সন্ধি পুজো শেষে ‘মা-মা’ করে কেঁদে ভাসালেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
হাতছাড়া রাজনৈতিক জমি, তবুও চোখের জল থামল না! শ্রীরামপুরের আবাসনে বসেই কেন কেঁদে ভাসালেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়?
রাকেশ চক্রবর্তী, হুগলি: রাজনৈতিক সমীকরণ যতই বদলাক না কেন, দুর্গোৎসবের অষ্টম ও নবমীর সন্ধিক্ষণে মায়ের চরণে ভক্তি নিবেদন করার সময় চোখের জল ধরে রাখতে পারলেন না তৃণমূলের প্রবীণ ও হেভিওয়েট সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘ বছর ধরে শ্রীরামপুর স্টেশন সংলগ্ন আরএমএস মাঠে ৫ ও ৬ নম্বর পল্লী গোষ্ঠী ও ব্যবসায়ী সমিতির জমকালো দুর্গাপুজোর প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। ঘটা করে সেই পুজো করা এবং সন্ধিপুজোর ঠিক অন্তিম লগ্নে মায়ের মূর্তির সামনে দাঁড়িয়ে ‘মা মা’ বলে অঝোরে কেঁদে ভাসানোই ছিল তাঁর চিরাচরিত অভ্যাস। কিন্তু সময়ের পালাবদলে সেই রাজনৈতিক ও সামাজিক সমীকরণ আজ সম্পূর্ণ উল্টে গেছে।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শ্রীরামপুরের সেই ঐতিহাসিক আরএমএস মাঠের পুজো এখন প্রতিপক্ষ বিজেপির বা কন্ট্রোলে চলে গেছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে এবছর ঐতিহ্যবাহী ওই পুজো মণ্ডপে আর কোনও ঠাঁই মেলেনি সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তবে প্যান্ডেল বা মাঠ হাতছাড়া হলেও মায়ের প্রতি তাঁর আবেগ এবং চোখের জল আটকায়নি। শ্রীরামপুরেই তাঁর নিজ আবাসস্থল ‘গঙ্গা দর্শন’ অ্যাপার্টমেন্টের নিজস্ব পুজোতেই এবার দেখা গেল সেই পরিচিত দৃশ্য। সন্ধিপুজোর পবিত্র লগ্নে আরএমএস মাঠের জৌলুস না থাকলেও, ঘরের কাছের সেই আবাসন প্রাঙ্গণেই মায়ের সামনে দাঁড়িয়ে হাউহাউ করে কেঁদে ভাসাতে দেখা যায় তাঁকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতি বছর শ্রীরামপুরের ওই বিশাল পুজোকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের ভিড় ও উন্মাদনা থাকত তুঙ্গে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি এবং তাঁর ভক্তিভরা কান্নার দৃশ্য দেখতে ভিড় জমান ভক্ত ও অনুগামীরাও। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের জেরে চলতি বছরে সেই অতি পরিচিত এবং জমকালো মঞ্চে তাঁকে আর দেখা যায়নি। পরিবর্তে নিজের আবাসনের ছোট পরিসরেই অত্যন্ত ভক্তিসহকারে পুজোয় অংশ নেন তিনি। শত রাজনৈতিক প্রতিকূলতা ও পালাবদলের ধাক্কা সত্ত্বেও মায়ের আরাধনায় তাঁর এই অকৃত্রিম আবেগ ও কান্নার দৃশ্য মুহূর্তের মধ্যে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।





