সারদা কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে জামিন সুদীপ্ত সেনের, অবশেষে ইতি জেলযাত্রায়?
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট তাঁর জামিন মঞ্জুর করে নিম্ন আদালতকে জেলমুক্তির শর্ত নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছে
Truth of Bengal: বাংলায় তাঁর বিরুদ্ধে থাকা সমস্ত মামলায় আগেই জামিন মিলেছিল। এবার অসমে সিবিআইয়ের হাতে থাকা চিটফান্ড মামলাতেও জামিন পেলেন সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেন। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট তাঁর জামিন মঞ্জুর করে নিম্ন আদালতকে জেলমুক্তির শর্ত নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছে। অসমে ২০১৬ সাল থেকে সুদীপ্ত সেনের বিরুদ্ধে চিটফান্ড সংক্রান্ত একটি মামলা বিচারাধীন। সেই মামলায় জামিন চেয়ে তিনি এর আগে গুয়াহাটি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তবে ২০২৫ সালে তাঁর আবেদন খারিজ করে দেয় হাই কোর্ট। এরপর সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যান সুদীপ্ত।
মঙ্গলবার বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মাসিহর বেঞ্চ মামলাটি শোনে। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, সংশ্লিষ্ট মামলায় দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে জেলবন্দি রয়েছেন অভিযুক্ত। মামলার সামগ্রিক অগ্রগতি বিবেচনা করেই তাঁকে জামিন দেওয়া হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, এবার সুদীপ্ত সেনকে মুক্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। তবে জামিনের শর্ত কী হবে, তা ঠিক করবে সংশ্লিষ্ট নিম্ন আদালত। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় শর্ত নির্ধারিত হলেই তাঁর জেলমুক্তির পথ কার্যত খুলে যাবে।
উল্লেখ্য, সারদা চিটফান্ড মামলায় দীর্ঘ ১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে জেলবন্দি সুদীপ্ত সেন। একাধিক মামলা ও আইনি জটিলতার কারণে এতদিন তাঁর মুক্তি সম্ভব হয়নি। বাংলার বিভিন্ন আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে বহু মামলা দায়ের হয়েছিল। তবে রাজ্যে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মোট ৩৮২টি মামলাতেই জামিন পেয়েছেন তিনি। চলতি বছরের শুরুতে শেষ দু’টি মামলাতেও কলকাতা হাই কোর্ট তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছিল। এবার অসমের সিবিআই মামলাতেও জামিন পাওয়ায় সারদা কর্তার জেলমুক্তির সম্ভাবনা আরও জোরালো হল।
২০১৩ সালে সারদা কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসার পর সংস্থার কর্ণধার সুদীপ্ত সেন দেবযানী মুখোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে কাশ্মীরের সোনমার্গে গা ঢাকা দিয়েছিলেন। সেখান থেকেই তাঁদের প্রথমে গ্রেফতার করে রাজ্য পুলিশ। পরে আদালতের নির্দেশে সারদা মামলার তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে। গ্রেফতারির পর থেকে অর্থাৎ ২০১৩ সাল থেকেই জেলবন্দি রয়েছেন সুদীপ্ত সেন।






