দেশ

যুদ্ধের বাজারে মুদ্রাস্ফীতির ধাক্কা! ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদের হার বাড়াল আরবিআই

রেপো রেট বেড়ে দাঁড়াল ৫.৫০ শতাংশ

Truth of Bengal: পকেটে চাপ বাড়তে চলেছে সাধারণ ঋণগ্রহীতাদের। বিশ্বজুড়ে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা এবং যুদ্ধজনিত অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে প্রায় চার বছর পর রেপো রেট বাড়াল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া। তিন দিনের মনিটরি পলিসি কমিটির বৈঠক শেষে ২৫ বেসিস পয়েন্ট রেপো রেট বৃদ্ধির ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে রেপো রেট বেড়ে দাঁড়াল ৫.৫০ শতাংশ। ৭ অক্টোবর থেকেই নতুন হার কার্যকর হচ্ছে। বুধবার রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা জানান, মনিটরি পলিসি কমিটির সদস্যরা সর্বসম্মতভাবেই রেপো রেট বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, আন্তর্জাতিক বাজারে মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি বাড়ছে। ব্যবসা-বাণিজ্যেও অনিশ্চয়তা রয়েছে। পাশাপাশি ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। সেই পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সুদের হার বাড়ানোর পথে হাঁটল কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।

রেপো রেট হল সেই সুদের হার, যে হারে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কাছ থেকে বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলি স্বল্পমেয়াদি ঋণ নেয়। এই হার বাড়লে ব্যাঙ্কগুলির অর্থ সংগ্রহের খরচও বাড়ে। তার প্রভাব পড়তে পারে ফ্লোটিং রেটে নেওয়া হোম লোন, গাড়ির ঋণ এবং ব্যক্তিগত ঋণের সুদে। ফলে আগামী দিনে অনেক ঋণগ্রহীতার মাসিক কিস্তি বা EMI বাড়তে পারে। উদাহরণ হিসেবে, ২০ বছরের মেয়াদে ৫০ লক্ষ টাকার হোম লোন থাকলে ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদ বৃদ্ধির ফলে মাসিক কিস্তি প্রায় ৭৮০ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে বিভিন্ন হিসাব উঠে এসেছে। ঋণের মেয়াদ অপরিবর্তিত থাকলে পুরো সময়ে সুদ বাবদ অতিরিক্ত প্রায় ১.৮৮ লক্ষ টাকা গুনতে হতে পারে। যদিও প্রকৃত বৃদ্ধি নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের সুদের হার, ঋণের শর্ত এবং রিসেট পিরিয়ডের উপর।

এর আগে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেষবার রেপো রেট বাড়িয়েছিল RBI। তারপর দীর্ঘ সময় তা অপরিবর্তিত ছিল। এবার বিশ্ব অর্থনীতির পরিবর্তিত পরিস্থিতি ও মূল্যবৃদ্ধির চাপ সামলাতে ফের কড়া আর্থিক নীতির পথে হাঁটল শীর্ষ ব্যাঙ্ক। তবে রেপো রেট বৃদ্ধি শুধু ঋণগ্রহীতাদের জন্যই খারাপ খবর নয়। ব্যাঙ্কগুলির আমানতের সুদের হারও ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। ফলে ফিক্সড ডিপোজিট বা অন্যান্য মেয়াদি আমানতে তুলনামূলক বেশি রিটার্ন পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিক ও আমানতনির্ভর গ্রাহকদের জন্য তা কিছুটা স্বস্তির কারণ হতে পারে।