দুর্গাপুজোর পাস দুর্নীতিতে ইডি-র বড় পদক্ষেপ! ফের সিজিও কমপ্লেক্সে ইন্দ্রনীল সেন
সূত্রের খবর, এবার ইন্দ্রনীলকে গত ১০ বছরের ব্যাঙ্ক লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য সঙ্গে নিয়ে আসতে বলা হয়েছিল
Truth of Bengal: দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’ পাস বিক্রি ঘিরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে দ্বিতীয়বার ইডির জিজ্ঞাসাবাদের মুখে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। গত ৩০ সেপ্টেম্বরের পর ফের ৭ অক্টোবর সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হন তিনি। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ ব্যাঙ্ক লেনদেন সংক্রান্ত একাধিক নথি নিয়ে ইডি দফতরে পৌঁছন প্রাক্তন মন্ত্রী। সূত্রের খবর, এবার ইন্দ্রনীলকে গত ১০ বছরের ব্যাঙ্ক লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য সঙ্গে নিয়ে আসতে বলা হয়েছিল। সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়েই তিনি হাজির হয়েছেন। যদিও ইডি দফতরে ঢোকার সময় সাংবাদিকরা একাধিক প্রশ্ন করলেও কোনও মন্তব্য করেননি ইন্দ্রনীল।
এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর তাঁকে প্রায় ৯ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। অভিযোগ, ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’-র পাস বিক্রির মাধ্যমে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল। গোটা ঘটনায় প্রায় ১৪০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে ইডি। তদন্তের সূত্রে এর আগে ইন্দ্রনীল সেনের বাড়ি, অফিস এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের একাধিক ঠিকানা মিলিয়ে প্রায় ১৫টি জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়েছিল। সেখান থেকে বেশ কিছু কাগজপত্র এবং বৈদ্যুতিন নথি উদ্ধার হয়েছে বলে তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে দাবি। ইডির অভিযোগ, ২০২২ সাল থেকে প্রায় তিন বছর ধরে দুর্গাপুজোর পাস বিক্রির নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ তোলা হয়েছিল। পাশাপাশি সরকারি টেন্ডারের নিয়ম ভেঙে প্রায় ৮৫ কোটি টাকার কাজ ইন্দ্রনীলের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের সংস্থাকে পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারীদের আরও দাবি, ইন্দ্রনীল সেনের মালিকানাধীন ‘অক্টেভ রেকর্ডস’-এর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩.৮ কোটি টাকারও বেশি নগদ জমা পড়েছিল। ওই অ্যাকাউন্ট থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা পাঠানো হয়েছিল বলেও দাবি করেছে ইডি। প্রথম দফার জিজ্ঞাসাবাদে বিভিন্ন নথি সামনে রেখে ইন্দ্রনীলকে একাধিক প্রশ্ন করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের দাবি, তাঁর দেওয়া কিছু উত্তরের সঙ্গে উদ্ধার হওয়া নথির তথ্যের অসঙ্গতি রয়েছে। সেই কারণেই তাঁকে ফের তলব করা হয়েছে। বুধবার দ্বিতীয় দফার জিজ্ঞাসাবাদে ব্যাঙ্ক লেনদেনের হিসাব, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির সঙ্গে আর্থিক সম্পর্ক, পুজোর পাস বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থের গতিপথ এবং সরকারি টেন্ডারের বিভিন্ন দিক নিয়েই তাঁকে প্রশ্ন করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।






