রাজ্যের খবর

রণক্ষেত্র ইসলামপুর! পঞ্চায়েত সমিতির বোর্ড গঠন ঘিরে বিজেপি ও এনসিপিআইয়ের সংঘর্ষে তুলকালাম

দলবদলকে কেন্দ্র করে বোর্ড গঠনের দিনেই রণক্ষেত্রের রূপ নিল পঞ্চায়েত অফিস

Truth of Bengal: রাজ্য রাজনীতিতে দলবদলের খেলা আর গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নতুন কিছু নয়, তবে মঙ্গলবার উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরে যা ঘটে গেল, তা এককথায় নজিরবিহীন! পঞ্চায়েত সমিতির বোর্ড গঠনকে কেন্দ্র করে আক্ষরিক অর্থেই রণক্ষেত্রের চেহারা নিল ইসলামপুর। ভোটদান প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিজেপি এবং সদ্য তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই (NCPI)-এ যোগ দেওয়া গোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র বচসা ও সংঘর্ষ বেধে যায়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, উন্মত্ত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে শেষপর্যন্ত পুলিশকে ব্যাপক লাঠিচার্জ করতে হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই পঞ্চায়েত সমিতির মোট ৩৮ জন সদস্যই একসময় শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের জেরে এই সমিতিতেও অচলাবস্থা তৈরি হয়। জানা গেছে, সম্প্রতি ২০ জন সদস্য গোর্খা জনমুক্তি মোর্চায় যোগ দেন। অন্যদিকে, বাকি ১৮ জন সদস্য আগেই এনসিপিআই-এ নাম লিখিয়েছিলেন। আর এই দলবদল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই সোমবার রাত থেকেই চাপা উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল গোটা এলাকায়।

মঙ্গলবার ছিল বহুচর্চিত বোর্ড গঠনের দিন। অভিযোগ, সেই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে বিজেপি নেতা চিত্রজিৎ রায় ও সঞ্জীব ভাওয়ালের নেতৃত্বে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সদস্যরা পঞ্চায়েত সমিতির কার্যালয়ে ঢোকার চেষ্টা করেন। ঠিক সেই সময়ই এনসিপিআই নেতা শ্যামল দাসের অনুগামীরা পথ আটকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়ায়। মুহূর্তের মধ্যে লাঠি, বাঁশ ও ইটপাটকেল নিয়ে দুপক্ষই একে অপরের ওপর চড়াও হয়। রণক্ষেত্রের রূপ নেয় গোটা ব্লক কার্যালয় চত্বর।

খবর পেয়ে মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশবাহিনী ও র‍্যাফ (RAF)। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়। এই ঘটনায় ইসলামপুর বিধানসভা কেন্দ্রের পরাজিত বিজেপি প্রার্থী চিত্রজিৎ রায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “সদস্যদের বোর্ড গঠনে পরিকল্পিতভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে।”

যদিও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ওঠা সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন ইসলামপুর পুলিশ জেলার সুপার রাকেশ সিং। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং উত্তেজিত জনতাকে হটাতে পুলিশ সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক ও যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।” বোর্ড গঠন ঘিরে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের জেরে ইসলামপুরজুড়ে এখন তীব্র আতঙ্ক ও রাজনৈতিক চাপানউতোর বজায় রয়েছে।

Related Articles