সম্পাদকীয়

ভাগ্য ঝুলে রাজ্যের ২৬ হাজার চাকরি হারার

26,000 jobs in the state are at stake

Truth Of Bengal: সুপ্রিম কোর্টে ভাগ্য ঝুলে রইল ২৬ হাজার চাকরি হারার। বৃহস্পতিবার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট সব থেকে বেশি গুরুত্ব দেয় যোগ্য ও অযোগ্যকে আলাদা করার বিষয়টি। এসএসসি-র ২০১৬ সালের পুরো প্যানেলটাকে নিয়েই সন্দেহ প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি।

প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন, ‘ডাল মে কুছ কালা হ্যায়, ইয়া সব কুছ কালা হ্যায়।’ অর্থাৎ কেবলমাত্র অসঙ্গতির অংশটুকু নয়, গোটা তালিকাটা নিয়েই সন্দেহ প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি। বৈধ ও অবৈধ চাকরি প্রাপকদের তালিকা কি আলাদা করা সম্ভব? শুনানিতে এই প্রশ্ন করেন প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না।

এসএসসি-র আইনজীবী আদালতে জানান, নিয়োগ তালিকায় থাকা যোগ্য এবং অযোগ্য চাকরি প্রাপকদের বাছাই করা সম্ভব। কোন উপায়ে তা করা যায়, সেই ইঙ্গিতও দিয়ে রেখেছে। তবে যোগ্য-অযোগ্য বাছাই করা না-গেলে পুরো প্যানেল বাতিল করতে হবে বলে জানিয়ে দিয়েছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। অর্থাৎ, সুপ্রিম কোর্টে ভাগ্য ঝুলে রইল ২৬ হাজার চাকরিহারার।

গত এপ্রিল মাসে ২০১৬ সালের এসএসসি-র নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্যানেল বাতিল করে দেয় কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি মহম্মদ শব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ সেই রায় দেয়। যার জন্য ২৫,৭৫৩ জন শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীর চাকরি চলে যায়। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য সরকার। শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন চাকরিহারাদের একাংশও।

এই মামলার শুনানি হবে আগামী বছরের ৭ জানুয়ারি। দেশের শীর্ষ আদালত ঠিক করবে পুরো প্যানেল বাতিলের যে রায় দিয়েছিল কলকাতা হাই কোর্ট, সেই রায় বহাল থাকবে নাকি নতুন কোনও রায় দেবে। এখন ২৬ হাজার চাকরিহারার ভাগ্য দোলাচলে আছে। অনিয়ম যে হয়নি তা বলা যাবেনা। না হলে এমন রায় দিত না কলকাতা হাইকোর্ট। তবে বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠছে অযোগ্য হিসেবে যারা চাকরি পেয়েছিল তাঁদের জন্য কেন অন্যদের এমন অনিশ্চিয়তার মধ্যে পড়তে হবে? কেন তাঁদের এমন উৎকণ্ঠায় দিন কাটাতে হবে?

Related Articles