উপনির্বাচনের সকালে চরম অশান্তি নন্দীগ্রামে, গড়চক্রবেড়িয়ায় ভোটারদের মারধরের অভিযোগ কংগ্রেসের
ভোটের সকালে নন্দীগ্রামে বাইক বাহিনীর তাণ্ডব! বুথে পৌঁছাতেই কংগ্রেস প্রার্থীকে ঘিরে তীব্র বিক্ষোভ
Truth of Bengal: মঙ্গলবার উপনির্বাচনের সকাল শুরু হতেই ব্যাপক হিংসা, বোমাবাজি ও চরম বিশৃঙ্খলার সাক্ষী থাকল রাজ্যের দুই হাইভোল্টেজ কেন্দ্র নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর। সকাল সকালই রেজিনগরে বুথ ঘুরে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন আজুপ (AJUP) প্রধান হুমায়ুন কবীর। অন্যদিকে, নন্দীগ্রামের গড়চক্রবেড়িয়া এলাকায় সাধারণ ভোটারদের ওপর হামলা ও মারধরের অভিযোগ ওঠায় পরিস্থিতি এক লহমায় মারাত্মক উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নন্দীগ্রামের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বুথে সাধারণ মানুষকে ভোট দিতে বাধা দিচ্ছে এলাকার বাইরে থেকে আসা বাইক বাহিনী ও বহিরাগত দুষ্কৃতীরা। খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। সেখানে তাঁকে ঘিরে ধরে স্থানীয় মানুষজন ও ভোটাররা নিজেদের ক্ষোভ উগরে দেন। পোলিং এজেন্টদের বুথে বসতে না দেওয়া এবং রাতে এলাকা জুড়ে বাইক বাহিনীর তাণ্ডব চালানোর বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন কংগ্রেস প্রার্থী।
মিলন প্রধান বুথে বুথে পৌঁছাতেই বিজেপি সমর্থকরা তাঁকে ঘিরে ধরে তীব্র বিক্ষোভ দেখায়। কংগ্রেসের দাবি, কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (CAPF) দিয়ে এলাকা সিল করার কথা থাকলেও অবাধে বহিরাগতরা ঢুকে রিগিং ও সন্ত্রাস চালাচ্ছে। এই মর্মে ইতিমধ্যেই রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO)-এর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে কংগ্রেস।
তবে নন্দীগ্রামজুড়ে অশান্তির চরম পরিবেশ থাকলেও অন্য ছবি ধরা পড়ল বিজেপি প্রার্থীর সৌজন্যে। সকালেই বিভিন্ন বুথে ঘুরে সরজমিনে ভোটদান প্রক্রিয়া পরিদর্শন করেন নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ। বিরোধীদের সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে তিনি দাবি করেন, মানুষ অত্যন্ত উৎসবের আমেজে এবং সানন্দে ভোট দিচ্ছেন।
ভোট পরিদর্শনের মাঝেই রেয়াপাড়া কালীবাড়িতে গিয়ে পুজো দেন হাসিরানি রথ। তাঁর দাবি, “নন্দীগ্রামের মানুষ উন্নয়ন ও শান্তির পক্ষে রায় দিচ্ছেন।” তবে গড়চক্রবেড়িয়া ও সংলগ্ন এলাকায় ক্রমাগত উত্তেজনা ও সংঘাতের খবর মেলায় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী নামিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।






