপ জোনে পরিণত হবে। এই অঞ্চলের বাস্তুতান্ত্রিক ভারসাম্য সর্বতোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

পৃথিবীর কোনও একটি অঞ্চলের ভূমিভাগে অবস্থিত একটি মরু অঞ্চল সামগ্রিকভাবে বায়ুর চাপ নিয়ন্ত্রণ করে, ঠিক যেভাবে হৃদপিণ্ড শরীরের সামগ্রিকভাবে চাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা দান করে। মরু অঞ্চলগুলি অত্যধিক উষ্ণতার প্রভাবে নিম্নচাপ সৃষ্টি করে বায়ুর আদান প্রদানের দ্বারা ভূমিভাগের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ওপর জলীয় বাষ্পের বিন্যাস ও বৃষ্টিপাতের পরিমাণকে নিয়ন্ত্রণ এবং কোনও কোনও ক্ষেত্রে উষ্ণতার নিয়ন্ত্রণের দ্বারা মানুষের স্বাভাবিক বসতি ক্ষেত্রের পরিমণ্ডলকে অপরিবর্তিত রাখার চেষ্টা করে এবং পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে তোলার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে সহায়তা দান করে।

উত্তর-পশ্চিম ভারতের এই সবুজ ফুসফুস আরাবল্লীকে যদি ধ্বংস করে ফেলা হয় তা হলে সবচেয়ে আগে ক্ষতিগ্রস্ত হবে উত্তর-পশ্চিম মরুস্থলির বৃষ্টিচ্ছায় প্রকাণ্ড প্রাচীর নির্দ্বিধায় জলীয় বাষ্প প্রবেশ করতে শুরু করবে আরব সাগর থেকে। যার ফলে জলবায়ু  সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে যাবে। ১৯৮৩ সালের ভারত সরকারের ভুল সিদ্ধান্তে থর মরুভূমিতে সবুজায়নের দ্বারা সমগ্র ভারতের জলবায়ু প্রভূত পরিমাণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভারতের জলবায়ু নিয়ন্ত্রণকারী মৌসুমী বায়ু যা ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

শুধু তাই নয় বছরের পর বছর রাজস্থানে বন্যা, ধুলিঝড় প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। তথাপি এখনও মানুষ শিক্ষা লাভ করতে পারেনি। অজ্ঞতার অন্ধকারে দিশাহীন চেতনা মানুষকে এই ভাবেই হয়তো ধীরে ধীরে ক্ষতির দিকে ঠেলে দেবে। প্রকৃতিকে ধ্বংস করা মানে নিজের অস্তিত্বকে অগ্রাহ্য করা ছাড়া আর কিছুই নয়। ভারত বর্ষ ভূ-প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যে পরিপূর্ণ একটি রাষ্ট্র। প্রকৃতিমাতা তার অপার কৃপায় এই ভূখণ্ডকে অদ্ভুত কতকগুলি বৈশিষ্ট্য দিয়ে প্রস্তুত করেছিল।

সুস্থ সবল ঋতু বৈচিত্র্যে পরিপূর্ণ জৈব সম্পদে ভরপুর এবং অজৈব সম্পদের সাজানো ডালি নিয়ে ভারতবর্ষের জনগণের পথচলা শুরু হয়েছিল। কিন্তু আমাদের লোভ ও দম্ভ অত্যন্ত দ্রুতগতিতে আমাদেরকে উন্নততর জীবনের যাত্রার দিকে এমন ভাবে নিয়ে যেতে শুরু করল, আমরা বাস্তবিক ক্ষেত্রে সেই ভারসাম্য যুক্ত প্রাকৃতিক পরিমণ্ডলকে কাজে লাগাতে পারলাম না। বরং তাকে ধ্বংস করে তার উপরে নতুন কোনও কার্যাবলি সম্পাদনের দ্বারা আমাদের উন্নয়নের লিপ্সাকে চরিতার্থ করার চেষ্টা করলাম, যার ফলে সামগ্রিকভাবে ভারতীয় ভূখণ্ড তার ভারসাম্য হারাতে শুরু করল এবং সংস্থানিক দিক থেকে ভারতবর্ষ অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে পড়ল।

