কলকাতা

১৫ মিনিটের বিভীষিকা! চোরবাগানের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার টাইমলাইন জানলে শিউরে উঠবেন

উৎসবে বিষাদ! সপ্তমী সন্ধ্যার কোন ১৫ মিনিটের ভুলে চোরবাগানে ঝরে গেল ১৯টি তাজা প্রাণ?

Truth of Bengal: বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবের আনন্দ মুহূর্তের মধ্যে মহাশোকের অন্ধকারে ঢেকে গেল। উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব মণ্ডপে মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ১৯ জন দর্শনার্থীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রবল বৃষ্টির মধ্যে মণ্ডপে অতিরিক্ত ভিড় জমে যাওয়ায় এবং হুড়োহুড়ির জেরে পদপিষ্ট হয়ে ৩৫ জনেরও বেশি মানুষ গুরুতর আহত হন। চিকিৎসকদের মতে, অধিকাংশেরই মৃত্যু হয়েছে অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে দমবন্ধ হয়ে। প্রশাসনের তরফে এখনও চূড়ান্ত সরকারি বিবৃতি না মিললেও, ঘটনার চাঞ্চল্যকর টাইমলাইন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে উঠে এসেছে এক ভয়ংকর চিত্র।

ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল বিকেল থেকেই। ভ্লগার ও সংবাদমাধ্যমের দৌলতে চোরবাগানের থিমের সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ায় সেদিন বিকেল থেকেই উপচে পড়া ভিড় জমতে শুরু করে। সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টা নাগাদ দর্শনার্থীদের লাইন সেন্ট্রাল এভিনিউ ছাড়িয়ে মহাত্মা গান্ধী রোড মেট্রো স্টেশন পর্যন্ত দীর্ঘ হয়ে যায়। এরপর ঠিক সন্ধ্যা সাতটায় নামে প্রবল বৃষ্টি। আর সেই বৃষ্টি থেকে বাঁচতেই বাইরে থাকা শত শত মানুষ একযোগে মণ্ডপের ভেতরে ঢোকার জন্য চরম হুড়োহুড়ি শুরু করে দেন।

মাত্র পনেরো মিনিটের মধ্যে, অর্থাৎ সন্ধ্যা সাতটা পনেরো মিনিটে অতিরিক্ত চাপে মণ্ডপের একটি অংশ ভেঙে পড়ে। উঁচু কাঠামোর ওপর তৈরি সেই মণ্ডপ থেকে নিচে নামার সময় তৈরি হয় চরম বিশৃঙ্খলা। ঠিক সাতটা কুড়িতে এলিভেটেড করিডর থেকে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় শুরু হয় পদপিষ্টের ঘটনা। এরপর রাত সাতটা চল্লিশ মিনিটে একের পর এক নিথর দেহ পৌঁছাতে শুরু করে মেডিক্যাল কলেজে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে রাতেই হাসপাতালে ছুটে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, ডিজিপি ও পুলিশ কমিশনার।

এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের নেপথ্যে একাধিক গাফিলতির অভিযোগ তুলেছে সাধারণ মানুষ। মণ্ডপের অবস্থান অত্যন্ত সরু গলিতে হওয়ায় এবং পর্যাপ্ত ফাঁকা জায়গা না থাকায় প্রথম থেকেই ভিড় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন ছিল। এছাড়া ভিআইপি লাইন ম্যানেজমেন্টে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া এবং বৃষ্টির মধ্যে বিভ্রান্তিকর মাইক প্রচার পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, এত বড় জমায়েতের অনুপাতে পর্যাপ্ত পুলিশ বা অভিজ্ঞ স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন ছিল না। ঘটনার পর অ্যাম্বুলেন্সের ঘাটতিও চোখে পড়ে। সবমিলিয়ে উৎসবের আনন্দ যে এমন এক রক্তাক্ত অধ্যায়ে শেষ হবে, তা কেউ ভাবতেও পারেননি।

Related Articles