আন্তর্জাতিক

পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভে উত্তাল বাংলাদেশ! জরুরি বৈঠকে তারেক রহমান

শ্রমিকদের বিক্ষোভের জেরে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের ১৭৭টি পোশাক কারখানায় এক দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়।

Truth of Bengal: বাংলাদেশে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ ঘিরে অশান্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে তৎপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার। রবিবার ঢাকার মিরপুর ও গাজীপুরে শ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। কোথাও রাস্তা অবরোধ, কোথাও পুলিশের গাড়িতে আগুন ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশি ধরপাকড়ের পাশাপাশি নামানো হয় আধাসেনা বাহিনীও।

শ্রমিকদের বিক্ষোভের জেরে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের ১৭৭টি পোশাক কারখানায় এক দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়। পরিস্থিতির কারণে বিদেশ সফর বাতিল করেন বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। রবিবার সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও শ্রমমন্ত্রী-সহ একাধিক মন্ত্রককে নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

পোশাক শ্রমিকদের দাবি, ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করতে হবে। এই দাবিতে গত কয়েক দিন ধরেই আন্দোলন চলছে। রবিবারও সকাল থেকে মিরপুর ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। কোথাও রাস্তার উপর আগুন জ্বালানো হয়, কোথাও পুলিশের গাড়ি ও পিকআপ ভ্যানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। মিরপুরের ঘটনায় ২৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ। গাজীপুরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে উস্কানির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন আরও ৯ জন।

অন্যদিকে, শ্রমিকদের দাবি খতিয়ে দেখতে ছ’সদস্যের একটি মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা করেছে বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রক। শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বানও জানানো হয়েছে। তবে সরকারের আশ্বাসের পরেও আন্দোলন পুরোপুরি থামেনি। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ৩টে পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় পথ অবরোধ চলে। এর জেরে ঢাকা-টাঙ্গাইল সংযোগকারী সড়কে প্রায় ছ’ঘণ্টা যান চলাচল ব্যাহত হয়।

বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম বড় স্তম্ভ পোশাকশিল্প। প্রায় ৪ হাজার নথিভুক্ত কারখানায় ৪০ লক্ষেরও বেশি শ্রমিক কাজ করেন। চিনের পর পোশাক রফতানিতে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে পোশাক রফতানি থেকে দেশটির আয় হয়েছে ৩৮৭০ কোটি ডলার। বিশ্বের প্রায় ১৫০টি দেশে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানি হয়।