আমরা পৃথিবী পৃষ্ঠের ওপরে ভূ-প্রাকৃতিক যে বিন্যাস দেখি অর্থাৎ পর্বত, মালভূমি ও সমভূমি প্রভৃতি ভূমি ভাগের বিন্যাস এটা কিন্তু মানুষের তৈরি নয়। পৃথিবী তার অভ্যন্তরীণ শক্তির দ্বারা এই বিন্যাসগুলিকে নিপুণ হাতে সাজিয়েছে কেবলমাত্র ভূমি ভাগের ভারসাম্য বা সমস্থিতিস্থাপকতা রক্ষার স্বার্থে ভূমি ভাগে এই ভারসাম্য যদি না থাকে তা হলে আজকে যেমন আমরা ভারতবর্ষে দেখছি উত্তরে হিমালয় পূর্ব-পশ্চিমে পশ্চিমঘাট পূর্বঘাট উত্তর-পশ্চিমে আরাবল্লী এবং ভারতের পূর্ব ও পশ্চিম দিকে বঙ্গোপসাগর এবং আরব সাগর এই বিন্যাস কিন্তু ভবিষ্যতে দেখতে পাওয়া যাবে না। কারণ ১০০ মিটারের নিচের সমস্ত পার্বত্যভূমি এবং উচ্চভূমিগুলিকে যদি কেটে ফেলা হয় তা হলে ভূমি ভাগের ভারসাম্য বিপুল পরিমাণে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বারংবার ভূ আলোড়ন ঘটবে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে এবং তার প্রভাবে প্রত্যেকটি ভূমিভাগ তাদের প্রকৃতিগত বর্তমান অবস্থাতে পরিবর্তন করতে শুরু করবে এবং সমগ্র ভারতবর্ষ ব্যাপী বিঘ্নিত সমস্থিতিস্থাপকতাকে ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে ভূ প্রাকৃতিক এই বিবর্তনের পদ্ধতিগুলি বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ভয়ঙ্কর ভূমিকম্প এবং জলস্ফীতি ও সুনামির মতো বিপজ্জনক প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলিকে সক্রিয় করে দেবে। এর ফলে ভূ ভারতের সমগ্র প্রাকৃতিক ভারসাম্য পুনরায় ফিরে আসার পদ্ধতিতে বর্তমান ভারতবর্ষের বৈচিত্রগত প্রকৃতি ওলট-পালট হয়ে যাবে। পৃথিবীর কোনও একটি অংশে ভূমিভাগে সমস্থিতিস্থাপকতগত ভারসাম্যহীনতা শুধুমাত্র ওই ভূখণ্ডের সমস্যা নয়। এই সমস্যা সমগ্র পৃথিবীর, তাই ভারতবর্ষের সমস্থিতিস্থাপকতা গত বিঘ্ন সমগ্র পৃথিবীব্যাপী আর তীব্র সংকটের সৃষ্টি করবে যার প্রভাবে বিভিন্ন ভূখণ্ডে ভূ আলোড়ন ঘটতে শুরু করবে এবং ভয়ংকর ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলি আরও বেশি সক্রিয় হতে শুরু করবে।

আরাবল্লী পর্বত ধ্বংসপ্রাপ্ত হলে ভারতের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত থর মরুভূমি অঞ্চলের জলবায়ুর সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তিত হয়ে যাবে সবচাইতে যেটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তা হল থর মরুভূমির অস্তিত্বই দীর্ঘদিন থাকবে না ভারতে মৌসুমী বায়ু আগমনে হর মরুভূমির একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান আছে তাই এই মরুভূমি যদি বিনষ্ট হয়ে যায় ভারতে কোনভাবেও মৌসুমী বায়ু প্রবেশ করতে পারবে না। এই মরু অঞ্চলের নিম্নচাপের আকর্ষণে বঙ্গোপসাগর থেকে পূবালি বায়ু সমগ্র উত্তর ভারতকে অতিক্রম করে আরাবল্লী পার্বত্য অঞ্চলে এসে প্রতিহত হয়।

যে কারণে আরাবল্লী পর্বতের পূর্বদিকে বৃষ্টিপাত ঘটলেও আরাবল্লী পর্বতের অবস্থানের জন্য পশ্চিম দিকে কোনও বৃষ্টিপাত হয় না। এই মরু অঞ্চলে নিম্নচাপের সৃষ্ট শক্তিই সমগ্র উত্তর ভারতকে মৌসুমী বায়ুর দ্বারা বৃষ্টিপাতের জল দান করে। সুতরাং থর মরুভূমির অস্তিত্ব যদি হারিয়ে যায় তা হলে সমগ্র উত্তর ভারত জুড়ে বৃষ্টিপাতের ব্যাপক ঘাটতি দেখা যাবে। শুধু তাই নয় কোনও কোনও অঞ্চলে মরু অঞ্চল গ্রাস করবে। উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ পরিসর পাঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লি, উত্তর প্রদেশ, বিহার, ঝাড়খন্ড এবং পশ্চিমবঙ্গ তীব্র সঙ্কটের মধ্যে পড়বে। অপরদিকে যদি আরাবল্লী পার্বত্য ভূমি হারিয়ে যেতে শুরু করে তা হলে আরব সাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু প্রবেশ করবে এই অঞ্চলে।

