পুজোয় পাতালপথে জনসুনামি! সর্বকালীন রেকর্ড ভেঙে ৭৩ লক্ষেরও বেশি যাত্রী টানল কলকাতা মেট্রো
ষষ্ঠীর রাতে ১২ লক্ষ পার! মেট্রো স্টেশনে উপচে পড়া ভিড় দেখে মাথা ঘুরে যাবে!
Truth of Bengal: কখনও অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে দরজা বন্ধ হতে না চাওয়া, আবার কখনও মেট্রো থেকে নামতে গিয়ে যাত্রীর মুখ থুবড়ে পড়ার মতো উপচে পড়া ভিড়, সমস্ত রেকর্ড ধূলিসাৎ করে দিয়ে এবারের শারদোৎসবে শহর থেকে শহরতলিতে ঠাকুর দেখার প্রধান ভরসা হয়ে উঠল কলকাতার লাইফলাইন। মাঝে অষ্টমীর দিন সামান্য কিছুক্ষণের বিপত্তি বাদ দিলে, পুজোর ক’দিন বিপুল যাত্রীচাপ সুনিপুণভাবে সামাল দিয়ে এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করল কলকাতা মেট্রো। চতুর্থী থেকে দশমী পর্যন্ত এই ক’দিনের যাত্রিসংখ্যা অতীতের সমস্ত পরিসংখ্যানকে পেছনে ফেলে দিয়েছে।
মেট্রো সূত্রে প্রাপ্ত হিসেব অনুযায়ী, চতুর্থী থেকে দশমী (যার মধ্যে দুটি সপ্তমী অন্তর্নিহিত) এই ক’দিনে পাতালপথে মোট যাত্রী পারাপার করেছে ৭৩ লক্ষের বেশি। এর মধ্যে সবথেকে বেশি ঐতিহাসিক ভিড় রেকর্ড করা হয়েছে ষষ্ঠীর দিনে, যেদিন মেট্রোয় চড়েছিলেন ১২ লক্ষেরও বেশি মানুষ। দিনভর ব্লু লাইনের প্রতিটি চত্বরে কেবল মানুষের মাথা আর মাথা দেখা গেছে, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে নজরে আসেনি। গত বছর যেখানে পঞ্চমী থেকে দশমী পর্যন্ত মাত্র ছ’দিনে মেট্রোয় চড়েছিলেন ৪৬.৫৬ লক্ষ যাত্রী, সেখানে এবার চতুর্থী থেকে দশমী পর্যন্ত সেই সংখ্যা লাফিয়ে পৌঁছেছে ৭৩ লক্ষে। সবথেকে কম যাত্রী হয়েছে দশমীর দিনে, যা ছিল ৩.৪১ লক্ষ।
এবারের পুজোয় দুটি সপ্তমী, অষ্টমী এবং নবমী, এই চার দিনই সারারাত মেট্রো পরিষেবা চালু রাখা হয়েছিল। ফলে রাতভর প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঠাকুর দেখতে ভিড় জমিয়েছেন সাধারণ মানুষ। কালীঘাট, এসপ্ল্যানেড, টালিগঞ্জ, শোভাবাজার, শ্যামবাজার, এমজি রোড কিংবা গিরিশ পার্ক, প্রতিটি স্টেশনেই ট্রেন থামলেই যাত্রীদের হুমড়ি খেয়ে পড়ার দৃশ্য চোখে পড়েছে। মেট্রোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চতুর্থীতে ১১.৬০ লক্ষ, পঞ্চমীতে ১১.৭৫ লক্ষ, ষষ্ঠীতে ১২.০১ লক্ষ, প্রথম সপ্তমীতে ৯.৭৮ লক্ষ, দ্বিতীয় সপ্তমীতে ৮.১৩ লক্ষ, অষ্টমীতে ৮.৪২ লক্ষ, নবমীতে ৮ লক্ষ এবং দশমীতে ৩.৪১ লক্ষ যাত্রী যাতায়াত করেছেন। দুপুর গড়িয়ে বিকেল নামতেই শহরের এই লাইফলাইনে যেন এক প্রকার জনসুনামি আছড়ে পড়েছিল। যদিও চোরবাগানের অনভিপ্রেত দুর্ঘটনার পর মেট্রোর পরিসংখ্যানে দর্শনার্থীর সংখ্যা সামান্য হলেও কিছুটা কমেছিল বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
যাত্রিসংখ্যা এই অভাবনীয় বৃদ্ধির পেছনে বড় ভূমিকা পালন করেছে গ্রিন লাইনও। দশমীর দিনটি বাদ দিলে এই লাইনে প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে সাড়ে তিন লক্ষ যাত্রী যাতায়াত করেছেন। স্টেশনভিত্তিক পরিসংখ্যান বলছে, পঞ্চমীতে দমদম স্টেশনে সর্বাধিক ৪.৯৭ লক্ষ যাত্রী হয়েছে, দ্বিতীয় স্থানে থাকা কালীঘাটে ৪.৮৩ লক্ষ এবং শিয়ালদহ স্টেশনে ৪.১৯ লক্ষ যাত্রী চড়েছেন। পুজোর ক’দিন মেট্রোর এমন দুর্দান্ত ও নিরবচ্ছিন্ন পরিষেবা পেয়ে বেজায় খুশি আমজনতাও।






