কলকাতা

দুর্গাপুজোর পাস দুর্নীতি মামলায় ইন্দ্রনীল সেনের কন্যাকে তলব, লালবাজারে হাজিরার নির্দেশ

ইন্দ্রনীল ও তাঁর স্ত্রীর পাশাপাশি তাঁদের কন্যারও যোগ থাকতে পারে

Truth of Bengal: দুর্গাপুজোর পাস বিক্রিকে কেন্দ্র করে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তের জাল আরও বিস্তৃত করল কলকাতা পুলিশ। এবার রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের কন্যাকে তলব করা হয়েছে। সোমবার তাঁকে লালবাজারে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, পুজোর পাস বিক্রির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা তোলার অভিযোগে ইন্দ্রনীল ও তাঁর স্ত্রীর পাশাপাশি তাঁদের কন্যারও যোগ থাকতে পারে। তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে হওয়া আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। দুর্নীতির অভিযোগে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন ইন্দ্রনীল সেন। বর্তমানে তিনি পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। একই মামলায় এফআইআরে নাম রয়েছে তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনেরও। তবে কলকাতা হাই কোর্ট থেকে আগাম জামিন পেয়েছেন মধুছন্দা। ইন্দ্রনীলের আগাম জামিনের আবেদন আদালত খারিজ করে দেওয়ার পর তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্গাপুজোর পাস বিক্রির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা তোলার অভিযোগে ইন্দ্রনীল ও তাঁর স্ত্রীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ইতিমধ্যেই তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে। এবার তাঁদের কন্যার অ্যাকাউন্টেও আর্থিক লেনদেনের সূত্র মিলেছে বলে সন্দেহ। সেই লেনদেনের উৎস কী, কোথা থেকে টাকা এসেছে এবং কী উদ্দেশ্যে তা ব্যবহার করা হয়েছে, তা জানতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে পুলিশ। অভিযোগ, ‘মাস আর্ট’ নামে একটি সংস্থার মাধ্যমে দুর্গাপুজোর পাস বিক্রি এবং প্রিভিউ শো আয়োজন করে টাকা তুলতেন ইন্দ্রনীল ও তাঁর স্ত্রী। ওই সংস্থার পদাধিকারী ছিলেন মধুছন্দা সেন। ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ার পর সংস্থাটি তৈরি হয়েছিল বলে জানা যাচ্ছে।

অভিযোগ উঠেছে, প্রচারের ক্ষেত্রে বেআইনিভাবে ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করা হত। পুজোর পাস বিক্রির সময় দাবি করা হত, এই উদ্যোগে ইউনেস্কোর সরাসরি অনুমোদন রয়েছে। যদিও বাস্তবে ইউনেস্কোর সঙ্গে এমন কোনও বাণিজ্যিক চুক্তি ছিল না বলে অভিযোগ। ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে বৌবাজার থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন জয়দীপ মুখোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তি। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই দায়ের হয় এফআইআর। এই মামলায় আর্থিক লেনদেনের দিকটি খতিয়ে দেখছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডিও। একাধিকবার ইন্দ্রনীলকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

গত ২৮ অক্টোবর সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির দফতরে হাজিরা দিয়ে বেরনোর পরেই ইন্দ্রনীলকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশ। তার আগে কসবার বাড়ি, সিঙ্গুরের বাগানবাড়ি-সহ একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালানো হয়েছিল। কলকাতা হাই কোর্ট আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেওয়ার পর সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ইন্দ্রনীল। তবে সেখানে শুনানির আগেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। পরে শীর্ষ আদালত থেকে আবেদন প্রত্যাহার করে নেন চন্দননগরের প্রাক্তন বিধায়ক। আদালত তাঁকে তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছে।

Related Articles