এর প্রভাবে সমগ্র গুজরাট, রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরাখন্ড এবং হিমাচল প্রদেশ অত্যধিক বেশি বৃষ্টি এবং মেঘ ভাঙা বৃষ্টির দ্বারা প্রভাবিত হতে শুরু করবে। শুধু তাই নয় শীতকালেও আরব সাগর থেকে অতিরিক্ত পরিমাণে জলীয় বাষ্প প্রবেশ করায় কাশ্মীর, উত্তরাখন্ড, হিমাচল প্রদেশ এবং নেপালের বিস্তীর্ণ প্রান্তে অধিক পরিমাণে তুষারপাত ঘটতে শুরু করবে। যার ফলে অ্যাভ্যালেন্স এবং গ্লোব-এর মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলি উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে শুরু করবে অর্থাৎ সমগ্র উত্তর ভারত ও উত্তর-পশ্চিম ভারত বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠবে।

আরাবল্লী পর্বত অতিরিক্ত পরিমাণে কেটে ফেলার ফলে প্রাথমিকভাবে কয়েক বছর লু এবং ধূলিঝড়ের প্রভাব উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং এর প্রভাবে ধুলি ঝড়ের দ্বারা রাজস্থান, হরিয়ানা, দিল্লি এনসিআর এবং উত্তরপ্রদেশের বিস্তীর্ণ পরিষদ স্থান প্রভাবিত হতে শুরু করবে এবং পরবর্তী সময়ে এই অঞ্চলগুলি কৃষি কাজের অযোগ্য হয়ে পড়বে।

আরাবল্লী পার্বত্য অঞ্চলেরপূর্ব দিকে যে বৃষ্টিপাত ঘটে সেই বৃষ্টিপাতের জল ই রাজস্থান, গুজরাট, হরিয়ানা এবং দিল্লি এনসিআর-এর মূল জলের জোগান দেয়। সুতরাং, যদি এই পার্বত্য ভূমিকে কেটে ফেলা হয় তা হলে এই অঞ্চলে জলের ব্যাপক ঘাটতি দেখা যাবে। তাতে একদিকে যেমন পানীয় জলের সমস্যা তৈরি হবে, তেমনই অপরদিকে কৃষি খেতগুলিতে জলের ব্যাপক ঘাটতি দেখা যাবে। যার ফলে ভূমিভাগের প্রকৃতি যেমন পরিবর্তিত হবে তেমনই মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থা ও পরিবর্তিত হতে শুরু করবে। জীবন এবং জীবিকা ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে শুরু করবে।

অপরদিকে এই অঞ্চলের বৃষ্টির জল মোট জলের রিচার্জকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং যে জল এই অঞ্চলের বৃষ্টির থেকে রিচার্জ হয়, তার দ্বারা পাঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থানের পূর্ব দিক, গুজরাটের কিছু অংশ এবং উত্তরপ্রদেশের কিছু অংশ সম্পূর্ণভাবে ভৌম জল পেয়ে থাকে। তাই আরাবল্লী পর্বতকে কেটে ফেললে এই ভৌম জলের রিচার্জ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। যার ফলে সমগ্র উত্তর-পশ্চিম ভারতে তীব্র জলকষ্ট দেখা যাবে যাতে জনজীবন বিপন্ন হয়ে পড়তে পারে।

আরাবল্লী পর্বত কয়েক লক্ষ প্রাণীর আবাসস্থল। তারা সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র এক বাস্তুতন্ত্রে অবস্থান করে। আরাবল্লী পর্বতকে ধ্বংস করলে এই সমস্ত প্রাণীকুল চিরতরে তাদের বাসযোগ্য ক্ষেত্রকে হারিয়ে ফেলবে যার ফলে সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশের কয়েক লক্ষ প্রাণী চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে। ফলে এই ধরনের বাস্তুতন্ত্রগত ভাবে সংবেদনশীল ক্ষেত্রকে সুরক্ষিত করতে না পারলে ভারতীয় উপমহাদেশের জীববৈচিত্রের ক্ষেত্রে এক সংকট তৈরি হবে। সুতরাং এই সমস্ত অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্র যাতে সঠিকভাবে টিকে থাকে এবং এই জীববৈচিত্র যাতে চিরকাল অপরিবর্তিত থাকতে পারে সেই কারণে আরাবল্লী পার্বত্য অঞ্চল সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

Related Articles